‘পে স্কেল’ নিয়ে আলোচনা হয়নি
সংস্কার ধাপে ধাপে, একমত আইএমএফ: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে যেকোনো ধরনের সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি উল্লেখ করেন, রাতারাতি বড় কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-ও সরকারের এই অবস্থানের সাথে একমত পোষণ করেছে। কোন সংস্কারটি কখন করা প্রয়োজন, সেই অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেই সরকার সামনে এগোবে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে আইএমএফের বাংলাদেশ ও হংকং বিষয়ক মিশনপ্রধান ইভ ক্রজনারের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান অর্থমন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন, সরকারের আর্থিক সংস্কার, রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার প্রতি আইএমএফ সম্মান প্রদর্শন করেছে। এছাড়া নতুন ঋণ কর্মসূচির মূল ভিত্তি ও তা বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, আইএমএফের সঙ্গে আগামীতে নতুন ঋণ কর্মসূচি কোন কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে দুই পক্ষই একটি পরিষ্কার ধারণায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে ভিত্তি ও নীতিমালার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, আইএমএফ তাতে পূর্ণ সম্মতি জানিয়েছে।
একটি রাজনৈতিক সরকারের জনগণের প্রতি যে জবাবদিহিতা থাকে, সে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই সব ধরনের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারের এই রাজনৈতিক দায়িত্বশীলতার বিষয়টিকে আইএমএফ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে এবং এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের গত চার মাসের কার্যকলাপে আর্থিক খাতের সংস্কার, শেয়ার ও পুঁজিবাজারের উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আইএমএফ। তিনি দাবি করেন, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম মাত্র চার মাসে কর আদায়ে দৃশ্যমান ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এই ইতিবাচক ধারা বজায় রেখে কীভাবে কর-জিডিপি অনুপাত আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
ভর্তুকি প্রদানের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট কোনো শর্ত বা বিস্তারিত বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত কথাবার্তা হয়নি। আপাতত নতুন কর্মসূচির মূল ভিত্তিটি দাঁড় করানোর ওপরেই জোর দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ধাপের বৈঠকগুলোতে এসব বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে আইএমএফের কোনো আপত্তি বা আলোচনা হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সোমবারের বৈঠকে পে-স্কেল সংক্রান্ত কোনো আলোচনাই ওঠেনি। তবে এখন পর্যন্ত অন্যান্য যেসব বিষয়ে কথা হয়েছে, সেগুলোতে সন্তোষজনক অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে।
নতুন ঋণ কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইএমএফের পক্ষ থেকে নতুন ঋণের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত দেওয়া হচ্ছে এবং সরকার সেগুলো ধাপে ধাপে বা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইএমএফের সঙ্গে এই আলোচনা প্রক্রিয়া চলমান থাকবে এবং আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার সময় এই বিষয়ে আবারও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমান সরকারের সংস্কারমুখী কার্যক্রমে আইএমএফ সন্তুষ্ট এবং সেই ইতিবাচক ভিত্তির ওপর নির্ভর করেই নতুন ঋণ কর্মসূচি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।






























