আওয়ামী লীগের দাফন হয়েছে দিল্লিতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

আহমেদ হোসাইন

০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম


আওয়ামী লীগের দাফন হয়েছে দিল্লিতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে এবং তাদের চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হয়েছে দিল্লিতে। তারা আর কোনোদিন বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করার নৈতিক অধিকার ফিরে পাবে না। শুধু তাই নয়, বিগত ১৬ বছরের দুঃশাসন এবং ছাত্র-জনতার ওপর চালানো নির্মম গণহত্যার দায়ে শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার সম্পন্ন করা হবে।

শনিবার (৪ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা ও স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার’ এবং ‘আমরা জুলাইযোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই আবেগঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা জুলাই আন্দোলনে আহত বীর যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন, যাদের অনেকের চোখে ছিল স্বজন হারানোর জল এবং মুখে ছিল ন্যায়বিচারের দাবি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। উপস্থিত বক্তারা সবাই জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধরে রেখে দেশ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে বিগত সরকারের নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, জুলাই-আগস্টে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা ও লাশ পুড়িয়ে প্রমাণ লোপাটের পরও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনে কোনো অনুশোচনা বা পস্তানি নেই। তিনি এখনো দিল্লিতে বসে আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনগণকে 'জঙ্গি' হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক মহলে দেশের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছেন। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারাও দেশের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য উসকানি দিচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেশের প্রতিটি নাগরিককে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এই বিপ্লবের মূল চেতনা বাস্তবায়ন এবং দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক খাতকে পুনর্গঠন করে আর্থিক সক্ষমতা অর্জনের জন্য বর্তমান সরকারকে কিছুটা সময় দেওয়ার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

আন্দোলনের নেপথ্য গল্প তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের দমন-পীড়নের কারণে আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তিনি নিজে বিদেশে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। তবে দূরদর্শী চিন্তা থেকে তারা যদি তখন নির্বাসনে না থাকতেন, তবে হয়তো এই আন্দোলন সফলতার মুখ দেখত না। কারণ, নির্বাসনে থেকেই তারা শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক আন্দোলনের নেপথ্যে সর্বাত্মক সহযোগিতা জুগিয়েছেন এবং দেশের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সব শ্রেণিপেশার মানুষকে এক সুতায় গেঁথেছেন।

নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে মন্ত্রী সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, জুলাইয়ের রক্তস্নাত চেতনা নিয়ে কোনো ধরনের ব্যবসা, কোন্দল বা রাজনৈতিক ফায়দা তোলার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। শহীদদের রক্ত নিয়ে কোনো রকম স্বার্থসিদ্ধি কাম্য নয়। কারণ, অতীতে আমরা দেখেছি যেকোনো চেতনার ব্যবসাই দেশের জন্য কখনো ভালো কিছু বয়ে আনেনি। তাই এই মহান চেতনাকে রাজনীতির কলুষতার ঊর্ধ্বে রেখে দেশের সামগ্রিক কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।

পরিশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের স্বপ্ন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং মুক্তচিন্তার চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের আগামী দিনে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এই চেতনার সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Ads