শিবগঞ্জে করোনা আতঙ্কেও বন্ধ হচ্ছে না গণজমায়েত
০৭ মে ২০২০, ০৮:২৩ পিএম
ছবি- প্রতিদিনের চিত্র
সারা দেশের ন্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক থাকলেও সরকারী আইন অমান্য করে গণজমায়েত, যান বহন চলাচল ও দোকানপাট খোলা থাকায় ঝুঁকি দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সচেতন মহলের ধারনা।
সরজমিনে শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ বাজার, কানসাট বাজার, খাসের হাট, চামা বাজার, দাদনচক বাজার, মনাকষা বাজার, রানীহাট্টি বাজার সহ প্রায় অর্ধশতাধিক ছোট বড় বাজারে বিশেষ করে বিকালে গ্রামঞ্জের বাজার সহ প্রায় ছোট বড় বাজারে বিশেষ করে বিকাল থেকে শুরু করে রাত ১০/১১ টা পর্যন্ত ব্যাপক হারে গণজমায়েত হচ্ছে। বড় বড় বাজার গুলোতে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং বিকাল ৩টা থেকে রাত ১০পর্যন্ত গণজমায়েত কম নয়।বাজার গুলোতে চায়ের ও মিষ্টির দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের শতশত দোকানপাট স্বাভাবিক ভাবে চলছে। যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে আগের মত অবস্থা। গ্রাম, পাড়া ও মহল্লায় সারা দিনই চলছে দোকানপাট। চলছে দিনের বেলায় বাড়িতে বাড়িতে চায়ের দোকান ও সন্ধ্যার পরে মোড়ে মোড়ে বসছে চায়ের দোকান। মনে হয়না যে করোনা ভাইরাস বলে কোন কিছু আছে যা আমাদের জীবননাশের কারণ। মধ্যখানে গ্রাম পুলিশ ও আনসার ভিডিপির প্রচেষ্টায় দোকানপাট অনেকটা বন্ধ হয়েছিল। গণজমায়েতও ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছিল। কিন্তু আর্থিক সংকটের অজুহাতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ আনসার ভিডিপিদের মাঠে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। আর গ্রাম পুলিশরা ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আর টহল দিচ্ছে না বলে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে। এদিকে উপজেলার শতশত শ্রমিক ধান কাটার জন্য ট্রলি ও অটো যোগে প্রশাসনকে এড়িয়ে নওগাঁ ও নিয়ামত ও বরেন্দ্র এলাকায় যাচ্ছে। যেখানে সামাজিক দুরত্ব বজায়ের কোন বালাই নেই। যদিও সাম্প্রতিক কালে প্রশাসনিক সহযোগিতায় কয়েকশ শ্রমিক ধান কাটতে গেছে। তবে মানুষের মাঝে করোনা আতঙ্ক গতকাল বুধবার থেকে আরো অনেক বেশী ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ গতকাল সন্ধ্যায় শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারী ওবাইদুর রহমানের করোনার পজেটিভ রিপোর্ট আসার সংবাদ সারা উপজেলায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। তিনি বর্তমানে নিজ বাড়িতে লকডাউনে অবস্থান করছে। শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা প: প:ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোসা: সায়েরা বেগম জানান, ওবাইদুর রহমান ১০৬জনের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা টেস্ট করিয়ছেন। কারই করোনা ভাইরাসের পজিটিভ রিপোর্ট আসেনি। কিন্তু ওবাইদুর রহমানের করোনা ভাইরাসের পজিটিভ রির্পোট আমাদের ভাবিয়ে তুলেছ।
তিনি আরো বলেন ওবাইদুর রহমানের রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর আমরা শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫জন কর্মকর্তা কর্মচারীর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলায় এ পর্যন্ত মোট ১৬২২জন ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে ও ৫জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে হাটবাজার খোলা থাকতে ও যানবাহন চলাচল করতে পারে। তবে যদি এ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটে তবে প্রশাসনিকভাবে তৎপর হওয়া উচিত। কারণ করোনা ভাইরাস কাউকেও ক্ষমা করবে না। এখান থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ একটাই সচেতনা থেকে সামাজিক ভাবে সরকারী স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা। এব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুল আলম শাহ বলেন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আমারা সার্বক্ষনিক কাজ করে যাচ্ছি এবং কাজ করে যাবো। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আখতার বলেন, গণজমায়েত বন্ধ করতে আমরা প্রাশাসনিক ভাকে ব্যপক হারে কাজ করে যাচ্ছি। সরকার যখন যে নির্দেশ দিবেন তা শতভাগ বাস্তবায়নে প্রস্তুত আছি।
































