গণমাধ্যমের আয়না নিখুঁত না হলে রাষ্ট্র ও সমাজে ভুল প্রতিবিম্ব তৈরি হয়: তথ্যমন্ত্রী

মুহাম্মদ ইসমাইল হাসান

০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫০ এএম


গণমাধ্যমের আয়না নিখুঁত না হলে রাষ্ট্র ও সমাজে ভুল প্রতিবিম্ব তৈরি হয়: তথ্যমন্ত্রী


থ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গণমাধ্যমকে রাষ্ট্র ও সমাজের ‘আয়না’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই আয়না নিখুঁত না হলে সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছায়। সংবাদমাধ্যম যত বেশি নির্ভুল ও দায়িত্বশীল হবে, নাগরিকেরা রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে তত স্পষ্ট ধারণা পাবে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে ল রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) রজতজয়ন্তী ও বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ল রিপোর্টারদের ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, যেকোনো শক্তিশালী সরকারপ্রধানকে যখন আদালতের মুখোমুখি হতে হয়, তখন সেই সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি বস্তুনিষ্ঠভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা সাংবাদিকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল যুগে পদার্পণের ফলে তথ্যের অবাধ প্রবাহ বাড়লেও নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্বনেতাদের আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর নেতিবাচক প্রভাব একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দৃশ্য বিকৃত করা, অবয়ব পরিবর্তন বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি সাংবাদিকদের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখানোর প্রচেষ্টা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন তথ্যমন্ত্রী। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও হত্যাকারীদের পক্ষে একধরনের সাংবাদিকতা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো চিন্তার পক্ষে বয়ান তৈরি করার স্বাধীনতা সবার আছে। তবে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরা আর নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে বয়ান তৈরি করা—দুটি ভিন্ন বিষয়। সরকার সবকিছু বস্তুনিষ্ঠতার মানদণ্ডে এবং আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলোকে আইনের নিজস্ব গতিতে বিচার করবে।

অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল মন্তব্য করেন যে, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ছড়ানো ‘ফেক নিউজ’ বা ভুয়া খবর মোকাবিলায় বর্তমান প্রচলিত আইনগুলো পর্যাপ্ত নয়। সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি তিনি ডিজিটাল সাক্ষ্যকে বিচারব্যবস্থায় বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ করার জন্য একটি সর্বজনীন আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আদালতে সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান। আদালতের লাইভ সম্প্রচার চলা সত্ত্বেও সাংবাদিকদের এজলাসে ঢুকতে না দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের আদলে বাংলাদেশেও ‘লাইভ ল’ ব্যবস্থার অনুমোদন দেওয়ার জন্য তথ্যমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রতি অনুরোধ জানান।

ল রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) সভাপতি হাসান জাবেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশনের সঞ্চালনায় এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বাদল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মোহাম্মদ আলী।

Ads