কসবায় পুলিশী এ্যাকশনে মাদক কারবারীদের দুর্দিন

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

১২ অক্টোবর ২০২২, ০৯:২৫ পিএম


কসবায় পুলিশী এ্যাকশনে মাদক কারবারীদের দুর্দিন

ছবি- প্রতিদিনেরচিত্র বিডি।

 

সবা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী একটি উপজেলা। এর পূর্বপাশে ভারতের সীমান্ত। তন্মধ্যে বায়েক ও গোপীনাথপুর ইউনিয়ন দু'টোর প্রায় তিন দিক থেকেই ঘিরে রেখেছে ভারত। সঙ্গত কারণেই কসবা মাদক কারবারীদের নিরাপদ করিডোর। সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোর প্রায় ঘরে ঘরেই মিলে মাদক, এসবের কারবার স্থানীয়দের কাছে যেনো অনেকটা কমন পেশা। এই জনপদ দিয়ে ট্রাক বোঝাই করে মাদক পাচারের খবরও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বহুবার। সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশী এ্যাকশনে মাদক কারবারীদের 'বাড়া ভাতে ছাই' দশা। গত তিন মাসে ২০ মণ গাঁজাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার, শতাধিক মাদক কারবারী গ্রেপ্তার হওয়াসহ চলমান পু্লিশী এ্যাকশনে তাদের যাচ্ছে চরম দুর্দিন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত দিনে কসবা উপজেলার কসবা-নয়নপুর সড়কে গাঁজাভর্তি ট্রাক, গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা থেকে গাঁজাভর্তি মাইক্রোবাস জব্দ হবার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। মাদক কারবারীরা এই কসবাকে একরকম রামরাজত্ব বানিয়েছিলো। নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বনে মাদক পাচার কার্যক্রম চলে দেদার। এরই মাঝে গত ১ জুলাই মোহাম্মদ মহিউদ্দিন পিপিএম কসবা থানায় ওসি হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো যোগদানের পর পরিস্থিতি অনেকটা পাল্টাতে থাকে। মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নবাগত ওসির কঠোর অবস্থান গ্রহণ, দালালমুক্ত থানা করার ঘোষণা, জনসাধারণকে পুলিশী হয়রানি বন্ধ, সেবা প্রত্যাশীদের জন্য ওসির দরজা উন্মুক্তকরণ, মাদক-সন্ত্রাস দমনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলকে সম্পৃক্তের উদ্যোগ গ্রহণে মাদক কারবারীসহ অপরাধীরা ভরকে যায়। গত ২ জুলাই-৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ওসি মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার করা হয় শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে।

 

সূত্রে প্রকাশ, কসবা থানাধীন বায়েক, কাইমপুর, কুটি, গোপীনাথপুর, বিনাউটি ইউনিয়ন এলাকায় গত তিন মাসে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হয় ২০ মণ ভারতীয় গাঁজা, সাড়ে সাত হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৯২ বোতল ফেনসিডিল, ১৫৬ বোতল স্কফ, ৮০ বোতল বিদেশী মদ, ৭৩ বোতল হুইস্কি, ১২ বোতল বিয়ার, তিন বোতল মেকডোনালসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক। সেই সাথে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে, যাদের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলা বিদ্যমান। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কসবা থানার ওসি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, গত তিন মাসে কসবায় মাদক চোরাচালান প্রায় স্বাভাবিক অবস্থানে এসেছে। থানা এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রতিদিনই উদ্ধার করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার মাদক। তন্মধ্যে সবচে' বেশি গাঁজা ও ইয়াবা। মাদক কারবারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে কৌশল বদলায়। আমরাও এসবের সাথে পাল্লা দিয়ে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার কাজ করছি। মাদক নিয়ন্ত্রণসহ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সচেতন নাগরিকগণকে এগিয়ে আসতে হবে। সবার সহযোগিতা পেলে মাদক নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব। দেশের ভালো-মন্দের দায়ভার আমাদের সবার উপরই বর্তায়। এই সত্য লালন করেই সেবামূলক দায়িত্ব পালন করছি। 'পুলিশ জনগনের বন্ধু' এটি কেবল স্লোগান নয়, দায়-দায়িত্বের মাধ্যমেই তা প্রমাণ করতে চাই । আমরা সবাই মিলে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পুলিশ-জনতা ভাই ভাই হিসেবে কাজ করি।


এদিকে থানা পুলিশের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। দালালমুক্ত থানায় সেবা প্রত্যাশীরা ওসির সাথে কথা বলতে পারছেন যখনতখন। কমেছে পুলিশ কর্তৃক হয়রানি, বেড়েছে সেবা; সন্তুষ্ট সাধারণ মানুষ। সদালাপী ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের পুলিশ কর্মকর্তা মহিউদ্দিনের দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের ভাবমূর্তি হয়েছে অনেকটাই উজ্জ্বল। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ওসি মহিউদ্দিন কসবায় আসার পর কমছে মাদক ব্যবসা। অনেক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আতঙ্কে গাঢাকা দিয়েছে। এদিকে মাদক বিরোধী অভিযান ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার অব্যাহতেও থামছেনা মাদক ব্যবসা, মাদক পাচারে ব্যবহৃত হচ্ছে নিত্যনতুন কৌশল। তাদের অভিনব সব কৌশল দেখে প্রায়শ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও হন হতবাক।


কসবা থানার পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তারউপর কসবা আইনমন্ত্রীর এলাকা। মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনায় জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় আমরা কসবাতে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি এবং খুব অল্প সময়ে মাদকের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। তারই সাথে আমি মনে করি সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদক দূরীকরণ সম্ভব হবে। মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।'

Ads