জলবায়ু অভিবাসীদের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তির আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাস্তুচ্যুত হয়ে যারা শহরে আশ্রয় নিচ্ছেন, তাদের সমস্যাকে কেবল মানবিক বা আপদকালীন সংকট হিসেবে না দেখে রাষ্ট্রীয় জননীতির (পাবলিক পলিসি) অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, এই অভিবাসন প্রক্রিয়াকে দেশের চলমান সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (আরএমএমআরইউ) আয়োজিত এক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশনের (এসডিসি) সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশে জলবায়ু-সংক্রান্ত অভিবাসীদের অভিযোজনগত প্রতিবন্ধকতা এবং স্থানীয়ভাবে নেতৃত্বাধীন সমাধান’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে শহরে পাড়ি জমাচ্ছে। এটি কোনো সাময়িক সমস্যা নয়, বরং একটি স্থায়ী ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ। তাই এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের অধিকার নিশ্চিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন। তিনি বলেন, "আমরা যদি জলবায়ু অভিবাসীদের উন্নয়ন মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে না পারি, তবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্ত হবে।"
অতীতের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশে অতীতে কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগই নয়, রাজনৈতিক দুর্যোগও অভিবাসনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরের সমস্যাকে গভীরভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি নির্বাচিত সরকার গঠন করেছি। ফলে জনমানুষের প্রতিটি সমস্যা সমাধানে আমাদের সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।"
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ অভিবাসন মোকাবিলায় স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত সমাধানগুলো অত্যন্ত কার্যকর। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বকে কাজে লাগিয়ে অভিযোজন প্রক্রিয়া সাজাতে হবে। এক্ষেত্রে গবেষণা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মশালায় বক্তারা জলবায়ু অভিবাসীদের জন্য আবাসন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তার ওপর জোর দেন। তারা বলেন, উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকা থেকে আসা মানুষগুলো শহরে এসে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করে। তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্ত করতে পারলে তারা বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হবে।
আরএমএমআরইউ-এর এই কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ, গবেষক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ বিমা ও ঋণের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেন।
পরিশেষে তথ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে সরকার জলবায়ু অভিবাসীদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।























