আ.লীগ আমলে তিন বাহিনীর বঞ্চিতদের কাছে ফের আবেদন চাইল সরকার

আহমেদ হোসাইন

০৯ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম


আ.লীগ আমলে তিন বাহিনীর বঞ্চিতদের কাছে ফের আবেদন চাইল সরকার

 

সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতি পাওয়া ও বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা স্বাভাবিক অবসর বা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাননি, তাদের কাছ থেকে আবারও আবেদন আহ্বান করেছে সরকার। দেড়শ কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর ও ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হলো।

বুধবার (৮ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীতে চাকরিকালে ‘বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার’ শিকার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও বরখাস্ত (চাকরিচ্যুত) কর্মকর্তারা আবেদন করতে পারবেন। যারা আগে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদর দপ্তরের গঠিত পর্ষদ বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত কমিটির কাছে আবেদন করেননি, তারা নতুন করে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া যাদের আগের আবেদন কোনো কারণে বিবেচনা করা সম্ভব হয়নি, তারাও পুনরায় আবেদন করতে পারবেন।

আগ্রহী কর্মকর্তাদের আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদর দপ্তরে আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে গঠিত কমিটিকে আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান)-এর কাছে সুপারিশ জমা দিতে হবে।

আবেদনগুলো পর্যালোচনার জন্য সেনাবাহিনীর একজন লেফটেন্যান্ট জেনারেলকে সভাপতি করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কমিটিতে আরও রয়েছেন সেনাবাহিনীর একজন মেজর জেনারেল, নৌবাহিনীর একজন রিয়ার অ্যাডমিরাল, বিমানবাহিনীর একজন এয়ার ভাইস মার্শাল, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এই কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজন মনে করলে কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই কমিটি সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদর দপ্তরে জমা হওয়া নতুন আবেদনগুলো যাচাই করবে। পাশাপাশি বাহিনীর সদর দপ্তরের গঠিত পর্ষদ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত কমিটিতে জমা দেওয়া হলেও যেসব আবেদন আগে বিবেচনা করা সম্ভব হয়নি, সেগুলোও পুনরায় পরীক্ষা করবে। মানবিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কমিটি প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে। সুপারিশ প্রণয়নের আগে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে এবং দাখিল করা সব দালিলিক তথ্য ও নথি পর্যালোচনা করা হবে। তবে কমিটি শুধু ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের ভুক্তভোগী কর্মকর্তাদের আবেদনই বিবেচনায় নেবে।

এর আগে গত ১ জুলাই জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আযমীসহ ১৫০ জন কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর ও ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়। সে সময়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছিল, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও পাবেন। এর এক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন করে ‘বঞ্চিত’ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হলো। এই সুবিধার আওতায় সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বিমানবাহিনীর ১৪ কর্মকর্তা এসেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ‘বঞ্চনার শিকার’ সেনা কর্মকর্তাদের বিষয়টি পর্যালোচনা করতে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সে সময় এক হাজারের বেশি সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য আবেদন করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

Ads