‘বিরক্ত’ হয়ে মাকে জবাই করলো মেয়ে
০৪ নভেম্বর ২০১৯, ১১:১৩ পিএম
ষোড়শী কন্যা তানিয়া অক্তার। নানান কারণে গর্ভধারিনী মায়ের প্রতিই ছিলো বিরক্ত! এরই ফলস্বরূপ মা চাঁনতারা বেগমকে (৪৫) বটি দিয়ে হত্যা করে মেয়ে! শুধু তাই নয়, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেও চালিয়ে দেয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা এলাকার চাঞ্চল্যকর ও নারকীয় এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য শেষতক উন্মোচন করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার সংবাদ সম্মেলন করে জেলা পুলিশ এসব তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, গত ২ নভেম্বর শনিবার সকালে সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের নিজের বাড়ি থেকে পুু্লিশ চাঁনতারার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। এদিকে জেলার নবীনগর উপজেলার সেমন্তঘর গ্রামের খলিল মিয়ার স্ত্রী চাঁঁনতারা বেগম মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় নিজেই বটি দিয়ে তার গলা কাটেন বলে পুলিশকে জানিয়েছিলো মেয়ে তানিয়া। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঁনতারা বেগমের ভাই মো. জাকির হোসেন (৩৮) সদর মডেল থানায় মামলা করেন।সূত্র জানায়, বসবাসের জায়গা না থাকায় খলিল মিয়া তার স্ত্রী চাঁনতারা-তিন সন্তানকে নিয়ে বিরামপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার একটি পুকুরপাড়ে টিনের ঘর বানিয়ে বসবাস করে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত দুই বছর ধরে খলিল-চাঁনতারার দ্বিতীয় সন্তান হাসান (১৪) নিখোঁজ রয়েছে। এর ফলে ছেলের জন্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন চাঁনতারা। মাঝেমধ্যে নিজে নিজে কথা বলতেন এবং বাড়ির বাইরে চলে যেতেন।
তানিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির কথা উল্লেখ করে পুলিশ সুপার আরও জানান, গত ২ নভেম্বর শনিবার ভোরে খলিল মিয়া ফজর নামাজ আদায় করতে মসজিদে চলে যান। এ সময় চাঁনতারা বাড়ির বাইরে চলে যেতে চাইলে তানিয়া তাকে ঘরে এসে ঘুমানোর জন্য বলে। কিন্তু চাঁনতারা না ঘুমিয়ে বটি এনে তানিয়াকে বলেন ‘নে আমারে মাইরালা’। তখন তানিয়া রেগে গিয়ে ওই বটি দিয়ে মায়ের গলায় টান দেয়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে তিনি মারা যান। এরপর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে তানিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন, বিশেষ শাখার (এসবি) ডিআইও-১ ইমতিয়াজ আহম্মেদ, সদর মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
































