রামগড়েই বিজিবির গোড়াপত্তন
১৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:৪৩ পিএম
রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন(১৭৯৫-১৮৬০) খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার অর্ন্তগত রামগড় উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি) এর জন্ম সম্পর্কিত ঐতিহাসিক স্থানটি রামগড় উপজেলা পরিষদের পাশে ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর গোড়াপত্তন হয় রামগড়ে। কালের বিবর্তনের ফলে বিভিন্ন সময় এর নামকরণ করা হয়েছে বিভিন্ন নামে। ১৭৯৫ সালের ২৯ জুন ৪৪৮ জন সৈন্য সংখ্যা নিয়ে এই বাহিনীর সৃষ্টি হয়। ৬ পাউন্ড গোলা, ৪টি কামান ও ২টি অনিয়মিত অশ্বরোহী দল নিয়ে গঠিত হয় সেদিনের রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন।
ফ্রন্টিয়ার গার্ডস(১৮৬১-১৮৯০) ১৮৬১ সালে পূর্বাঞ্চলের নিয়মিত ও অনিয়মিত পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়নকে নতুন ভাবে ফ্রন্টিয়ার গার্ডস নামে পূর্ণগঠিন করা হয়। যার সদস্য সংখ্যা ১৪৫৮ জনে উর্ত্তিন্ন করে চট্টগ্রামে সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়। ১৮৭৯ সালে স্পেশাল রির্জাভ কোম্পানী নামে এ বাহিনী তৎকালীন সদস্যদের নিয়ে পিলখানায় প্রথম ঘাঁটি স্থাপন করা হয়। সে থেকে অদ্যাবধি পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)র কর্মকান্ড অব্যাহত আছে।
বেঙ্গল মিলিটারী পুলিশ(১৮৯১-১৯১৯) ১৮৯১ সালে বাহিনীর নতুন নামকরণ করা হয় বেঙ্গল মিলিটারী পুলিশ। ঢাকা, খুলনা, ভাগলপুর ও গ্যাংটকে ৪টি ব্যাটালিয়নে ভাগ করে কোম্পানীগুলোকে স্থানান্তর করে একজন ইউরোপীয় সুবেদারের অধীনস্থ করা হয়।
ইষ্টান ফ্রন্টিয়ার রাইফেল্স(১৯২০-১৯৪৬) ১৯২০ সালে কালের বির্বতনে বেঙ্গল মিলিটারী পুলিশকে ইন্টান ফ্রন্টিয়ার রাইফেল্স নামে পুনঃ নামকরণ করে ১৬টি প্লাটুনে বিভক্ত করে সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত করা হয়।
ইষ্ট পাকিস্তান রাইফেল্স(১৯৪৭-১৯৭১) ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তের পর এ বাহিনীর নামকরণ করা হয় ইষ্ট পাকিস্তান রাইফেল্স (ইপিআর)। কলকাতা মেট্রোপলিটন আর্মড পুলিশের একটি দল পরবর্তীতে আরও তিন হাজার বাঙ্গালীকে নিয়োগ করে এ বাহিনীকে পূর্ণগঠিত করে দক্ষ নেতৃত্ব এবং দিক নির্দেশনার প্রয়োজনে সামরিক বাহিনী থেকে অফিসার নিয়োগ করা হয়। ১৯৫৮ সালে এ বাহিনীকে প্রদান করা হয় চোরাচালান দমনের দায়িত্বে। দেশ মাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে ১৯৫৮ সালে ব্রাক্ষণবাড়িয়া ১নম্বর ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক মেজর তোফায়েল আহম্মেদ জীবন উৎসর্গ করে তৎকালীন রাষ্ট্রীয় খেতাব নিশান-ই হায়দার অর্জন করেছিলেন। প্লাটুন কমান্ডার শহীদ নায়েক সুবেদার মোহাম্মদ আজম অর্জন করেছিলেন সিতারা-ই-জুররাত। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য এ বাহিনীর ১৪২ জন সদস্য জাতীয় বীরত্বপূর্ণ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন যার মধ্য মরণোত্তর বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন ৯ জন, বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন ৪০ জন এবং বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হয়েছিলেন ৯১ জন।
বাংলাদেশ রাইফেল্স বিডিআর(১৯৭২ সাল থেকে) দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ৩ মার্চ ইপিআর এর নতুন নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ রাইফেল্স(বিডিআর)। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম ৩রা র্মাচ ১৯৮০ সালে রাইফেল্স সপ্তাহ প্যারেড অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ রাইফেল্সকে প্রথম জাতীয় পতাকা হস্তাতর করেন। পরবর্তিতে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী পিলখানা সদর দপ্তরে অনাকাঙ্খিত বিভীষিকাময় অধ্যায়ের মাধ্যমে গত ২৩ জানুয়ারি ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ( বিজিবি)র পতাকা উত্তোলন করেন। এবং ২০ ডিসেম্বর সীমান্তরক্ষাকারী বাহিনী বিজিবি দিবস হিসেবে ঘোষনা দেওয়া হয়। রামগড় ৪৩বিজিবি’র উপ অধিনায়ক মেজর মো. জাকির হোসেন এ প্রতিনিধিকে জানান- দিবসটি উপলক্ষে রামগড় জোন সদর দপ্তরে দিন ব্যাপি বিভিন্ন অনুষ্ঠান মালা গ্রহনকরা হয়েছে।
তৎকালীন সময়ে ৬ জুন ২০০৫ সালে রামগড় ৩৩ রাইফেল্স ব্যাটালিয়নের উদ্দ্যোগে রামগড়ের অফিসটিলা র্কোড মসজিদ পার্শ্বে স্থাপন করা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর দৃষ্টিনন্দন “রাইফেল্স স্মৃতিস্তম্ব”। কালের বিবর্তনের ফলে এখানে স্থাপন করা হয় বাহিনীটির পোড়ামাটির তৈরী ৮টি অবয়ব সংবলিত ইতিহাস। এই স্মৃতিফলক স্থাপন করার ফলে ১৯২০ সালের প্রাচীন মহকুমা শহর রামগড়ের মান আরো উজ্জল হয়ে উঠেছে দেশ-বিদেশ ও পর্যটকদের কাছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার অর্ন্তরগত রামগড় উপজেলাবাসীর দাবী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জোয়ানদের আরো শক্তিশালী করার লক্ষে রামগড়ে রিক্রটিং (লোকভর্তি) কেন্দ্র এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর জাদুঘর স্থাপনের মধ্য দিয়ে বাহিনীটির সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দেশ মাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে আরো উজ্জল ভূমিকা রাখবে বলে সচেতন মহল মনে করেন।
































