হঠাত গিটার, টি-শার্ট ছুড়ে ফেলে দুই বোন আইএসে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৭ মে ২০১৬, ০৮:২২ পিএম


হঠাত গিটার, টি-শার্ট ছুড়ে ফেলে দুই বোন আইএসে

প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক :: রাহ্মার (১৮) ও ঘোফরান (১৭) দুই বোন ফুটফুটে দুই কিশোরী হঠাত টি-শার্ট ছুড়ে ফেলেছে, প্রিয় গিটারটাকে ফেলে দিয়েছে আবর্জনার ভাগাড়ে। কালো বোরখায় আপাদমস্তক ঢেকে আইএস ক্যাম্পে চলে গেছে তারা। হাজার চেষ্টাতেও আটকাতে পারেননি মা ওউলফা হামরোউনি।

সম্প্রতি মার্কিন পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাতকার ওই মা তার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন।

তিউনিসিয়ার রাজধানী টিউনিসের কাছেই একটা শহরে থাকেন এই ওউলফা হামরোউনি। এক সময় প্রাণোচ্ছ্বল ছিলেন। এখন পাথরের মতো। মুখে আর হাসি নেই। চোখেমুখে আতঙ্কের ছায়া আর অসহায়তা।

চার মেয়ের মা হামরোউনি এখন ছোট দুই মেয়েকে আগলে রেখেছেন বুকে। কিন্তু বুঝতে পারছেন না কত দিন আর আগলে রাখতে পারবেন। হাতের মুঠোয় যেন বালি ধরা রয়েছে। ক্রমশ বেরিয়ে যাচ্ছে ফাঁকফোকর গলে।

২০১৪ সাল থেকে তিউনিসিয়ায় আইএসের বাড়বাড়ন্ত শুরু। আফ্রিকার ছোট্ট দেশটা তার আগে পর্যন্ত দীর্ঘ দিন ছিল বেন আলির শাসনে।

২০১১ সালের টিউলিপ রেভলিউশনে বেন আলি ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে পালান। তিউনিসিয়ায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা গিয়েছে বলে উতসবে মাতে দেশ। তবে আচমকা কুড়িয়ে পাওয়া চোদ্দ আনার মতো মিলে যাওয়া গণতন্ত্রের জন্য তিউনিসিয়া খুব একটা প্রস্তুত ছিল না। অবাধে বাড়তে থাকে ধর্মীয় কট্টরবাদ। ২০১৪ সাল থেকে আইএসের গতিবিধি মোটামুটি অবাধ হয়ে গেছে দেশটিকে।

দুর্বল সরকার বহু চেষ্টাতেও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি কট্টরবাদী ইসলামি নেতাদের বাড়বাড়ন্ত। পুরুষরা তো বটেই, অল্পবয়সী মেয়েরাও সে সময় থেকেই দলে দলে নাম লেখাতে শুরু করে আইএসে। সে প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে বই কমছে না। কট্টরবাদের সম্পূর্ণ উল্টো মেরুতে বাস করত হামরোউনির দুই মেয়ে। রাহ্মা গিটার বাজাতে খুব ভালবাসত। বাজাতও ভাল। কিন্তু হঠাত সব পাল্টে গেল।

মায়ের কোনও কথা শোননি তারা। আইএস নেতারা বোঝাচ্ছিলেন, যোদ্ধাদের বিয়ে করে তাদের সন্তান ধারণ করা এবং জনসংখ্যা বাড়ানো মেয়েদের মহান দায়িত্ব।

সেই ডাকে সাড়া দিয়ে তিউনিসিয়ার আরও অনেক মেয়ের মতো রাহ্মা আর ঘোফরানও চলে যায় আইএস ক্যাম্পে।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

Ads