চুনারুঘাটে প্রতারণার ফাঁদে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীরা
০২ জুলাই ২০২১, ০১:০৯ এএম
হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় সরকারের বিভিন্ন সাহায্য এনে দেওয়ার কথা বলে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীেদের থেকে আর্থিক আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে গত রোববার (২৭ জুন) চুনারুঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে স্থানীয় অবিভাবকদের মধ্যে ১০ ব্যক্তির স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ পত্র দেওয়া হয়।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৯ নম্বর রানীগাঁও ইউনিয়নের হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা মো. আইয়ুব আলীর পুত্র মো. লিটন মিয়া এবং নাছিরাবাদ চা-বাগানের বাসিন্দা মৃত মাইচং হাজংয়ের পুত্র পলাশ হাজং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বাসিন্দা বিভিন্ন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি পাওয়ার সুযোগ করে দেবেন বলে মানুষের সাথে প্রতারণা করে জনপ্রতি ৫০০ হতে ১০০০ টাকা করে হাতিয়ে নেয়।
এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে উক্ত এলাকায় কোনো এক মন্ত্রীকে পরিদর্শনে আনার কথা বলে ঘরে ঘরে গিয়ে ২০০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করেন অভিযুক্তরা। বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আইনের ভয় দেখাতে শুরু করেন চক্রটি। এ কারণে গত রবিবার দুপুরে ভুক্তভোগীরা একাট্টা হয়ে স্থানীয় ইউএনও বরাবরে এই অভিযোগটি দাখিল করেন।
লিখিত অভিযোগ করেছেন যোসেফ দেববর্মা, সিতুষ দেববর্মা, সরেন দেববর্মা, ঈশ্বর চন্দ্র দেববর্মা, রাধামোহন দেববর্মা, রিপাউ সাওতাল, সঞ্জু দেববর্মা, রবীন্দ্র দেববর্মা এবং দিলিপ।
অভিযোগকারীরা 'দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র'কে বলেন আমরা পড়া-লেখা জানিনা অশিক্ষিত। সারাদিন পাহাড়ে কাজ করি। পরিবার ভরণ-পোষণ করতে খুবই কষ্ট হয়। তার পরেও আমাদের সন্তানদের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় নানা ঝক্কি-ঝামেলা সহ্য করে তাদেরকে লেখাপড়া শেখানোর জন্য স্কুলে ভর্তি করেছি। কিন্তু আমাদের সরলতা এবং অশিক্ষার সুযোগে এলাকার লিটন মিয়া ও পলাশ হাজং যোগসাজশে সরকারি অফিসে ঘুষ দিয়ে আমাদের সন্তানদের নামে সরকারি নিয়মিত মাসিক উপবৃত্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে আমাদের থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা নিয়ে এখন অস্বীকার করছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত লিটন মিয়া বলেন, আমি মূলত উপজাতি। ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম হয়েছি। লেখাপড়ার পাশাপাশি আগে থেকেই বিভিন্নভাবে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা আমার সম্প্রদায়ের বঞ্চিতদের পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এর আগেও কিছু কুচক্রী আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এমনটা করেছে। এর আগেও এমন ঘটনার ফলে আমি প্রায় ২০০ জনকে নিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাদির লস্কর ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করে ভুল তথ্যের অবসান করেছি।
অপর আরেক অভিযুক্ত ত্রিপুরী, গারো, শাওঁতাল এবং হাজং সমিতির সভাপতি পলাশ হাজং তার সম্পৃক্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয়। এটি মূলত লিটন মিয়া এবং যোসেফ দেববর্মার আভ্যন্তরীণ সমস্যা। সরকার জনসাধরণকে সুযোগ-সুবিধা দিলে সেটা সরকারের প্রতিনিধি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা মেম্বারদের মাধ্যমে দিবে। এখানে আমাকে অভিযুক্ত করা হল কেন আমার বোধগম্য নয়। তিনি আরও বলেন আমাকে সভাপতির পদ থেকে সরাতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
চুনারুঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সত্যজিৎ রায় দাশ অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তিনি সবার উদ্দ্যেশে আরও বলেন এলাকায় যে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধের সঠিক তথ্য পাওয়া গেলে তক্ষনাৎ জানানোর জন্য আহ্বান করেছেন।





















