টানা বৃষ্টি ও ঢলে বন্যা পরিস্থিতি: তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম-পার্বত্য অঞ্চল

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম


টানা বৃষ্টি ও ঢলে বন্যা পরিস্থিতি: তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম-পার্বত্য অঞ্চল


টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণের পানিতে গতকাল বুধবারও চট্টগ্রাম ছিল দুর্ভোগের নগরী। বেশির ভাগ নিচু এলাকায় ঘরবাড়িতে এখন হাঁটুপানি। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানও। সেখানে নদীর পানি হু-হু করে বাড়ছে এবং রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লোকজন ছুটছে আশ্রয়কেন্দ্রে। এদিকে সাজেকে আটকা পড়েছেন ছয় শতাধিক পর্যটক।

পানি ঢুকে পড়ায় চট্টগ্রাম নগরীর বেশির ভাগ স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় ক্লাস কিংবা পরীক্ষা হয়নি। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত এইচএসসি পরীক্ষাও স্থগিত রাখা হয়। বিমান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে পণ্য ওঠানামা করলেও বহির্নোঙরে গতকালও ব্যাহত হয়েছে পণ্য খালাস কার্যক্রম।

টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য ওঠানামা কার্যক্রম গতকালও ব্যাহত হয়েছে। দুদিন ধরে কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় জাহাজজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বহির্নোঙরে আসা বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করা হয় লাইটার জাহাজে, যা নৌপথে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য নিয়ে যায়। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য ওঠানামা করার কাজ টানা দুই দিন ধরে বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে বন্দরের মূল জেটিতে কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে, যেখানে আগের দিন একই সময়ে ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। টানা তিন দিন ধরে এমন বৃষ্টির কারণে নগরের মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, মোহাম্মদপুর, চকবাজার, আগ্রাবাদ, হালিশহর, রামপুরা, বেপারীপাড়া, মুহুরীপাড়া, উত্তর কাট্টলী, দেওয়ান বাজার, কাপাসগোলা, প্রবর্তক, শান্তিবাগ, পাঠানটুলি, পুলিশ লাইন্স, এয়ারপোর্ট, চান্দগাঁও, মোহরা, কুয়াইশ, অক্সিজেনসহ বেশ কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোথাও হাঁটু, কোথাও আবার কোমরপানি জমে নিচু এলাকার বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিচতলা পানিতে তলিয়ে যায়। এসব এলাকার মোড়ে মোড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

নগরের হালিশহর এল ব্লক এলাকার বাসিন্দা এবং সন্দ্বীপ সাজেদা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী সানাউল্লাহ জানান, তাঁর নিচতলার ঘরের ভেতর হাঁটুপানি জমেছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে তিনি দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন। মঙ্গলবার দোকান খুলতে পারেননি, বাসায় জমা পানি বের করতেই দিন পার হয়ে গেছে। এর মধ্যে আবার বুধবারও পানি ঢুকেছে এবং তাঁদের এলাকার নিচতলায় থাকা কোনো বাড়িই রেহাই পায়নি।

বহদ্দারহাটের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রোডের বাসিন্দা মোজাহের সুজন বলেন, ঘরের সামনে পানি আর পানি। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও সড়ক থেকে পানি কমেনি। গত বছরও একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, এ থেকে কবে মুক্তি মিলবে তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে চকবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. রুবেল বলেন, টানা বৃষ্টি হলেই জমে যাচ্ছে পানি। তবে বৃষ্টি থেমে গেলে আবার পানি নামছে। আগে পানি আটকে থাকার সময়টা এখন কিছুটা কমেছে এবং বৃষ্টি না থাকলে পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে।

চট্টগ্রামে পানিতে তলিয়ে আছে রেললাইনও। বিশেষ করে নগরীর মুরাদপুর ও ষোলশহর এলাকায় গতকালও প্রায় দেড় ফুট থেকে দুই ফুট পানির নিচে ছিল রেললাইন। এ কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল করেনি। গত মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন পর্যটক এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার যাওয়ার পথে নগরীর ষোলশহর এলাকায় পানিতে আটকা পড়ে এবং রাত ১টার দিকে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয় রেলওয়ে। ফলে এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন ট্রেনের হাজারখানেক যাত্রী।

ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন দিয়ে প্রতিদিন চার জোড়া ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে দুই জোড়া চট্টগ্রাম থেকে এবং দুই জোড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাওয়া-আসা করে। এদিকে জলাবদ্ধতা এড়িয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নগরীর ষোলশহর-জানালীহাট সেকশনের বিদ্যমান রেললাইন পাঁচ ফুট উঁচু করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। গতকাল সকাল ১০টায় রেলের গ্যাংকারে করে নগরীর জলাবদ্ধ রেললাইন পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

গতকাল সকালে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল সৈকত এক্সপ্রেসের, কিন্তু ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়। চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে সেই ট্রেনটি বিকেলে ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ নামে আবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। রেললাইনটি দিয়ে ঢাকা থেকে পর্যটক ও কক্সবাজার এক্সপ্রেস নামে দুটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে, যা চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করে। কিন্তু ট্রেন দুটির যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, ট্রেনটি কক্সবাজার যেতে না পারায় বিকেলে আবার ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে।

ঢাকায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি ফার্মে কর্মরত মাহফুজুর রহমান নির্দিষ্ট সময়ে ছুটি নিয়ে পরিবারসহ সাজেকে বেড়াতে এসে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ঢাকায় ফেরত যেতে পারছেন না। অফিসের কাজকর্মের চাপের কারণে তিনি মানসিক শান্তিতে নেই। তাঁর মতো প্রায় ৬০০ পর্যটক বেড়াতে এসে সাজেকে আটকা পড়েছেন এবং কবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন তা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আছেন। তিন দিন ধরে টানা ভারী বর্ষণের কারণে দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে মঙ্গলবার রাতে মাচালং এলাকায় সেতু ও সড়কের দুটি অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। অন্যদিকে দীঘিনালা-সাজেক সড়কটি গতকাল সকাল ৬টার দিকে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাজেকের সঙ্গে বাঘাইহাট ও দীঘিনালার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানান, সাজেকে আটকেপড়াদের জন্য রিসোর্ট ও কটেজ মালিকদের পক্ষ থেকে কক্ষ ভাড়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করে দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যবহৃত পানি খরচের বিলটি পর্যটকদের নিজেদের দিতে হবে।

পাহাড়ী ঢল ও বৃষ্টির পানি বেড়ে যাওয়ায় খাগড়াছড়ি জেলার একাধিক সড়ক তলিয়ে গেছে। সরাসরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে দীঘিনালা-লংগদু, দীঘিনালা-সাজেক ও খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কে। বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পাহাড় ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, স্টিল ব্রিজ, বড় মেরুং, আটারকছড়া ও তেঁতুলতলা এলাকায় সড়কে পানি উঠেছে। ফলে সোমবার বিকেল থেকে দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতকাল সকালে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী অংশেও পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে, যার ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। কোথাও কোথাও যাত্রীদের নৌকা দিয়ে সড়ক পার হতে দেখা গেছে। এদিকে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশমাইল, মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ওই সড়কেও সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ জানান, মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপজেলায় ২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যার মধ্যে মেরুং এলাকার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে সোমবার রাতে ২৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাবার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং জনপ্রতিনিধিদের আরও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বান্দরবান জেলায় সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বসতঘর, সড়ক ও কৃষিজমি তলিয়ে গেছে এবং দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন ১৯০টি পরিবারের প্রায় ৭০০ মানুষ। পাহাড় ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক করছে প্রশাসন।

বান্দরবান সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিল্টন দস্তিদার জানান, সদর উপজেলার ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় ১৯০টি পরিবারের ৭০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন এবং আশ্রিতদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বেড়েছে এবং বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

গতকাল সন্ধ্যায় বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌসের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জেলায় অব্যাহত ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝুঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যমান আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকির বিবেচনায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ৬ জুলাই জারি করা জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় বান্দরবান জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র ১২ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে তিনটি মাছ ধরা ট্রলারডুবির ঘটনায় এখনো ১৩ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। চর বিজয়-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে গতকাল দুপুরে ছয়জন জেলেসহ একটি ট্রলার ডুবে যায়, যেখানে ট্রলারের মালিক মাসুদ মাঝি জীবিত উদ্ধার হলেও পাঁচ জেলের সন্ধান মেলেনি। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে ফকিরহাট এলাকার ‘এফবি মহিমা’ নামের একটি মাছধরা ট্রলার ১৮ জন জেলে নিয়ে ডুবে যায়, যেখানে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। অন্যদিকে গত রোববার পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার খরিদা গ্রামের ইমাদুলের মালিকানাধীন আরেকটি মাছধরা ট্রলার বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৬০ কিলোমিটার গভীরে ১১ জন জেলেসহ ডুবে যায়, যাদের মধ্যে মাত্র পাঁচজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে জেলা সদরসহ সারাদেশের নৌ যোগাযোগ টানা চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। রোববার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। হাতিয়া থেকে নোয়াখালী জেলা সদর ও দেশের অন্যান্য স্থানে যাতায়াতকারী কয়েক হাজার যাত্রী ও শত শত যানবাহন হাতিয়া ফেরিঘাটে আটকা পড়েছে। টানা বর্ষণে হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদ ইকবাল তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিন দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাঙ্গু নদীর পার উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে নিম্নাঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং এসব এলাকার গ্রামীণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

একইভাবে তিন দিনের ভারী বর্ষণে বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার ৩০টি গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে এবং শতাধিক গাছ উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

টানা সাড়ে আট ঘণ্টার ভারী বর্ষণে ময়মনসিংহ নগরীর অধিকাংশ সড়ক ও নিচু এলাকা তলিয়ে গেছে। এতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে এবং প্রচণ্ড ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত এই সাড়ে আট ঘণ্টায় রেকর্ড করা হয়েছে ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, যা চলতি বছরে জেলায় সর্বোচ্চ।

টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই, লাঘাটা, ক্ষিরণীসহ নদนদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল 6টা থেকে গতকাল সকাল 6টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯১ মিলিমিটার।

চার দিন ধরে চলা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের চর্য়িা ও মাতামুহুরি উপজেলার অন্তত ৭০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং এই জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ৫ হাজার পরিবার।

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার চার কিলোমিটার ৯৫০ মিটার অংশের সংস্কার কাজ চলার মাঝপথেই মাত্র এক দিনের বৃষ্টিতে রাস্তার বিভিন্ন অংশের দুই পাশ থেকে মাটিসহ ইটের কাঠামো ধসে পড়েছে।

এদিকে টানা বর্ষণ এবং ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় কৃষিজমি, মাছের খামার, খাল, সড়ক ও বসতঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খাল উপচে পানি প্রবেশ করায় সবজিক্ষেত তলিয়ে গেছে, অনেক মাছের পুকুর ভেসে গেছে এবং কয়েকটি বসতঘর নদী ও খালের ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

Ads