১৭ বছরে বিএনপির সাড়ে ৪ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ার: আইনমন্ত্রী

মুহাম্মদ ইসমাইল হাসান

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম


১৭ বছরে বিএনপির সাড়ে ৪ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ার: আইনমন্ত্রী

ত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের টার্গেট করে ধরে নিয়ে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডকে ‘ক্রসফায়ার’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এ সময়ে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছিল।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে প্রায় ৭০০ বিএনপি নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। একইভাবে অসংখ্য জামায়াতের নেতাকর্মীকে গুম ও হত্যা করা হয়েছে। শুধু বিএনপি বা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই তাদের এসব পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমাদের বিএনপি সরকারের সময়ে ক্রসফায়ার শূন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছি। গুম শূন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছি।”

বাগেরহাটে গুমের অভিযোগের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সারা বাংলাদেশে বাগেরহাটে একটি গুমের অভিযোগ উঠেছে। এটি মিরাজ শেখের বিষয়। ঘটনাটি অত্যন্ত সতর্কতা ও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা চাই না মিরাজ শেখের পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হোক।”

বাগেরহাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, জেলায় কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “তিনি যত শক্তিশালী হোন না কেন, বিএনপির কোনো শক্তিশালী নেতা যদি তাকে রক্ষার চেষ্টা করেন, তার ব্যাপারেও আপনারা জিরো টলারেন্স নীতি দেখাবেন। খুন করে বাইরে ঘুরে বেড়াবেন, আর জনগণ বলবে খুন করলেও কিছু হয় না—এটা হতে পারে না।”

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, পুলিশের হাত এখনো এত দুর্বল হয়নি যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা যাবে না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলিম, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া সভায় বাগেরহাটের সিভিল সার্জন আসম মাহবুবুল আলম, বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম, সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম এবং বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এর আগে সকালে জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন আইনমন্ত্রী।

বিকেলে বিএনপির নির্বাচিত সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য, সংসদ সদস্য প্রার্থী, জেলা ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন তিনি।

Ads