শেরপুরে ৬১ ইটভাটার ৫৮টি অবৈধ
৩১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:১৫ পিএম
শেরপুরে ৬১ ইটভাটার ৫৮টি অবৈধ।
শেরপুরে মোট ৬১টি ইটভাটার মধ্যে ৫৮টিই অবৈধ। এগুলোর কোনোটিরই পরিবেশ ছাড়পত্র ও প্রশাসনের অনুমোদন নেই। জেলার শ্রীবরদী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৬টি ইটভাটাকে ১৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জরিমানা করা ইটভাটাগুলো হলো আল আমিন-১ ও ২ ব্রিকসকে ৭ লাখ টাকা, ফাতেমা ব্রিকসকে ৩ লাখ, জনতা ব্রিকসকে ২ লাখ, মনিরা ব্রিকসকে ৩ লাখ ও একতা ব্রিকসকে ৩ লাখ টাকা। অভিযানে দুটি ইটভাটার আংশিক ভেঙে দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রুবেল মাহমুদ বলেন, ইটভাটা স্থাপন আইন ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর ৪ ধারা মোতাবেক ইটভাটা স্থাপনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু জরিমানা করা ইটভাটাগুলোর পরিবেশের ছাড়পত্র ও লাইসেন্স হালনাগাদ নেই।
জানা গেছে, জেলায় অবৈধভাবে চলছে ৫৮টি ইটভাটা। এসব ইটভাটা নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র স্থাপন করা হয়েছে। এমনকি ইটভাটার আশপাশের দুই/তিন ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে তৈরি করা হচ্ছে ইট। এ ছাড়া কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানোর কথা থাকলেও অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন ইটভাটা স্থাপনের লাইসেন্স দিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত অনাবাদি জমি, নিচু জলাশয়ের ধারে, নদীর পাশে, পৌর শহর ও আবাসিক এলাকার কমপক্ষে চারদিকে এক কিলোমিটার দূরে জনশূন্য এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের নির্দেশনা রয়েছে।
কয়েকজন ইটভাটার মালিক জানান, তাঁরা বৈধভাবেই ব্যবসা করতে চান। ইটভাটার ছাড়পত্রের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে তাঁরা আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু অনুমোদনের সব শর্ত পূরণ করা সম্ভব না হওয়ায় সেগুলো আটকে আছে।
শেরপুরের পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, জেলার অবৈধ ইটভাটাগুলোর মধ্যে ছয়টিতে অভিযান চালিয়ে ১৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শেরপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাহেলা আক্তার প্রতিদিনের চিত্রকে বলেন, ইতিমধ্যে জেলার অবৈধ ইটভাটাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। নীতিমালা অনুসরণ করে এগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


















