হামরোগে আক্রান্তদের পাশে এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা
০৪ এপ্রিল ২০২০, ০৪:৫০ এএম
ছবি- প্রতিদিনের চিত্র
বয়োবৃদ্ধ মা উমাদিনী ত্রিপুরা (৯৮) মারা গেলেন মাত্র কয়েকদিন আগে। সেই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি এখনো। এরই মধ্যে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাতে রোগী না থাকলেও সারাদেশের সরকারি বিধি নিষেধে পড়ে অনেক দরিদ্র মানুষ এখন জীবন-জীবিকার চরম সংকটে। তারমধ্যে আবার হাম রোগের উপদ্রব হয়ে খাগড়াছড়িতে ৭জন শিশু মৃত্যু, আক্রান্ত হয়েছে দুই শতাধিক। সেসব মানুষের কথা ভেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মাঠে নামতে হয়েছে খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত সাংসদ, ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান ও খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে।
তিনি জাতির এই ক্রান্ত্রিলগ্নে পারিবারিক শোকে চুপ না থেকে শুক্রবার (০৩এপ্রিল ২০২০খ্রি.) দুপুরে জেলা সদর ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন্ত দুর্গম রবিধন পাড়ায় করোনায় অবরুদ্ধ দুস্থঃ, দরিদ্র ও হাম রোগে আক্রান্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার ও ভোগ্যপণ্য নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। প্রাথমিকভাবে নিজের ব্যক্তিগত এবং দলের সামর্থবান সহকর্মীদের সমন্বয়ে গড়ে তুলেছেন ২০ লক্ষ টাকার একটি নগদ তহবিল। সে তহবিল থেকে বুধবার দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক’শ মানুষের হাতে দলীয় সহকর্মীদের সাথে নিয়ে তুলে দিয়েছেন কয়েক দিনের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য।
তিনি বলেন ‘ সারা বিশ্ব এখন করোনা ভাইরাস নিয়ে চিন্তা সেখানে পাহাড়ে ত্রিপুরা পাড়ায় হাম বা লুটিসা (ত্রিপুরা ভাষায়) রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আর অন্যদিকে করোনা দুর্যোগ কবে নাগাদ কাটবে; সেটি আমাদের কারোই জানা নেই। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করছে বেসামরিক প্রশাসনের পরম সহযোগী হিসেবে। আমাদের দল এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থাও মাঠে সক্রিয়। জাতির এই সংকটকালে সকলকে জাতি-ধর্ম-দল-মত নির্বিশেষে সকলকে সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।
এসময় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, মাননীয় এমপি মহোদয়ের নির্দেশনায় রবিধন কার্বারী পাড়াসহ পাশাপাশি পাড়ায় মানুষের জীবন ধারণের যেসব মৌলিক চাহিদা প্রয়োজন সেটা সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি আশ্বস্ত করেন।
উল্লেখ্য যে, গত রোববার (২৯মার্চ ২০২০খ্রি.) থেকে দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি সদর, মাটিরাঙ্গা উপজেলায় বিভিন্ন দুর্গম ত্রিপুরা পাড়ায় হাম রোগ আক্রান্ত হওয়ার খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায় । বর্তমানে এ পর্যন্ত খাগড়াছড়ি জেলায় হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে দুই শতাধিক, মৃত্যু হয়েছে ৭জন শিশু।
































