কিডনি ভালো রাখতে যে খাবারগুলো খাবেন
১৫ অক্টোবর ২০১৫, ০২:৪৮ পিএম
প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক :: মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হল কিডনি। এটি মানব শরীরের রক্তকে পরিশোধিত করতে অত্যন্ত বেশি ভূমিকা রাখে। লালচে এই অঙ্গটি মানবদেহের শিড়দাঁড়ার পাশে এবং দেহের পেছনের অংশের মাঝামাঝিতে অবস্থিত।
কিডনির রোগ মানব দেহে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি করতে পারে। যা অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে আমরা আমাদের খাবারদাবারের ব্যাপারে একটু সচেতন হলে কিডনির সমস্যা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
লাল ক্যাপসিকাম :
লাল ক্যাপসিকামে রয়েছে কম মাত্রার পটাশিয়াম। এটি ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ-এর একটি ভালো উৎস। পাশাপাশি এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি সিক্স , ফলিক এসিড ও ফাইবার। রয়েছে লাইকোপেন, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা কিছু কিছু ক্যান্সারের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। রান্নায় এটি ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া সালাদ, স্ন্যাক ইত্যাদির মধ্যেও ব্যবহার করতে পারেন লাল ক্যাপসিকাম।
আপেল :
আপেল দেহের বাজে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কোষ্টকাঠিন্য প্রতিরোধ করে, হৃদরোগ থেকে সুরক্ষা দেয়, ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চমাত্রার আঁশ। রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটোরি গুণ, যা প্রদাহরোধে কার্যকর।
বাঁধাকপি :
বাঁধাকপিতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ভিটামিন কে, ভিটামিন সি এবং আঁশ। এটি ভিটামিন বি সিক্স এবং ফলিক এসিডেরও ভালো উৎস। এটি পরিচিত ক্যানসারের প্রতিরোধক হিসেবে। এটি হৃদযন্ত্রকেও ভালো রাখে।
ফুলকপি :
বাধাকপির মতো ফুলকপিও পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। ফুলকপির একটি বিশেষগুণ হলো এটি শরীর থেকে বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদান দূর করতে সহায়তা করে।
রসুন :
রসুন দাঁতের প্লাক তৈরি হওয়া রোধে সাহায্য করে। কোলেস্টেরল কমায় এবং দেহের প্রদাহ দূর করতে সাহায্য করে। এটি কিডনির জন্য বেশ উপকারী খাবার।
পেঁয়াজ :
এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনোয়েড রয়েছে। বিশেষ করে রয়েছে কুয়ারসেটিন। এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধেও এটি কাজ করে। পেঁয়াজের মধ্যে রয়েছে অল্প পরিমাণে পটাশিয়াম। এটি ক্রোমিয়ামের ভালো উৎস। মিনারেলস রয়েছে যা কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং চর্বির বিপাকে সাহায্য করে।
লাল আঙুর :
এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফ্লাভনয়েড, যা আপনার কিডনিকে রাখবে সদা তরুণ। এটি রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে এবং ক্যান্সার প্রতিরোধেও সাহায্য করে।
ডিমের সাদা অংশ :
আমরা অনেকেই স্বাস্থ্যে কথা চিন্তা করে ডিমকে খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেই। কিন্তু আপনি কি জানেন ডিমের সাদা অংশই হচ্ছে বিশুদ্ধ প্রোটিন, যা আপনার কিডনির জন্য খুবই দরকারী।
মাছ :
মাছকে বলা হয়ে থাকে নিরাপদ প্রোটিনের উৎস। দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে মাংসের চেয়ে মাছের ভূমিকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের পাশাপাশি মাছে রয়েছে ওমেগা৩ যা কিডনি, হার্ট এবং লিভারের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধী। এছাড়াও কোলেস্টেরল কমাতে এর ভূমিকা তো রয়েছেই।
অলিভ ওয়েল :
গবেষণায় দেখা গেছে যেসব দেশে অন্যান্য তেলের চেয়ে অলিভ ওয়েল বা জলপাই এর তেল ব্যবহার করা হয় সেসব দেশে কিডনি রোগ, হৃদরোগ, ক্যান্সার ইত্যাদি তুলনামূলক কম হয়। অলিভ ওয়েলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পলিফেনল যা এন্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে চমৎকার কাজ করে। রন্নায় অথবা সালাদে অলিভ ওয়েল ব্যবহার বাড়তি স্বাদ যোগ করে।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া































