টেকসই নগর ও পরিবেশ সুরক্ষায় গ্রিন সিমেন্ট

অমৃত চিছাম

০৬ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩৯ পিএম


টেকসই নগর ও পরিবেশ সুরক্ষায় গ্রিন সিমেন্ট

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।


ভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে পাল্লা দিয়ে বিশ্বব্যাপী গড়ে উঠেছে বিশাল বিশাল অট্টালিকা। একবিংশ শতাব্দীতে এসে অট্টালিকা নির্মাণ এর পরিমাণ কিরূপ বৃদ্ধি পেয়েছে তা সারা বিশ্বের দিকে শুধুমাত্র একবার তাকালেই যথেষ্ট। পৃথিবীব্যাপী জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গেসঙ্গে অতি দ্রুততার সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে আবাসন ব্যবস্থার। আমরা জানি মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম একটি হলো বাসস্থান। মানুষের স্বাভাবিক জীবন ধারনের জন্য যার গুরুত্ব অপরিসীম। আর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন টেকসই নগর সভ্যতা। নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের উপাদানের ওপর ভিত্তি করে। এর সাথে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িয়ে আছে টেকসই অবকাঠামো বিষয়টি। বর্তমান সময়কে বলা হচ্ছে নির্মাণ শিল্পের চরম উৎকর্ষের যুগ। আমরা জানি ভিত্তি মজবুত না হলে বিল্ডিং মজবুত হবে না। আর এর প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করে সিমেন্ট। রানা প্লাজাসহ বেশকিছু ভবন নির্মাণ ত্রুটির কারণে ধসে পড়ার অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। পরবর্তীতে অনুসন্ধানের সময় উঠে এসেছে, নির্মাণ ত্রুটির অন্যতম একটি কারণ ছিল সিমেন্টের সঠিক ব্যবহার না করা। 

 

ভূতাত্তি¡কদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশকিছু অঞ্চল ভূমিকম্পের প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্প্রতি ভূমিকম্প ছাড়াই বিল্ডিং ধসে পড়ার ঘটনা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাহলে অধিক শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হলে রাজধানীর বিল্ডিংগুলোর কী অবস্থা হতে পারে তা খুব সহজেই অনুমেয়। কোনো কিছুই এমনি এমনি টেকসই হয়ে ওঠে না। এর সাথে বিভিন্ন বিষয়বস্তু প্রতক্ষ্য বা পরোক্ষভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। শুরুতেই একটু ছোট করে জেনে নেওয়া যাক, টেকসই নগর বিষয়টি আসলে কি? "টেকসই নগর" হল এমন একটি এলাকা যেখানে বিশেষভাবে প্রযুক্তিগত প্রগতি, বিজ্ঞান, ও প্রযুক্তি কেন্দ্রিক বিকাশ ঘটে। বর্তমানে সারা পৃথিবীব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টি আলোচনার শীর্ষে অবস্থান করছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ কৌশল গভীর ভূমিকা রাখতে পারে। অবকাঠামো পরিবেশবান্ধব তখনই হতে পারে, যখন টেকসই নির্মাণ পদ্ধতির পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রীও টেকসই হবে। টেকসই নগর উন্নয়নে সে বিষয়টি অঙ্গাঅঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে তা হলো সিমেন্ট, বিশেষ করে ‘গ্রিন সিমেন্ট’। সিমেন্ট একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিল্ডিং তৈরির সামগ্রী, যাতে ঈধ ও অষ এর কতকগুলো অনার্দ্র দ্বি - সিলিকেট বর্তমান থাকে। এগুলো পরবর্তীতে পানির সংস্পর্শে এসে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জমাট বেঁধে শক্ত পিন্ডে পরিবর্তিত হয়। পানির উপস্থিতিতে বালি, পাথরের টুকরা বা ইটের মাঝে অবস্থান করে তাদেরকে সংযুক্ত করে একটি অতিশক্ত পিন্ডে পরিণত করার ক্ষমতা রাখে। 

 

বিজ্ঞানীদের মতে, ক্লিংকার তৈরি থেকে আরম্ব করে সিমেন্ট বা কংক্রিট তৈরির এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়। কংক্রিট যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন করে তার অর্ধেক নিঃসরিত হয় সিমেন্ট তৈরির প্রক্রিয়ায় ক্যালসিয়াম কার্বনেটের প্রতিক্রিয়ায় আর বাকি অর্ধেক হয় জীবাশ্ম জ্বালানি জ্বালিয়ে ক্লিংকার উৎপাদনের মাধ্যমে। যার ফলসরূপ অধিক পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়। এসব কর্মকান্ড সংগঠিত হওয়ার দরুন পৃথিবীর তাপমাত্রা পূর্বের তুলনায় এখন ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মনুষ্যসৃষ্ট গ্রিনহাউজ গ্যাসের ফলে পৃথিবীর উষ্ণায়নকে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি অন্যতম নিয়ামক হিসাবে ধরণা করা হচ্ছে। যা কিনা কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধিতে কার্যকর ভ‚মিকা পালন করে একইসঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবেও কাজ করে। তাপমাত্রা পরিবর্তন হওয়ার ফলে বায়ুমন্ডলের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। সর্বোপরি জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে। চিন্তার বিষয় এই যে, গ্রিন হাউজ গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইডের, পরিমাণ উনবিংশ শতকের তুলনায় বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধুমাত্র গত দুই দশকে বৃদ্ধি পেয়েছে ১২ শতাংশ। কার্বন নিঃসরণের পাশাপাশি প্রতি টন সিমেন্ট উৎপাদনের জন্য প্রায় ১০৫ কিলোওয়াট-ঘন্টা বিদ্যুৎ ও ৬০ থেকে ১৩০ কেজি জ্বালানি তেল প্রয়োজন হয়। সিমেন্ট শিল্প বিশ্বজুড়ে মোট কার্বন ডাই অক্সাইড নি:সরণ এর ৫% অবদান রাখে। বিশ্বব্যাংকের গবেষণা হতে প্রাপ্ত তথ্যমতে, সারাবিশ্বে উৎপন্ন হওয়া গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্র শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ নিঃসরিত হয় বাংলাদেশে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ক্ষতিগ্রস্ত শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে অন্যতম একটি হলো আমাদের প্রিয় স্বদেশ। 

 

বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ২৫ মিলিয়ন টন সিমেন্ট ব্যবহৃত হয়, যার প্রায় সমস্তই দেশে উৎপাদিত হয়ে থাকে। সিমেন্ট উৎপাদনে দেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশে বর্তমানে উৎপাদনে থাকা ৩৫টি কারখানার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৭ কোটি ৯০ লাখ টনের বেশি। তবে কার্যকর উৎপাদন ক্ষমতা কিছুটা কম, ৬ কোটি ২০ লাখ টন। দেশে সিমেন্ট বাজারের আকার রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার। এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক বেকার মানুষের। প্রতিবছর দেশে সিমেন্টের চাহিদা বছরে ৩ কোটি ৯০ লাখ টন। বিশ্বে বর্তমানে টেকসই নগর উন্নয়নে সবচেয়ে আলোচিত একটি নাম হলো ‘গ্রিন সিমেন্ট’। আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখি সবুজ রং পজেটিভ কিছুরই ইঙ্গিত করে, আর যা কিনা মানবস্বাস্থ্য তথা পরিবেশবান্ধব হয়ে থাকে। ‘গ্রিন সিমেন্ট’ একটি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি যা পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। এটি প্রধানত কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে ব্যবহৃত হয় এবং পরিবেশের সৌন্দর্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা প্রদান করে। 

 

এই সিমেন্টে প্রধানত কার্বন নির্মূল প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয় যা পরিবেশের ক্ষতি হ্রাস করে। এই কংক্রিটের জন্য সিমেন্ট ক্লিংকার কমিয়ে বিকল্প কাঁচামাল যেমন: স্ল্যাগ এবং লাইমস্টোন বেশি দিয়ে উৎপাদন করা হয়। মেক্সিকোর গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সিমেন্ট উৎপাদনের সময় শতকরা ৮০ ভাগ কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমবে ও শক্তি শতকরা মাত্র ৫০ ভাগ কম খরচেই উৎপাদিত হবে। অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব হিসেবে বিবেচিত বিকল্প কাঁচামালগুলো বিভিন্ন ভারী শিল্প যেমন: স্টিল মিল এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। তাই এখন সময় এসেছে কার্যকরী কয়েকটি কাঁচামাল বিবেচনায় নেওয়ার যেমন: কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পাওয়া ফ্লাইঅ্যাশের ব্যবহার বাড়ানো, স্টিল শিল্পের অ-লৌহ উপাদান স্ল্যাগের ব্যবহার বাড়ানো, ফাইবার গøাস বা গøাসের বর্জ্য, ধান থেকে তৈরি হওয়া ছাই, পোড়া মাটি। বেশিরভাগ শিল্পে পণ্য তৈরির জন্য গরম ভাটাগুলি ব্যবহৃত হয়। এসব ভাটায় পণ্য ঢালাই করা হয়। ভাটায় স্ল্যাগের ব্যবহার সাধারণত সবুজ সিমেন্ট তৈরির জন্য করা হয়। তাছাড়াও ‘গ্রিন সিমেন্ট’ তৈরিতে ফ্লাই অ্যাশও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই উক্ত সিমেন্ট তৈরির প্রক্রিয়াটি একটি কার্বন-নেতিবাচক প্রক্রিয়া। অর্থাৎ কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করার মাধ্যমে সিমেন্ট তৈরি করা হয়। 

 

উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে উৎপাদন খরচ বহুলাংশে হ্রাস পায় সেইসাথে পরিবেশ বান্ধবও হয়ে থাকে। যদিও উক্ত প্রক্রিয়ায় কার্বন উৎপন্ন হয়, তবে তা খুব সামান্যই।  জে কে সিমেন্টের দেওয়া রিপোর্টের এক প্রাপ্ত তথ্যমতে, এই সিমেন্টের গ্রিপ খুব মজবুত হয় ও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে। অতি আশ্চর্যের বিষয় এই যে, উক্ত সিমেন্ট সাধারণ সিমেন্টের চেয়ে প্রায় ৪ গুণ বেশি জং প্রতিরোধী। এটি বড় নির্মাণ সামগ্রীর জন্য কার্যকর সমাধান হতে পারে। কারণ উক্ত সিমেন্টে ক্যালসিফাইড কাদামাটি এবং চুনাপাথর মিশ্রিত করা হয়। এই উপাদানগুলি ছিদ্র কমাতে সাহায্য করে এবং এর শক্তি বহুগুন বৃদ্ধি করে। ‘গ্রিন সিমেন্ট’ সাধারণ সিমেন্টের চেয়ে অধিক দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং যা ভবিষ্যতে, বর্তমান সিমেন্টের একটি উত্তম বিকল্প হিসাবে আবির্ভূত হবে সারাবিশ্বে। তাছাড়া দেশে এখন পর্যন্ত ক্লিংকার যেহেতু পুরোপুরি আমদানি নির্ভর কাজেই এ পদ্ধতি ব্যবহার করার ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। দেশে নগর উন্নয়নে কম ফ্লাইঅ্যাশ এবং বেশি ক্লিংকারের সিমেন্টের প্রতি ক্রেতাদের বেশি আগ্রহ দেখতে পাওয়া যায়। 

 

অনেকেই মনে করে থাকেন ফ্লাইঅ্যাশ দিয়ে তৈরি সিমেন্টে স্থাপনা খুব বেশিদিন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। কিন্তু তাদের এ ধারণা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তাদের মধ্যে একটা ভুল ধারণা এই যে, উক্ত সিমেন্ট আজও টেকসই কি না? এখন সময় হয়েছে এই ধারণাটি বদলানোর। তাদের উৎসাহিত করতে হবে কারণ গ্রিন সিমেন্ট বিল্ডিংয়ে ব্যবহারযোগ্য জায়গা বেশী থাকে, স্থাপনা শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, আগুনের কিংবা সূর্যের তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি থাকে। সর্বোপরি, গ্রিন কংক্রিটের ভবন লবণসহ অন্যান্য ক্ষতিকারক দ্রব্য থেকে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা দেয়। প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহার বিশ্বে একটি সংকট তৈরি করেছে যা সবার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এমন পরিস্থিতিতে সিমেন্ট কোম্পানির বিশেষজ্ঞ এবং বিজ্ঞানীদের দল সবুজ সিমেন্টের রূপে একটি ভালো ফর্মুলা নিয়ে এসেছে। এই সিমেন্ট নির্মাণ ব্যয় বহুলাংশে হ্রাস করে ও এটি একইসাথে পরিবেশবান্ধব হয়ে থাকে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই করতে হলে শক্তিশালী অবকাঠামো বিনির্মাণ এবং সব ধরনের কাঠামোতগত সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। 

 

টেকসই শহর ও সম্প্রদায় বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডা-২০৩০ এর অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে বিশ্বব্যাপী গৃহীত হয়েছে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-১১ (এসডিজি-১১)। টেকসই উন্নয়নের জন্য অভীষ্ট-১১ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে চিহ্নিত করেছে; যথা- টেকসই নগরায়ন, সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন, পরিবেশগত প্রভাব হ্রাস ইত্যাদি। বিশ্বায়নের এ যুগে বাংলাদেশও পরিবেশ বিপর্যয় এর সম্মুখীন একটি দেশ। তাই পরিবেশের এই বিপর্যয় মোকাবেলায় দেশেও পরিবেশ বান্ধব সিমেন্ট এর ব্যবহার উত্তর উত্তর বৃদ্ধি করতে হবে। যা অর্থনীতি, জলবায়ু, মানবস্বাস্থ্য তথা পরিবেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করবে। কাজেই সরকারি এবং বেসরকারিভাবে ক্লিংকারের পরিমাণ কমিয়ে বিকল্প কাঁচামাল ব্যবহার, গ্রিন কংক্রিট বা গ্রিন বিল্ডিংকে উৎসাহিত করা, পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী উৎপাদকদের প্রণোদনা দেওয়া এবং নির্মাণকারীদের পরিবেশের বিষয়ে আরও সচেতন করে তোলার মাধ্যমে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারি। এখন সময় হয়েছে দেশীয় সিমেন্ট উৎপাদন বা কংক্রিট শিল্পে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার। অন্যথায় উন্নত দেশগুলো একসময় কার্বন নিঃসরণ তথা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের দায় আমাদের উপরও চাপাবে এবং জলবায়ু সম্পর্কিত সাহায্য সহযোগিতাও কমে যাবে। আশা করি সরকার ও উদ্যোক্তারা এ ব্যাপারে কার্যকর প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবে। 

 

পরিশেষে আবারও "গ্রিন সিমেন্ট" এর ব্যবহার প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে নগরে উওর উওর বৃদ্ধি করতে হবে। জনগনকে আরও বেশি  বেশি "সবুজ সিমেন্ট" ব্যবহারের প্রতি উৎসাহী করে তুলতে হবে। এতে দেশে নতুন করে প্রচুর পরিমানে পরিবেশ বান্ধব সিমেন্ট তৈরির কারখানা গড়ে উঠবে। এর ফলে একদিকে যেমন ব্যবসায়িরা লাভবান হবে ঠিক তেমনি ভাবে আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিও সমৃদ্ধি লাভ করবে। বাংলাদেশ চাইলে দুবাই, আফগানিস্তান ও ভারতের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোয় এই সিমেন্ট রপ্তানি করতে পারে। শুধুমাত্র প্রয়োজন একটু সরকারি সহযোগিতার। এদেশে সিমেন্ট শিল্পের অনেক বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশে পরিবেশবান্ধব সিমেন্ট শিল্প কারখানার প্রসার ঘটানো সম্ভব। ফলে সিমেন্ট উৎপাদন শিল্পে বাংলাদেশ এশিয়ার প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। দেশে পরিবেশবান্ধব সিমেন্ট তৈরির কারখানা গড়ে উঠলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে, বেকারত্ব দূর,ও সর্বোপরি লিঙ্গ সমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যা রূপকল্প ২০৪১ বা বাংলাদেশ ভিশন ২০৪১ ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসাবে কাজ করবে। 

 

শিক্ষার্থী
এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ^বিদ্যালয়
ত্রিশাল, ময়মনসিংহ
 

 

Ads