যেখানেই অবহেলা ও দুর্নীতি সেখানেই চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
স্বাস্থ্য খাতে যেকোনো ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও কর্তব্যে অবহেলার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্নীতি বা অবহেলার প্রমাণ মিললে এখন থেকে আর সাধারণ বদলি বা শাস্তিমূলক বদলি নয়, সরাসরি চাকরিচ্যুতির কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (০৪ জুলাই) দুপুরে নরসিংদীর শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে ট্রান্সফার বা বদলির রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। বদলি কোনো প্রকৃত শাস্তি হতে পারে না। দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে, তাদের সিস্টেমে থাকার কোনো অধিকার নেই। সবাইকে সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। বর্তমান সরকার এই অপসংস্কৃতিকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেবে না।”
দেশের স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে খুব দ্রুতই ৫০ শয্যার অত্যাধুনিক ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। এর ফলে প্রান্তিক ও মধ্যবিত্ত কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় অনেকাংশে কমে আসবে এবং তাদের আর রাজধানীমুখী হতে হবে না।
তৃণমূল পর্যায়ের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে সংস্কারের মাধ্যমে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। সেখানে নতুন ডাক্তার ও দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টার বা পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোর মান উন্নত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “স্বাস্থ্যখাতে এই বছরেই আমরা একটা বড় বিপ্লবের সূচনা করতে চাচ্ছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা নতুন নতুন কর্মসূচি হাতে নিচ্ছি, যার মূল লক্ষ্য জনগণের উন্নয়ন সাধন এবং বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানো।”
চলতি বছরের বাজেট প্রসঙ্গে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমাদের এবারের বাজেট কেবল কোনো কাগুজে বা টাকার বাজেট নয়; এটি একটি আদর্শের বাজেট। আর এই আদর্শের প্রতিটি স্তরকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত উপায়ে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।”
নরসিংদীবাসীর জন্য বড় সুখবর দিয়ে মন্ত্রী ঘোষণা করেন, চলতি বছর থেকেই ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বহুল প্রতিক্ষিত নরসিংদী মেডিকেল কলেজের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে নরসিংদী নার্সিং ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হবে। আর নার্সিং ইনস্টিটিউটের নিয়মিত ক্লাসগুলো সাময়িকভাবে স্থানান্তরিত হবে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের নতুন ভবনে। তিনি জানান, মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ইতিমধ্যে উপযুক্ত জমি খোঁজা হচ্ছে এবং দ্রুতই জায়গা নির্ধারণ করে স্থায়ী ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এছাড়া বন্ধুপ্রতিম দেশ চীনের সহযোগিতায় বাংলাদেশে যে ১৮টি অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মিত হবে, তার একটি নরসিংদীতে স্থাপন করা হবে। হাসপাতালটি যেন শহরের কাছাকাছি কোনো সুবিধাজনক স্থানে হয়, সেই চেষ্টা চলছে।
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক এবং ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ইসরাত জাহান কেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বার্ষিক সাধারণ সভার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নরসিংদী সদর (নরসিংদী-১) আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল কবির খোকন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি নরসিংদীর স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে মন্ত্রীর এসব যুগান্তকারী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুর এলাহী, নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং নরসিংদী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন। বক্তারা নরসিংদীর স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে ডায়াবেটিক সমিতির ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং সরকারি উদ্যোগগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির বিপুল সংখ্যক আজীবন সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, চিকিৎসক, নার্স ও বিভিন্ন স্তরের আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সমিতির বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়।























