এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার অটো পাস নিয়ে সিদ্ধান্ত আজ- পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ আগস্ট ২০২৪, ০৮:৩৭ এএম


এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার অটো পাস নিয়ে সিদ্ধান্ত আজ- পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক

 

কোটা সংস্কার ও বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলনের কারণে স্থগিত হওয়া এইচএসসি ও সমমানের বাকি পরীক্ষা আর না দেওয়ার দাবিতে কয়েকদিন ধরে ঢাকাসহ সারাদেশে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের মুখে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে অবশিষ্ট বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়ার যে রুটিন প্রকাশ করা হয়েছিল, তা বাতিলে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা সচিব। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল অটোপাসের, তাই শুধু রুটিন বাতিল নয়, শিক্ষার্থীদের দাবি অনুকূলে আসবে বলে আশ্বস্ত করেছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আবুল বাশার।

সোমবার (১৯ আগস্ট) দিনভর ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে অবস্থান নেন পরীক্ষার্থীরা। তারা স্লোগানে স্লোগানে দাবি জানাতে থাকেন। দুপুরের দিকে বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানালে বিকেলে মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়া নতুন সিনিয়র সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ রুটিন বাতিল করতে বোর্ড চেয়ারম্যানকে মৌখিক নির্দেশনা দেন। এরপরই বোর্ড প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নতুন রুটিন বাতিল করার কথা জানান। আর অটো পাসের যে সিদ্ধান্ত সেটি প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দিতে পারেন বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আবুল বাশার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য যে রুটিন প্রকাশ করা হয়েছিল, তা শিক্ষা সচিব বাতিলের মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ রুটিন বাতিল করা হবে।

অটো পাস দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি আমার এখতিয়ারে নেই। প্রধান উপদেষ্টা তোমাদের এ বিষয়টি জেনেছেন। প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা, সচিবসহ সংশিষ্টরা আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের ঘোষণা দিবেন। শুধু রুটিন বাতিল নয়। তোমাদের আরও যেসব দাবিগুলো আছে, সেগুলোও লিখে আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। যতদূর জেনেছি, সিদ্ধান্ত তোমাদের অনুকূলে আসবে।’

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দেওয়া এমন আশ্বাসে উল্লাসে ফেটে পড়েন আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তারা জানান, প্রায় দেড় মাস ধরে তারা আন্দোলন করছেন। তাদের অনেক সহপাঠী আন্দোলন চলাকালে আহত হয়েছেন। অনেকে জেল খেটেছেন। এমন পরিস্থিতিতে তারা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই। এজন্য তারা এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে প্রমোশন চাইছেন।

জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার প্রতিদিনের চিত্রকে বলেন, মন্ত্রণালয়ে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো জানিয়েছিলাম। সেখান থেকে কিছু মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেটা নিয়ে আবার আগামীকাল মঙ্গলবার সভা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা, শিক্ষা সচিব, বোর্ড চেয়ারম্যানরা অংশ নিতে পারেন। সেখানেই সব কিছু চূড়ান্ত হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। রুটিন অনুযায়ী ৮ দিন পরীক্ষা হওয়ার পর কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ১৮ জুলাইয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এরপর আর তিন দফায় পরীক্ষা স্থগিত করে সরকার।

পরীক্ষা রুটিন অনুযায়ী, এখনো ১৩ দিনের বিভিন্ন বিভাগের (বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য) মোট ৬১টি বিষয়ের পরীক্ষা বাকি রয়েছে।  এরমধ্যে বাধ্যতামূলক বাংলা ও ইংরেজির চারটি বিষয় (প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র) সহ আইসিটি রয়েছে।  ৮টি বিষয় ঐচ্ছিক (অপশনাল)।

Ads