ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে জনবসতি পরিবারগুলো

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৫৩ এএম


ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে জনবসতি পরিবারগুলো

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।

 

বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া অতি প্রাচিন একটি নদ, নাম তার সর্বনাশা ব্রহ্মপুত্র। পানি বাড়ার সাথে সাথেই নদটি যেন তার সর্বনাশা রূপে গ্রাস করেছে বসত বাড়ি সহ বিভিন্ন স্থাপনা। নদের ভাঙ্গন রোধে প্রশাসনের উদাসীনতায় জনবসতি বিপন্ন।

 

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, জেলার মেলান্দহ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের ও ইসলামপুর  উপজেলা চরগোয়ালিনী ইউনিয়ন ডিগ্রি চর, বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া সর্বনাশা ব্রহ্মপুত্র নদ। প্রতি বছর নদের ভাঙ্গনের কবলে পড়ে গৃহহীন ও ভৃমিহীন হয়েছে শত শত পরিবার। আবার কেউ কেউ ছেড়েছেন নিজস্ব জন্মস্থান।নদটি ভাঙছে-তো ভাঙছে-ই। ভাঙ্গন রোধে নেওয়া হয়নি কোন স্থায়ী সমাধান। পানি বাড়ার সাথে সাথেই, ইউনিয়নের গোবিন্দী গ্রামে নদটি যেন তার সর্বনাশা রূপ ধারণ করেছে। গত কয়েক দিনে নদের এমন প্রবল ভাঙনে বিলিন হয়েছে চার পাঁচটি বসত ঘর, ঈদগাহ মাঠ, কলা বাগান, কাঠ বাগানসহ বেশ কয়েক একর ফসলী জমি। নদের গর্ভে বসত ঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিনাপাত করছেন তারা। সরকারি কোন সহায়তা জুটেনি ভাঙন কবলিতদের কপালে।

 

ভূক্তভোগী  ফারুক আলী বলেন, আমার এই বসত ভিটা-ই শেষ সম্বল ছিলো ।মনে হয় দুই-তিন দিনের মধ্যেই এই বসত ভিটা নদের গর্ভে চলে যাবে। বসত ঘর উঠানোর মতো ভিন্ন কোন জমিও নেই আমার। পরিবার নিয়ে হয়তো কোন রাস্তার পার্শ্বে আশ্রয় নিতে হবে।

 

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে সাবেক সদস্য আহাজউদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদটি ভাঙছে তো ভাঙছেই। এ বছরের ভাঙনে চার পাঁচটি বসত ঘর ইতিমধ্যেই নদের গর্ভে চলে গেছে। অবশিষ্ঠ গ্রামটি রক্ষায় প্রশাসনের দোয়ারে দোয়ারে ঘুরেছি। প্রশাসনের কোন সহায়তা পাইনি। এবার যে ভাবে নদটি ভাঙছে মনে হয়না গ্রামটি রক্ষা পাবে। নদের ভাঙন রোধে প্রশাসনের এমন উদাসীনতায় দিশেহারা আমরা।

 

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মুর্শেদা জামান বলেন,নদটির আবার নতুন করে ভাঙ্গন সম্পর্কে আমি অবহিত নয়। তবে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়ে অনতিবিলম্বে প্রয়োজনিয় ব্যাবস্থা নিবো।

 

নদটি ভাঙ্গন রোধে প্রশাসন কি ব্যাবস্থা নিবে না,না নিবে তা স্থানিয়রা জানেন না। ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গন থেকে অবশিষ্ঠ গ্রামটির পরিপূর্ণ মুক্তি কবে মিলবে এমন প্রশ্ন তাদের।

Ads