বর্ধিত সভাকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগে চাঙা ভাব
২৪ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৪৫ এএম
ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরেই নেই সম্মেলন, চার বছর ধরে নেই বর্ধিত সভা। এই অবস্থা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের। প্রায় দেড় দেড় যুগের কমিটিতে থাকা অর্ধেক সদস্যই বর্তমানে অস্তিত্বহীন।
মৃত্যু, দলের অন্য ইউনিটে পদ গ্রহণ, মামলায় জেলে ও প্রবাসে রয়েছেন তারা। উপজেলা ইউনিটগুলোও বেহাল। অবশেষে চার বছরের মাথায় বর্ধিত সভা ঘিরে চাঙ্গা হয়ে ওঠেন নেতাকর্মীরা। পদপ্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে মহড়ার আয়োজন করেন। তোরণ, ব্যানার-ফেষ্টুনে সাজ সাজ রব ওঠে গোটা এলাকায়।
শনিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো বহুল পোতিক্ষিত এই বর্ধিত সভা। এতে প্রধান অতিথি থাকেন চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নাঈম।
দীর্ঘ চার বছর পর শনিবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা যুবলীগ সভাপতি শাহানুর ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকারসহ কেন্দ্রীয়য় এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল ধর্মের মানুষের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই সকল ধর্মের মানুষ সম্প্রীতি বজায় রেখে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে একসাথে এগিয়ে যেতে হবে।
জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভাকে ঘিরে একরকম উৎসবমুখরতা সৃষ্টি হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে জেলার প্রবেশমুখ আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহর পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথে দীর্ঘ যানজটে নাকাল থাকে শনিবার সকাল থেকে দুপুর নাগাদ। কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানাতে এই পথের স্থানে স্থানে অবস্থান নেন যুবলীগের শতশত নেতাকর্মী। এর আগে শতশত মোটর সাইকেল ও পিকআপ ভ্যান ও মাইক্রোতে করে যুবলীগের নেতাকর্মীরা মহড়া দেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আশুগঞ্জ টোলপ্লাজায় জেলা যুবলীগের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের বরণ করেন। সেখান থেকে প্রায় সাত-আটশ'র বেশি মোটরসাইকেল নিয়ে জেলা শহরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তারা। এসময়ে ঢাকা-সিলেট ও কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে মোটরসাইকেল ও ফুলের তোড়া নিয়ে মিছিলে তীব্র যানযট সৃষ্টি হয়। জেলা পুলিশ সুত্র জানিয়েছে, যুবলীগের এই বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় আড়াইশ' পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে প্রকাশ, বিগত ২০০৪ সালের ২৮ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের সূবশেষ সম্মেলন হয় অনুষ্ঠিত। ওই সম্মেলনে ঘোষিত ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হন এডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকন ও সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস। প্রায় এক বছর পর ২০০৫ সালের ১৮ জুন কেন্দ্রীয় যুবলীগ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং মির্জা আজম এই কমিটির অনুমোদন দেন। সেখানে সম্মেলনের তারিখ থেকে তিন বছরের জন্যে কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু সেই থেকে এখনো বহাল জেলা যুবলীগের সেই কমিটি। ১৭ বছরে জেলা যুবলীগের কমিটিতে থাকা অর্ধেক সদস্যই এখন অস্তিত্বহীন। মৃত্যুবরণ, দলের অন্য ইউনিটে পদ গ্রহণ, মামলায় জেলে ও প্রবাসে রয়েছেন তারা। উপজেলা ইউনিটগুলোও বেহাল। অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নিযুক্ত হওয়ায় বিগত চার বছর আগের বর্ধিত সভায় শাহনুর ইসলামকে আহবায়ক করা হয় জেলা যুবলীগের। সেই থেকে আর বর্ধিত সভা না হওয়ায় প্রায় দেড় যুগ আগের কমিটিই আজও বহাল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের আগামী সম্মেলনে পদ প্রত্যাশীরা দীর্ঘ চার বছর পরের বর্ধিত সভাকে ঘিরে বণ্যাঢ্য মিছিলসহ শহরকে সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। শহরের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে, বিল্ডিংয়ের উপরে এবং রাস্তার পাশে টানানো হয়েছে প্রায় পাঁচ শতাধিক বিলবোর্ড ও ব্যানার। তাছাড়া যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানাতে জেলা সদর থেকে আশুগঞ্জ উপজেলা পর্যন্ত এলাকাজুড়ে সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, হাতি-ঘোড়ায় সজ্জিত মিছিল জেলা সম্মেলনকেও হার মানিয়েছে।
































