অযত্নে অবহেলায় মাধবপুর উপজেলা স্টেডিয়াম দেখার যেনো কেউ নেই

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০৭ জুন ২০২১, ০৯:০০ পিএম


অযত্নে অবহেলায় মাধবপুর উপজেলা স্টেডিয়াম দেখার যেনো কেউ নেই

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।

 

মাধবপুর পৌরসভার ভিতরে অবস্থিত মাধবপুর উপজেলা স্টেডিয়ামটি অযত্নে অবহেলায় খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাধবপুর উপজেলা স্টেডিয়ামটি মাধবপুর পৌরসভার ০৭নং ওয়ার্ড ও ০৪নং ওয়ার্ডের মাঝামাঝি ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত । মাধবপুর পৌরসভার ভিতরে অবস্থিত হলেও মাঠের ভূমি ডিসি খতিয়ান মোতাবেক মাঠের মালিক উপজেলা প্রশাসন ও  উপজেলা পরিষদ।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মাঠের নাজেহাল অবস্থা। মাঠের এই নাজেহাল অবস্থার ব্যাপারে পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্রীড়া সংগঠক মোঃ সাদ্দাম হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনাকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকার কথা চিন্তা করে (তৎকালিন) মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনুভা নাশতারান নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র বিশেষ করে কাঁচা বাজার, সবজি বাজার, মাছ বাজার সহ কিছু মুদি দোকানদারকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে দোকান-পাট স্টেডিয়াম মাঠে স্থানারিত করেন। ফলে ব্যবসায়ীরা মাঠের ভিতরে বিভিন্ন সুবিধাজনক স্থানে মাঠের ভিততের বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটি কেটে দোকান পাঠ উঁচু  করে স্থাপন করেন ফলে মাঠের ভিতরে বিভিন্ন জায়গার গর্তে হয়ে যায়। এখন সামান্য বৃষ্টি হলেই মাঠের ভিতরে সৃষ্টি হওয়া গর্তে পানি জমে থাকে। এই পানি নিষ্কাশনের  জন্যও নেই কোনো ব্যবস্থা। মাঠের পশ্চিম দিকে একটি গ্যালারি স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু ওই গ্যালারিতে বসে খেলা দেখা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কারন মাঠের স্বাভাবিক  উচ্চতা থেকে গ্যালিরিটি অধিক উচ্চতায় স্থাপন করায় বিধায় কেউ গ্যালারিতে উঠে বসে খেলা দেখতে পারে না । এই দিকে  মাঠটি অযতœ ও অবহেলার কারণে মাঠের ভিতরে বিভিন্ন জায়গায় কঁচু গাছ জন্মেছে। দেখলে মনে হবে মাঠের ভিতরে কঁচু গাছ ফলানো হচ্ছে। মাঠের পশ্চিম দিকে রাস্তার পাশে বিভিন্ন জায়গায় ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এই ময়লা আর্বজনা একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ করছে অন্যদিকে ধীরে ধীরে দখল হচ্ছে মাঠের জায়গা।

 

 

উল্লেখ্য উপজেলা সদরে তথ্য পৌরসভাতে সরকারি প্রাইমারি স্কুল আছে ৬টি, উচ্চ বিদ্যালয় ৩টি সরকারি মাদ্রাসা রয়েছে ১টি এবং কলেজ রয়েছে ১টি। এছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি কিন্ডার গার্টেন স্কুল রয়েছে। এই সমস্ত স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহনে বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্টানগুলো বিশেষ করে স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস এর মত জাতীয় কর্মসূচীগুলো এই মাঠে উদযাপিত হয়ে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্টান বিশেষ করে ওয়াজ মাহফিলের মত অনুষ্টানগুলো এই মাঠে হয়ে থাকে। কিন্তু মাঠের এই বেহাল দশার কারণে মাঠে কোন প্রকার জাতীয় অনুষ্টান ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্টিত হয় না। অন্যান্য বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা অনুর্ধ-১৭ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উপজেলা সদর মাঠে অনুষ্টিত হত । কিন্তু মাঠের এই করুন দশার কারণে সম্প্রতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেচ্ছা অনুর্ধ-১৭ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট সদর উপজেলার মাঠে অনুষ্টিত হয়নি। মাঠের করুন দশার কারণে উক্ত টুর্নামেন্টটি শাহজাহানপুর ইউ/ পি হাই স্কুল মাঠে অনুষ্টিত হয়। মাঠের এই বেহাল দশা ও মাঠ সংস্কার করার ব্যাপারে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরার কাছে সাক্ষাতে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এই উপজেলায় সবেমাত্র জয়েন করেছি। মাঠের খারাপ অবস্থার ব্যাপারে আমি তেমন কিছু জানি না। তবে কিছুদিনের  মধ্যেই আমি মাঠ পরিদর্শনে যাবো। মাট পরিদর্শন করে সংস্কার করতে কি পরিমাণ বাজেট লাগতে পারে সে ব্যাপারে সকলের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। এই দিকে মাধবপুর পৌরসভা সহ পার্শ্ববতী ইউনিয়নের জনগনের প্রত্যাশা সদর মাঠটি যেনো খুব তাড়াতাড়ি খেলাধুলা করার উপযোগী হয়ে যায়।

 

 

উল্লেখ্য যে, বছর তিন এক আগে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোঃ শাহজাহান উপজেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে মাঠটি সংস্কার করেন। তারপর থেকে মাঠটি আর সংস্কার করা হয়নি। উপজেলা সদরে এই মাঠটি ছাড়া আর অন্য কোন মাঠ না থাকায় ছেলে মেয়েরা অন্যত্র কোথাও খেলাধুলা করার সুযোগ পাচ্ছে না। যার দরুন ছেলে মেয়েরা হয়ে পড়ছে অলস ও একঘোয়েমী স্বভাবের। ফলে ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে কিশোর অপরাধ। ছেলে- মেয়রো মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘ সময় ধরে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা এক প্রকার বন্ধী অবস্থায় দিন কাটা্েচ্ছ। ফলে তাদের সুস্থ মানুষিক বিকাশ ঘটাতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন যদি খেলাধুলা করা যেত তাহলে সুস্থ শারীরিক ও মানুষিক বিকাশ ঘটাতে পারতো। কিন্ত একমাত্র মাঠটি খেলাধুলা করার অনুপযোগী হওয়ায় সুস্থ মানুষিক বিকাশে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকাবাসী এই মাঠটি দ্রুত সংস্কার করে খেলাধুলার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান।

Ads