ভূমিকম্পে তিন দেশে দেড় শতাধিকেরও বেশি নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৭ অক্টোবর ২০১৫, ১২:৫৮ এএম


ভূমিকম্পে তিন দেশে দেড় শতাধিকেরও বেশি নিহত

প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক :: দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কমপক্ষে শতাধিক লোক নিহত হয়েছে। নিহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান পাকিস্তানেই সবচেয়ে বেশি। ৭.৫ মাত্রার এ ভূকম্পন দক্ষিণ এশিয়ার কিছু এলাকাকে কাঁপিয়ে গেল।

কয়েকটি বিশ্ব মিডিয়ায় বলা হয়েছে, শুধু পাকিস্তানে নিহত হয়েছে ১৩০জন, ১৯ জন নিহত হয়েছে আফগানিস্তানে এবং ভারতের হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে বলে জানা গেছে।

আজ সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর পৌনে ৩টার দিকে আফগানিস্তানের কাবুল এবং ভারতের নয়াদিল্লিতে  ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউএস জিওলজিকাল সার্ভে (ইউএসজিএস) প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটি রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার বলে জানিয়েছিল। পরে এটি সংশোধন করে ৭ দশমিক ৫ মাত্রা ছিল বলে জানায়।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন অনলাইন জানিয়েছে, ভূমিকম্পের প্রভাবে লাহোর, ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি, পেশোয়ার, কোয়েটা, কোহাত ও মালকান্দে কম্পন অনুভূত হয়েছে। কম্পনের স্থায়িত্বকাল ছিল ৪০ সেকেন্ড। তবে ৪০ মিনিট পরে এসব স্থানে আবারও ভূকম্পন অনুভূত হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের প্রভাবে জম্মু ও কাশ্মীর, পাঞ্জাব, দিল্লি, পাঞ্জাব, উত্তরাখন্ড ও রাজস্থানে কম্পন অনুভূত হয়েছে। সব এলাকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিভাবে জানা যায়নি। ডন অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল হিন্দু কুশ পার্বত্যাঞ্চলে।

ভূমিকম্পে পাকিস্তানের যেসব অঞ্চলে নিহত হয়েছে, তার মধ্যে সোয়াতে ছয়জন, বাজাউরে চারজন। ভবন ধসে পড়ায় এসব লোকের মৃত্যু হয়েছে। ডন অনলাইনের সবশেষ খবরে বলা হয়েছে, পেশোয়ার শহরে নিহত হয়েছে ১৮ জন এবং চিতরে নিহত হয়েছে ১৩ জন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

পাকিস্তানের কালার কাহারে আট বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। কাসুর অঞ্চলে ধসে পড়া দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের মিরপুর অঞ্চলে ইসলামগড়ে একটি স্কুলভবনের ছাদ ধসে পড়ে ১৪ বছরের একটি শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সারগোধায় দেয়াল চাপায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে নিহত হয়েছে দুজন।

আলজাজিরা অনলাইন জানিয়েছে, আফগানিস্তানের তাখার প্রদেশের একটি বালিকা বিদ্যালয়ের ১২ ছাত্রী নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটিতে এ পর্যন্ত ১৯ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

আহত ১৯৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। আহত শতাধিক লোককে পেশোয়ারের লেডি রিডিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ছাড়া পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিভ্রাট সৃষ্টি হয়।এতে প্রাণহানি ছাড়াও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

Ads