ছুটির ফাঁদে বাংলাদেশ, ভঙ্গুর প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা!

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৪৩ পিএম


ছুটির ফাঁদে বাংলাদেশ, ভঙ্গুর প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা!

দেশে কি ধরনের রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি শুরু হয়েছে তা বোঝা মুশকিল। অক্টোবর মাসের ৩ তারিখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয় হিন্দুধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাতদিন। যদিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিলেবাসে বন্ধ দেখানো হয়েছে ৭ অক্টোবর থেকে ৯ অক্টোবর অর্থাৎ সোমবার থেকে বুধবার মানে তিনদিন। কিন্তু ছুটি আদায় করা হয়েছে ৭ দিন। এ সাত দিনের আগাগোড়ায় সাপ্তাহিক ছুটি তো রয়েছেই। অফিসপাড়ায় শুক্র-শনিবার ছুটি। ১২ অক্টোবর শনিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও ১৩ অক্টোবর রবিবার আবার লক্ষ্মীপূজার ছুটি। মোটকথা ৩ অক্টোবর থেকে টানা ১০ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। এ বন্ধ রাখা মানে সরকারি ছুটি!

যেখানে শিক্ষার্থীদের তথা কচিকাঁচাদের শিক্ষার ভিত তৈরি হবে সেখানে অর্থাৎ প্রাইমারি স্কুলের ছুটির তালিকা দেখলে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। অতীতে আমাদের শিক্ষা জীবনে এত বন্ধ বা ছুটি দেখিনি কখনো। যা এ সময়ে এসে দেখতে হচ্ছে। চলতি বছরের ছুটির তালিকা একটু দেখে নেয়া যাক-

১. শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা ১০ ফেব্রুয়ারি রবিবার ১ দিন। ২. মাঘী পূর্ণিমা ১৯ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার একদিন। ৩.শহীদ দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার একদিন। ৪.শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত সোমবার একদিন। ৫. বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন 17 মার্চ রবিবার একদিন। ৬.শুভ দোলযাত্রা,২১ মার্চ বৃহস্পতিবার একদিন। ৭.স্বাধীনতা দিবস 26 মার্চ মঙ্গলবার একদিন।৮. শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব 3 এপ্রিল বুধবার একদিন। ৯.শব-ই-মেরাজ ৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার একদিন। ১০.চৈত্র সংক্রান্তি 13 ও 14 এপ্রিল শনিবার রবিবার 2 দিন। ১১. ইস্টার সানডে রবিবার 21 এপ্রিল একদিন। ১২. মে দিবস ১ মে বুধবার একদিন। ১৩. রমজান ও বুদ্ধ পূর্ণিমা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ 5 মে থেকে 13 জুন রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার 35 দিন। ১৪. আষাঢ়ি পূর্ণিমা 16 জুলাই মঙ্গলবার একদিন। ১৫.কোরবানের ঈদ10 থেকে 14 আগস্ট শনিবার থেকে বুধবার পাঁচদিন। ১৬.শোক দিবস 15 আগস্ট বৃহস্পতিবার একদিন। ১৭. শুভ জন্মাষ্টমী 23 আগস্ট শুক্রবার একদিন। ১৮.হিজরী বর্ষ ১ সেপ্টেম্বর রবিবার একদিন। ১৯.মহররম 10 সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার একদিন। ২০.মধু পূর্ণিমা 13 সেপ্টেম্বর শুক্রবার একদিন। ২১.শুভ মহালয়া 28 সেপ্টেম্বর শনিবার একদিন। ২২.শ্রী শ্রী দূর্গা পুজা 7 অক্টোবর থেকে 9 অক্টোবর সোমবার থেকে বুধবার তিনদিন থাকলেও বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করে 11 অক্টোবর 8 দিন ছুটি রাখা হয়েছে। ২৩. শ্রী শ্রী লক্ষ্মী পূজা 13 অক্টোবর রবিবার একদিন। ২৪. অক্টোবর বুধবার একদিন। ২৫.শ্রী শ্রী শ্যামা পূজা 27 অক্টোবর রবিবার একদিন। ২৬.ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী 10 নভেম্বর রবিবার একদিন। ২৭.ফাতেমা-ই ইয়াজদাহাম, 9 ডিসেম্বর সোমবার একদিন। ২৮.বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর সোমবার একদিন। ২৯.যিশুর জন্মদিন ও শীতকালীন অবকাশ 25 ডিসেম্বর থেকে 31 ডিসেম্বর বুধবার থেকে সোমবার পাঁচ দিন। ৩০. প্রধান শিক্ষকের সংরক্ষিত ছুটি তিন দিন সহমোট ছুটি ৮০ দিন। এছাড়াও সাপ্তাহিক ছুটি প্রতি শুক্রবার তো রয়েছেই। বায়ান্ন সপ্তাহে বায়ান্ন দিন হলে তাহলে মোট ছুটি বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ১৩২ দিন। এর বাহিরে আবার ব্যক্তিগত সমস্যা, ব্যস্ততা, অসুস্থতা, মাতৃত্বকালীন ছুটি,পিতৃত্বকালীন ছুটি সহ মোট ছুটির অংক কত হতে পারে?

ছোট ছোট বাচ্চাদের পড়ালেখার জন্য সরকারের ভেতরে বসে এক দুষ্টচক্র ছুটির ফাঁদে ফেলে দেশকে খুব সুকৌশলে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার গভীর চক্রান্ত এঁকেছেন। যে বা যারা ছুটির তালিকা তৈরি করেছেন সেখানে কোন শিক্ষিত দেশ প্রেমিক ছিলেন?  শিক্ষাবান্ধব এমনকি কোন মুসলিম বাঙালি নাগরিক ছিলেন? সন্দেহ হচ্ছে। কারণ এত এত ছুটি দিয়ে কচিকাঁচা বাচ্চাদের শিক্ষার সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে! অতীতে কখনও এত ছুটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল না। কচিকাঁচাদের প্রাথমিক শিক্ষার অঙ্কুরেই বিনষ্ট করার লক্ষ্যে বিধর্মী কোন নাগরিক সরকারের ভেতরে বসে এমন দূরদর্শী ফাঁদ পেতেছেন হয়তো। বাংলাদেশ ও এদেশের জনগণকে ধোঁকা দিয়ে ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য নিয়ে এমন ছুটির দীর্ঘ তালিকা করেছেন। দেশের স্বার্থে আমরা চাই বিশেষ চার-পাঁচটি ছুটি রেখে বাকিগুলো রদ করে প্রাথমিক শিক্ষাকে বেগবান করার প্রয়াস গ্রহণ করবেন। এতোটুকুই সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান আমাদের। প্রাথমিক শিক্ষা এমনিতেই ভেঙ্গে পড়েছে তার উপরে এত ছুটি দিয়ে কি হবে?

আশা করছি শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা বিষয়টিতে দৃষ্টিপাত করবেন।

অ আ আবীর আকাশ: কবি প্রাবন্ধিক ও কলামনিস্ট।

Ads