১২৬তম নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষ্যে দুইদিব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রথম দিন সম্পন্ন হয়েছে আজ
২৫ মে ২০২৫, ০৬:৫২ পিএম
ভাইস-চ্যান্সেলরের সাথে ইউজিসির চেয়ারম্যান
দ্রোহ ও সাম্যের উত্তরসূরী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দুই-দিনব্যাপী ১২৬তম নজরুল জয়ন্তী আয়োজন করেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রথম দিন সম্পন্ন হয়েছে আজ।
২৫ই মে (রবিবার) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে নজরুল ভাস্কর্যে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধোন করেন প্রধান অতিথি হিসেবে আগত ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর এস. এম. এ. ফায়েজ।
উদ্বোধনী শেষে গাহি সাম্যের গান মঞ্চে শুরু হয় আলোচনা সভা। এসময় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজ।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীম উদ্দীন খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদিন সিদ্দিকী, সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মো. মাহবুবুর রহমান,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য মো. জেহাদ উদ্দিন।
এসময় প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. এস. এম. এ. ফায়েজ বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর অল্প সময়ের মধ্যে এতো লিখা লিখেছেন যা বলে শেষ করার মতো নয়। মোরা বন্ধন-হীন জন্ম-স্বাধীন, চিত্ত মুক্ত শতদল কবির লিখা এমন লক্ষ লক্ষ লাইন রয়েছে। তিনি ছিলেন দ্রোহের কবি, সংগ্রামের কবি, সাম্যের কবি, প্রেমের কবি। তাঁর বিচরণ ছিল বাংলা সাহিত্যের সবখানে। কবি নজরুলের সেই সংগ্রামী আদর্শকে খুব ভালোভাবে ধারণ করে জুলাই আন্দোলনে আমাদের তরুণ প্রজন্ম নতুন একটি দেশ উপহার দিয়েছে। তারা অনেক রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে এই নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অর্থের জন্য ইউজিসির নিকট দাবি জানায়, আমরা অর্থাৎ ইউজিসি দাবি জানাই সরকারের কাছে আর সরকার বলছে সব অর্থ তো বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে।’
সভাপতির বক্তব্যে হিসেবে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ত্রিশালের সন্তান হিসেবেই সকলেই মনে করে। সেটার রিফ্লেকশন আমরা দেখতে পাই এই অঞ্চলে নজরুলের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্নে। ময়মনসিংহ তথা ত্রিশাল যেন নজরুলময় অঞ্চল।’ ‘নজরুল নিকেতন’ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়কে গড়ে তোলার আশাবাদ জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘কোলকাতায় যেমন বিশ্বভারতী, শান্তিনিকেতন হয়েছে আমরা সরকারের ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সহযোগিতায় এই নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়কে নজরুল নিকেতন হিসেবে যেন গড়ে তুলতে পারি, সেভাবে এগিয়ে যাব।’
আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা নচরুল জয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত বইমেলার উদ্বোধন করেন।
পরে দুপুর ২ টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলায় কনফারেন্স কক্ষে আন্তর্জাতিক নজরুল-বক্তৃতামালা-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের শিক্ষক, গবেষক ও নজরুল অনুরাগীরা এদিন পাঁচটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়া সন্ধ্যা সাতটায় ‘গাহি সাম্যের গান মঞ্চে’ আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত পরিবশনেরশনের মাধ্যমে নজরুল জয়ন্তীর প্রথম দিন সমাপ্ত হয়।































