পাঁকা ইউনিয়নে বিধবা-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০৯ মে ২০২০, ০৭:০৭ পিএম


পাঁকা ইউনিয়নে বিধবা-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

 

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টুনী কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের বিধবা-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সুবিধা ভাতা প্রদান করে আসছে সরকার। আর এই সুবিধা ভোগী ভাতার টাকা সুষ্ঠুভাবে বিতরণের জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনেরও ব্যবস্থা করে দেয় সরকার। কিন্তু শনিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাঁকা বাজার বিধবা-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সুবিধা ভাতা প্রদানে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ২জন মৃত ব্যক্তিদের নামে বিধবা-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সুবিধা ভাতা কার্ডের টাকা ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. রমজান আলী উত্তোলন করে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ইউনিয়নে ৪৫০জন বিধবা-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সুবিধা ভাতা ভোগী রয়েছে।

জানা গেছে, পাঁকা ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের পরিচালক মো. সুজন আলী, ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. রমজান আলী ও গ্রাম্যপুলিশ মো. শরিফুল ইসলামের যোগসাগজে বিধবা-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সুবিধাদের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে আদায় করছেন। সুবিধা ভোগী ভক্তভুগীরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের টাকা দেয়ার আগের দিন শরিফুল চৌকিদার মাইকিং করে বলে বিধবা-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সুবিধা ভাতা টাকা দেয়া হবে আপনারা নিতে আসবেন এবং সাথে করে ৩০ টাকা করে নিয়ে আসবেন। এই ৩০টাকা খরচ হিসেবে নেয়া হয়েছে বলে জানান ভক্তভূগীরা।

এদিকে, গ্রাম্যপুলিশ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, আমাকে ডিজিটাল সেন্টারের পরিচালক মো. সুজন আলী মাইকিং করার নির্দেশ দেয় এবং ৩০ টাকা আদায়ের কথা বলেও বলে তাই আমি ৩০ টাকা করে আদায় করেছি। এছাড়া তিনি আরো বলেন, অন্য আরো ৩টি ওয়ার্ডেও একই মাইকিং করা হয়েছে। আমি যাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছি, তাদেরকে টাকা ফেরত দিয়ে দিচ্ছি।

অন্যদিকে, পাঁকা ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের পরিচালক মো. সুজন আলীর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন, ৩০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে এটা আমার জানান নাই। তবে, শুনেছি চৌকিদার এ টাকা আদায় করছে। আমি তাঁকে টাকাগুলো ফেরত দিতে বলেছি। সে টাকাগুলো ফেরত দিয়েছে।
এছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. রমজান আলী জানান, সুবিধা ভোগীদের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে এবিষয়টি আমার জানা নাই। আমি বিষয়টি জেনে সুবিধা ভোগীদের কাছ থেকে নেয়া টাকা তাদের ফেরত দিতে বলছি। কিন্তু মৃত ব্যক্তিদের নামে বিধবা-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সুবিধা ভাতা কার্ডের টাকা উত্তোলন করেনি বলেও অস্বীকার করেন।

পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ দুরুল হোদার যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এবিষয়টি আমার জানা নাই। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস জানান, এবিষয়টি আমার জানা ছিলো না, এখন জানলাম। এঘটনার সাথে যারা জড়িত বিষয়টি তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত বছর ৪ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন মাস্টার পাঁকা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাঁকা বাজার বিধবা-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের সুবিধা ভাতা বিবতণ কেন্দ্রের জন্য উপজেলা সমাজ সেবা অফিসারে বরাবর আবেদনের প্রেক্ষিতে শনিবার এই সুবিধা ভোগীদের ভাতার টাকা বিতরণ করা হয়।

Ads