লাবণ্য আহমেদের স্মরণসভা পরিণত হলো অশ্রুভারি হেমন্ত সন্ধ্যায়
২৪ অক্টোবর ২০২৪, ১২:০০ এএম
গুণগ্রাহী, ভক্ত, বক্তা ও স্বজনদের চোখের জলের সিক্ততায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব (জনসংযোগ বিভাগের সাবেক পরিচালক) লাবণ্য আহমেদের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামটরস্থ সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে “তুমি রবে নিরবে” শীর্ষক আলোচনা সভাটি হয়ে ওঠে "শুধুই লাবণ্যময়"। গুণমুগ্ধ প্রিয়জন ও স্বজনদের তাঁকে স্মৃতিচারণের পুরোটা সময় বিশাল শূণ্যতার অনুভবে ভারি হয়ে ওঠে পরিবেশ।অশ্রুভারি হেমন্ত সন্ধ্যায় লাবণ্য আহমেদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।
আলোচনা সভায় অংশ নেন এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান, সাংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক লিয়াকত আলী, বাবা নাসির আহমেদ, মা শাহেনশাহ বেগম, বদিউর রহমান, লুৎফর রহমান, মোমিনুল হক দুলু, মাহবুব পান্না, রেহানা পারভীন, সাইদুল দেওয়ান, মোর্শেদা মুন্নি, নিশাত জাহান রানা, অজন্তা রানী সাহা, অনল রায়হান, বিপুল রায়হান, এরশাদুল হক টিংকু, ছেলে আজয়াদ বারী ও আজমাইন বারী প্রমুখ।
এর আগে ফারজানা নাহিদ সায়ান, নাফিজ কামাল, সাবরিনা নিপু ও মৌরির রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। কবিতা আবৃত্তি করেন শারমিন লাকী, সাগর সেন, সাবরিনা নিপু এবং সাব্বির আহমেদ শুভ।
এছাড়াও লাবণ্য আহমেদের জীবনাদর্শন, পেশাগত জীবনের দায়িত্বশীলতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসহ ব্যাক্তিগত জীবন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জনের পর ১৯৯৬ সালের জুলাই মাসে সহকারী পরিচালক হিসেবে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখায় যোগদানের পর থেকে সুদীর্ঘ সময়ে সংসদ সচিবালয়ের সকল স্তরের সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়পাত্র ছিলেন তিনি।
লাবণ্য আহমেদ শহীদ পরিবারের সন্তান। তার বড় মামা শহীদ শহীদুল্লা কায়সার ও মেজ মামা শহীদ জহির রায়হানের বোন শাহেনশা বেগমের প্রথম কন্যা লাবন্য আহমেদ। তার বাবা বাংলাদেশ আর্মস ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নাসির আহমেদ বেনু মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ও অস্ত্র প্রশিক্ষক এবং ১৯৭২ সালে দায়েরকৃত বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলার বাদী। মা শাহেনশা ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির নিবেদিত সদস্য।
উল্লেখ্য, ৩ ছেলের জননী ৫৮ বছর বয়সি এ সাবেক উপসচিব ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর বুধবার বেলা দেড়টার দিকে কলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টারে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ২০১৮ সাল থেকে দুরারোগ্য ব্লাড ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন। পাঁচ বছর দুরারোগ্য ক্যান্সারের সাথে তিনি যুদ্ধ করছিলেন। তার বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার পর অপারেশন পরবর্তী জটিলতায় তার অবস্থার ক্রমশ অবনতি ঘটতে শুরু করে।
লাবণ্য অগ্রণী স্কুল, সেনফ্রান্সেস গার্লস স্কুল, আনন্দময়ী গার্লস স্কুল ও বাংলাবাজার স্কুলের মতন ভিন্ন মত, ধর্ম, সংস্কৃতি ও সামাজিক বৈষম্য মূলক প্রেক্ষাপটের শিক্ষক ও সহপাঠীদের সংস্পর্শে শিক্ষা জীবন সম্পন্ন করেন। কলেজ জীবনে বদরুন্নেসার ছাত্রী, তাঁর বিভিন্ন শিক্ষা অতিরিক্ত কার্যক্রম গুলো যেমন বিতর্ক সভা, সমাজ কল্যাণ মুলক কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ইডেনে স্নাতক পড়া কালিন সময়েই ১৯৮৬ সালে তার বিয়ে হয়ে গেলও, স্বামীর সাঙ্গে নতুন বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে লেখাপড়া থেকে নিজেকে বিচ্ছেদ হতে দেয়নি। জ্ঞানের পিপাসা বাস্তব জীবনের খড়া দুর্যোগ মহামারীকে অতিক্রম করেই লাবণ্য তার সাংসারিক জীবন, সন্তান এবং শিক্ষা জীবনকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়েছে।
শত প্রতিকূলতা কাটিয়ে বাবা-মায়ের আশীর্বাদ ও সহায়তায় দুটি সন্তান কোলে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে বিসিএস দেয়ার পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রের সাথে যুক্ত হয়ে তাঁর কর্মজীবনও শুরু করেছিল।



















