হতাশায় শিশুপুত্রকে মেরে ফেললেন মা!
০২ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৮ পিএম
ঋণের চাপে ‘হতাশাগ্রস্ত’ হয়ে এক মা দুই বছরের শিশুপুত্রকে মেরে ফেলেছেন মা! মাত্র দুই বছরের সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা শেষে মরদেহ লুকিয়ে রাখেন বিলের কচুরিপানায়। অবশেষে মরদেহ উদ্ধার ও আটকের পর ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন সন্তান ঘাতিনী সানোয়ারা বেগম (২৭)। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা এলাকার। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে জেলা পুলিশ এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, প্রায় ১০ বছর অাগে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভেলানগর গ্রামের আশরাফ জালালীর পুত্র মো. ফারুক মিয়ার সাথে পার্শ্ববর্তী মধ্যপাড়ার সাগর মিয়ার মেয়ে সানোয়ারা বেগমের বিয়ে হয়। এর কিছুদিন পরই ফারুক একটি ম্যাচ ফ্যাক্টরিতে চাকরির সুবাদে ঢাকায় চলে যান। এরপর সেই চাকরি ছেড়ে সৌদি আরব পাড়ি জমান। অপরদিকে শ্বশুরবাড়িতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় সানোয়ারা বাবার বাড়ি এসে বড় চাচার ঘরে বসবাস শুরু করেন। এদিকে ফারুক-সানোয়ারার সন্তান রাফি ছিলো একটি বিরল রোগে আক্রান্ত। শরীরের কোথাও আঘাত পেলে রক্ত জমাট বাঁধার পাশাপাশি সামান্য কেটে গেলে ক্ষতস্থান থেকে রক্ত পড়া বন্ধের জন্য হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করানো লাগতো।
এদিকে ফারুক মিয়া বিদেশ যাওয়ার সময় স্বজনদের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। কিন্তু তিন বছরেও সেই টাকাও শোধ করতে না পারা এবং বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুপুত্রের চিকিৎসার ব্যয় মিটানো নিয়ে চরম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন সানোয়ারা। এ থেকেই গত ৩০ অক্টোবর ভোরে রাফিকে প্রশ্রাবের জন্য ঘরের বাইরে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন গর্ভধারিনী মা সানোয়ারা। এরপর বাড়ির পাশে একটি বিলের কচুরিপনার ওপর রাফির মরদেহ ছুড়ে ফেলে দেন। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। হত্যকাণ্ডের ঘটনায় রাফির দাদা আশরাফ জালালী ওই দিনই বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় মামলা করলে ‘সন্দেহজনক আচরণ’ দেখে সানোয়ারাকে আটক করে পু্লিশ। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ছেলে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন, (নবীনগর সার্কেল) মেহেদী হাসান, বিশেষ শাখার (এসবি) সহকারি পুলিশ সুপার আলাউদ্দিন চৌধুরী ও ডিআইও-১ ইমতিয়াজ আহম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
































