প্যারা ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিবে সরকার- যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

মোঃ আশরাফুল আলম

০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৭ পিএম


প্যারা ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিবে সরকার- যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী


যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ আমিনুল হক বলেছেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে আনতে দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক মানের একটি প্যারা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমাজের বোঝা নয়, বরং দেশের জন্য সম্ভাবনাময় সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে 'এশিয়ান প্যারা গেমস ট্রেনিং ক্যাম্প-২০২৬'-এর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব আশার কথা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ আমিনুল হক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের নিয়ে একটি জাতীয় পর্যায়ের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতা আয়োজনের নীতিগত সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে গৃহীত হয়েছে। সব অনুকূলে থাকলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই ক্রীড়াযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। অনেক পরিবার লজ্জার কারণে যেসব সন্তানকে আড়ালে রাখে, সঠিক চর্চা ও সুযোগ পেলে তারাই একদিন অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস বা প্যারা গেমসে দেশের জন্য গৌরবময় পদক ছিনিয়ে আনতে পারে। তাই তাদের নিয়ে লজ্জা না করে গর্ব করার মানসিকতা গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সুরক্ষার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদ নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা পাচ্ছেন। খুব শিগগিরই আরও ২০০ জনকে এই কর্মসূচির আওতায় এনে মোট ভাতার পরিধি ৫০০ জনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া এশিয়ান প্যারা গেমসসহ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক বা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনকারী নতুন ক্রীড়াবিদদেরও পর্যায়ক্রমে এই ভাতার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ক্রীড়াবিদদের নিয়মিত অনুশীলনের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন খেলোয়াড়দের কেবল কোনো প্রতিযোগিতার আগে নয়, বরং সারা বছরই নিবিড় প্রশিক্ষণের আওতায় রাখা হবে। তাদের আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে আমিনুল হক জানান, মিরপুর স্টেডিয়াম এলাকাকে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ‘স্পোর্টস হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের সুবিধার্থে একটি বিশেষায়িত ও আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, কার্যক্রম শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের ৬৪টি জেলাতেই ছড়িয়ে দেওয়া হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজনের লক্ষ্যে 'নতুন কুঁড়ি প্যারা স্পোর্টস' নামে জাতীয় পর্যায়ের একটি প্রতিভা অন্বেষণমূলক প্রতিযোগিতা চালুর বিশেষ পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে সরকার।

Ads