অবশেষে পাকা ইউনিয়নে ভুক্তভোগীরা ১০টাকা কেজি দরের চাল পেলো
১৬ এপ্রিল ২০২০, ১১:২০ পিএম
ছবি সংগৃহীত
বিভিন্ন মিডিয়ায় পাকা ইউনিয়নের ১০ টাকা কেজি দরের চালের দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হবার পর প্রশাসনের টনক নড়ে। জরুরী ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্তে দূর্নীতির সত্যতা মিললে গত ১১এপ্রিল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক জরুরী সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য,ডা.সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল জেলা প্রশাসক জেড এম নুরুল হক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আখতারের সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত মোতাবেক উপজেলার পাকা ইউনিয়নের আত্মসাতকৃত ১০ টাকা কেজি দরের চাল কার্ডধারী ৫৮ ভুক্তভোগীদের মাঝে বিতরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ডিলারগণকে নির্দেশ দেয়া হয়। যা গত রোববার ও সোমবার ভুক্তভোগীদের হাতে কার্ড দিয়ে ও সংবাদ পাঠিয়ে ডিলার গণ এ চাল বিতরণ করেছে বলে জানিয়েছেন পাকা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দুরুল হোদা।
আরো শতাধিক ভুক্তভোগীদের দাবী আমাদের তিন বছর ধরে যে চাল না দিয়ে আত্মসাত করা হয়েছে তা আমাদেরকে ফেরত দেয়া হোক যা আমাদের নায্য অধিকার। পাকা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দুরুল হোদা জানান, পরিবর্তিত নতুন ৫৮টি কার্ড উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসার জান মোহাম্মদের নিকট ছিল যা আগে জানা যায়নি। তথ্য অনুসন্ধানে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানতে পেরে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে সেই ৫৮টি কার্ড ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের মাঝে দেয়া হয় এবং ডিলারদের মাধ্যমে এক মাসের কার্ড প্রতি ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। যার খরচ ডিলারগণ নিজেই বহন করেছেন। এব্যাপারে ডিলার শরিফুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলাম জানান, আমরা এ চাল আত্মসাত না করেও আমাদের অনেক হয়রানী ও নিজের টাকায় চাল কিনে ভুক্তভোগীদের মাঝে বিতরণ করতে হয়েছে। যে ৫৮টি কার্ডে চাল আমাদের দিতে হলো সে ৫৮টি কার্ড উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রন অফিসারের কাছেই ছিল। এব্যাপারে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসার জান মোহাম্মদকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি প্রশ্ন এড়িয়ে বলেন আমার ওপর তদন্তের দায়িত্ব ছিল তা আমি তদন্ত সাপেক্ষে রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট অফিসে পাঠিয়েছি বলে ফোন কেটে দেন।
সরজমিনে ঘুরে ভুক্তভোগীদের সাথে আলোচনা করে জানা গেছে পাকা ইউনিয়নে শতাধিক ভুক্তভোগীদের তিন বছর ধরে ১০ টাকা কেজি দরের প্রায় ৯২ থেকে ৯৫ মেট্রিক টন চাল আত্মসাত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পাকা ইউনিয়নের বিশ রশিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে সইনুর বেগম, হাসুমুদ্দিনের ছেলে শরিফুল ইসলাম,সাইফুদ্দিনের ছেলে জোহরুল ইসরাম মাইনুদ্দিনের ছেলে জেনারুল ইসলাম, কবিরুদ্দিনের ছেলে বাবলু, পশ্চিম পাকা গ্রামের বদুর ছেলে সফিক,শামসুলের ছেলে নাজির উদ্দিন, শামসুলের ছেলে ডুবারী আলি,হলদিবোনা গ্রামের দাউদের ছেলে বাবুল আলি, পারুল. রফিকুর ইসলাম ৪০/৫০জন জানান, আমাদের নামে ১০ কেজি দরের চালের কার্ড থাকা সত্বেও তিন বছর ধরে আমাদেরকে জানতে দেয়নি সংশ্লিষ্টরা।ফলে কোন চাল পাইনি। হিসাব অনুযায়ী আমরা প্রত্যেকে গত তিন বছরে ৪৫০ কেজি করে চাল পেতাম। সে মোতাবেক ৯২ থেকে ৯৫ মেট্রিক টন চাল আত্মসাত হয়েছে। আমরা সে চাল চাই এবং আত্মসাত কারীদের বিচার চাই। তারা আরো বলেন যে খাদ্য নিয়ন্ত্রন অফিসার এ ঘটনার মূল হোতা তিনি আবার তদন্ত কর্মকর্তা যা আমাদের জন্য দূর্ভাগের ব্যাপার। তারা আরো বলেন আমরা খুব শীঘ্রই গত তিন বছরের চাল পাওয়ার জন্য এবং ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবী দিয়ে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তূৃপক্ষের নিকট আবেদন করবো।এব্যাপারে পাকা ইউনিয়নের খাদ্য বান্ধব কমিটির সদস্য ও ভুক্তভোগীদের পক্ষে অভিযোগকারী আশফাকুর রহামন বলেন যেহেতু মাননীয় প্রধান মন্ত্রী নিজেই ১০ টাকা কেজি দরের চালের তদারকি করছেন সেহেতু দূর্নীতিবাজ যে হোক না কেন কোন ছাড় পাবে না বলে আমি আশাবাদী।
এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আখতার বলেন ভুক্তভাগীরা আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করলে আমি অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। এপর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ করেনি।তিনি আরো বলেন, তিন বছর ধরে এ অনিয়ম হলেও কউ জানতে পারেনি। আমি সর্বপ্রথম উপজেলা ওযেবসাইটে উপজেলার সমস্ত ভুক্তভোগীদে নামের তালিকা প্রকাশ করায় তারা সচেতন হয়েছে।ফলে দুর্নীতি ধরা পড়তে শুরু করেছেএ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা: সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল বলেন আমরা প্রথম পর্যায়ে আত্মসাত কৃত ৫৮টি কার্ড উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদরে মাঝে পৌঁছানোর মধ্যমে গত রোববার চাল বিতরনের নির্দেশ দিয়েছি। পরে আরো তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহন করবো।
































