৭৩-এ পা, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বেগম জিয়ার
১৫ আগস্ট ২০১৭, ০৫:৩৪ পিএম
সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের পত্নী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৭৩তম জন্ম দিন আজ । ১৯৪৫ সালের এই দিনে জন্ম গ্রহণ করেন এই রাজনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশের প্রথম ও মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী।
তিন বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ভাইয়েরা সবার ছোট। তার পিতামহ হাজী সালামত আলী, মাতামহ তোয়াবুর রহমান। আদি পিতৃ-ভিটা ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ী। বাবা ইস্কান্দর মজুমদার ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। ইস্কান্দর মজুমদার ১৯১৯ সালে ফেনী থেকে জলপাইগুড়ি যান। বোনের বাসায় থেকে মেট্রিক পাস করেন ও পরে ব্যবসায়ে জড়িত হন। ১৯৩৭ সালে জলপাইগুড়িতে বিয়ে করেন। জল্পাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকায় ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বসবাস করেন। পরে দেশের ফিরে উত্তরাঞ্চলের জেলা দিনাজপুর শহরের মুদিপাড়া বসবাস শুরু করেন। ১৯৮৪ সালের ১৫ নভেম্বর ইন্তেকাল করেন। মা বেগম তৈয়বা মজুমদার ছিলেন একজন গৃহিনী। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গেই থাকতেন।
তার এক ভাই মেজর (অবঃ) সাইদ ইস্কান্দার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে ফেনী-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান। তার কনিষ্ঠ ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি মালায়া হাসপাতালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। আরাফাত রহমান একজন ব্যবসায়ী ছাড়াও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও সিটি ক্লাবের সাথে যুক্ত ছিলেন।
১৯৬০ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন। এরপর ১৯৬৫ সালে খালেদা জিয়া স্বামীর সাথে পশ্চিম পাকিস্তানে (বর্তমানে পাকিস্তান)যান। ১৯৬৯ সালের মার্চ পর্যন্ত করাচিতে স্বামীর সাথে ছিলেন। এরপর ঢাকায় চলে আসেন। কিছুদিন জয়দেবপুর থাকার পর চট্টগ্রামে স্বামীর পোস্টিং হলে তার সঙ্গে সেখানে এবং চট্টগ্রামের ষোলশহর একালায় বসবাস করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে খালেদা জিয়া কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর ১৬ মে নৌপথে ঢাকায় চলে আসেন। বড় বোন খুরশিদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন পর্যন্ত থাকেন। ২ জুলাই সিদ্ধেশরীতে এস আব্দুল্লাহর বাসা থেকে পাক সেনারা তাকে দুই ছেলে সহ বন্দী করে। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দী ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তিনি মুক্তি পান। রাজনীতিতে আসার আগ পর্যন্ত বেগম জিয়া একজন সাধারণ গৃহবধু ছিলেন। মূলতঃ দুই পুত্রকে লালন পালন ও ঘরের কাজ করেই সময় কাটাতেন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীনও রাজনীতিতে বেগম জিয়ার উপস্থিতি ছিল না।
১৯৮১ সালের ৩০ মে এক ব্যর্থ সামরিক অভুত্থ্যানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। এরপর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মিদের আহ্ববানে তিনি ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান লেফটেনেন্ট জেনারেল এরশাদ বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। বেগম জিয়া এর বিরোধিতা করেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। ১৯৮৩ সালের ১ এপ্রিল দলের বর্ধিত সভায় তিনি প্রথম বক্তৃতা করেন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে পার্টির চেয়ারপারসন নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বেই মূলতঃ বিএনপির পূর্ণ বিকাশ হয়।
১৯৮৩ সালের বেগম জিয়ার নেতৃত্বে সাত দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়। একই সময় এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। বেগম জিয়া প্রথমে বিএনপিকে নিয়ে ১৯৮৩ এর সেপ্টেম্বর থেকে ৭ দলীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন। একই সময় তার নেতৃত্বে সাত দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন পনের দলের সাথে যৌথভাবে আন্দোলনের কর্মসূচী শুরু করে। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত পাঁচ দফা আন্দোলন চলতে থাকে। কিন্তু ১৯৮৬ সালের ২১ মার্চ রাতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে বাঁধার সৃষ্টি হয়। ১৫ দল ভেঙ্গে ৮ দল ও ৫ দল হয়। ৮ দল নির্বাচনে যায়। এরপর বেগম জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দল, পাঁচ দলীয় ঐক্যজোট আন্দোলন চালায় এবং নির্বাচন প্রত্যাখান করে।
১৯৮৭ সাল থেকে খালেদা জিয়া ‘এরশাদ হটাও’ এক দফার আন্দোলন শুরু করেন। এর ফলে এরশাদ সংসদ ভেঙ্গে দেন। পুনরায় শুরু হয় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। অবশেষে দীর্ঘ আট বছর একটানা নিরলস ও আপোসহীন সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়া মোট পাঁচটি আসনে অংশ নিয়ে পাঁচটিতেই জয়লাভ করেন। এরপর আরো দুবার তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেবার পর থেকে মোট চার বার তিনি গ্রেপ্তার হন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর গ্রেফপ্তার হন।
সর্বশেষ তিনি ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দূর্নীতির অভিযোগে পুত্রসহ গ্রেপ্তার হন।২০০৮ সালের ১১সেপ্টেম্বার তিনি হাইকোর্টের নির্দেশে মুক্তিলাভ করেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক গ্রেপ্তার হবার পর দীর্ঘ এক বছর সাত দিন কারাগারে অবস্থানকালে তার বিরুদ্ধে চলতে থাকা কোন মামলারই উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি এবং চলতে থাকা তদন্তে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি।
১৩ নভেম্বর ২০১০ বেগম জিয়াকে তার ৪০ বছরের আবাসস্থল ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন তাকে বলপ্রয়োগে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তবে সরকারি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তিনি স্বেচ্ছায় বাসা ত্যাগ করেছেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল হিসেবে জিয়াউর রহমানের সাথে শহীদ মইনুল সড়কের ৬ নম্বর বাড়িতে ওঠেন খালেদা জিয়া। ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়া চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যূত্থানে নিহত হলে ১২ জুন তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার সেনানিবাসের ওই বাড়িটি খালেদার নামে বরাদ্দ দেন।
বিধবা হয়েছেন ৩৬ বছর বয়সেই। অবুঝ দুই ছেলেকে নিয়ে পথচলা শুরু। এরপর নিয়তির ডাকেই রাজনীতিতে আসা। দলে স্বামীর শূন্যতা পূরণে নেতানেত্রীদের পীড়াপিড়িতেই আশির দশকের গেড়ার দিকে অনেকটা হঠাৎ করেই রাজনীতির মাঠে আসেন। একদিকে অবুঝ দুই শিশু সন্তান নিয়ে ঘর-সংসার; অন্যদিকে স্বামীর হত্যাকারী জেনারেল এরশাদকে উৎখাতে মাঠের রাজনীতি। এরপরও এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বেগম জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্বেই ’৯০-এর পটপরিবর্তন ঘটে। দল সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হওয়ার পরও জিয়ার ইমেজ আর তার আপোষহীন অসাধারণ নেতৃত্বের আকৃষ্ট হয়ে মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে। এরপর আরো দুইবার ক্ষমতায় বসেন বেগম জিয়া।
সাংবাদিক মাহফুজ আনামের ভাষায় সেই সময়টা খালেদা জিয়ার জীবনের ‘শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত’। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময়টি যদি বেগম খালেদা জিয়ার জীবনে ‘শ্রেষ্ঠ সময়’ হয়ে থাকে তবে পরবর্তীতে শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনটি তার জীবনের সবচেয়ে ‘অন্ধকার সময়’। আপোসহীন নেত্রী হিসেবে পরিচিতি খালেদা জিয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে স্বাধীনভাবে চিন্তার মাধ্যমে পরিস্থিতির মূল্যায়ন, দ্রুত সমন্বয় এবং বুদ্ধিদীপ্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে ব্যর্থ হন। এর শুরুটা হয় ২০০৮ এর নির্বাচনকে দিয়ে। ওই নির্বাচনের পরাজয়কে জনগণের রায় হিসেবে না মেনে তাকে তথাকথিত ‘১/১১ সরকারের’ মেকানিজম হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
১৯৮১ থেকে ২০১৭ এই ৩৭ বছরে অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়েছে জিয়া পরিবারকে। চড়াই-উৎরাই পার করতে হয়েছে তাকে। এরশাদের শাসনামলে ’৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় তাকে চরম জুলুম-নির্যাতন সহ্য করতে হয়। অতঃপর ২০০৭ সালের ১/১১ রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিনের সময় তাকে কারাগারে যেতে হয়। দুই ছেলেকেও পাঠানো হয় কারাগারে। ছেলেদের উপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন।
এরপরও খালেদা জিয়া এমন একজন রাজনীতিক। কখনো ক্ষমতায় থেকেছেন আবার কখনো বিরোধী দলে থেকেছেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি রাষ্ট্রীয় কোনো পদে নেই, নেই সংসদেও। না থাকলে কী হলো, দেশের জনপ্রিয় দলগুলোর অন্যতম বিএনপির চেয়ারপার্সন ও ২০ দলীয় জোটনেত্রী। দেশের মানুষের ‘ভোটের অধিকার’ আদায়ের দাবিতে তার নেতৃত্বে চলছে ১০ বছর ধরে আন্দোলন। মূলত জনগণকে ঘিরেই তার সব কিছু।
সরকার বিরোধী আন্দালনের মধ্যেই গেল ২৫ জানুয়ারি ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো নির্বাসনে থাকাবস্থায় মারা যান। লাখো মানুষের শ্রদ্ধা-ভালবাসায় ২৭ জানুয়ারি লাশ দাফন করা হয়। আর বড় ছেলে তারেক রহমান সেই ২০০৮ সাল থেকেই স্বপরিবারে নির্বাসনে রয়েছেন। ২০১০ সালের মে মাসে ৪০ বছরের স্বামীর স্মৃতি বিজরিত বাড়ি ছাড়া হয়ে উঠেছেন ভাড়া বাসায়। এখানেই শেষ নয়, খালেদা জিয়া, তার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোর বিরুদ্ধে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে শতাধিক মামলা। কোকোর মৃত্যুর পর তার নাবালিকা দুই কন্যাকেও মামলার আসামি করা হয়েছে। এগুলো অবশ্য জিয়ার পরিবারের জন্য নতুন কোনো কিছু নয়।
গত ১৫ জুলাই খালেদা জিয়া লন্ডন সফরে গেছেন। এ নিয়ে সরকারি মহলে টেনশন সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাজনীতিতে দলের সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিচক্ষণতা ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পর্কে কমবেশি সবাই অবগত। ফলে জাতীয় নির্বাচনের আগে তার সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাতটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এতে যেমন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি থাকছে, তেমনি দলের সারাদেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও এর মাধ্যমে উজ্জীবিত হবেন। ফলে মা-ছেলে মিলে আগামী দিনের জন্য কী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন সেদিকেই সবার দৃষ্টি।
বিভিন্ন সূত্রে যতদূর জানা যাচ্ছে তাতে, বিএনপির কোনো পক্ষেরই কথায় আর কান দিচ্ছেন না বেগম জিয়া। নিজের বুদ্ধিতে পথ চলার চেষ্টা করছেন। দেশে না ফেরার বিষয়ে এ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি তিনি। আরো কিছুদিন লন্ডনে অবস্থান করে কবে ফিরবেন সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে এমনটিই জানা যাচ্ছে। তবে রাজনীতিতে এ নিয়ে কৌতূহল অনেক। দলের নেতাকর্মী ও শুভাকাকাঙ্ক্ষীরা অধীর আগ্রহে বেগম জিয়ার দেশে ফেরার অপেক্ষা করছেন। তার অনুপস্থিতিতে তৃণমূলে দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায়ও কিছুটা ভাটা পড়েছে।
দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর সমর্থন ধরে রেখে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নেতৃত্ব দিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ায় বেগম জিয়ার বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ আন্দোলনের ফল ঘরে তুলতে হলে তাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। এতে সরকার ও বুদ্ধিজীবীরা যাই বলুক না কেন। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিজয়ী হলে সব কিছুই একদিন মুছে যাবে। ফলে দল এবং দেশের স্বার্থেই খালেদা জিয়াকে এখন বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে এগুতে হবে। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আগামী দিনে তিনি কোন পথে হাঁটেন সেটাই এখন দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী। তাই এখন দেখার বিষয় তিনি কতটা বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারেন।
এদিকে আজ বেগম খালেদা জিয়ার ৭২তম জন্মবার্ষিকী, ৭৩তম জন্মদিন। এ উপলক্ষ্যে দেশে কোনো ধরনের কর্মসূচি নেয়নি বিএনপি। অনেকটা সাদামাটাভাবেই দিনটি অতিবাহিত করবে দলটি।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম দিন উপলক্ষে কোনো কর্মসূচিই নেয়া হয়নি। তবে সিদ্ধান্ত নেয়া হলে অবশ্যই জানানো হবে।
এছাড়া একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে দলের অঙ্গসংগঠনগুলোকে কেক না কাটার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
দলটির সিনিয়র নেতারা মনে করেন, বিষয়টি নিয়ে রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়াক, সংঘাত বাড়ুক তা চায় না বিএনপি। ফলে ঘরোয়া পরিবেশেও কেক না কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৭৩তম জন্ম দিন পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মালশিয়া বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. মামুন জানিয়েছেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের ৭৩তম জন্ম দিন উপলক্ষে ৭৩ পাউন্ডের কেক কাটবেন তারা। এছাড়াও আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের মতো এবারো প্রথম প্রহরে কেক কাটা থেকে বিরত থাকে বিএনপি। তবে জন্মদিন উপলক্ষে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। চেয়ারপারসন দেশে না থাকায় জন্মদিন পালন নিয়ে নেতাকর্র্মীদের মধ্যেও ততটা আগ্রহ নেই। তবে লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকায় যুক্তরাজ্যে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন এবার গুরুত্ব দিয়েই চেয়ারপারসনের জন্মদিন পালন করবে বলে জানা গেছে। এ উপলক্ষে কেক কাটাসহ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ আরটিএনএনকে বলেন, উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি। দেশের মানুষ ভালো নেই। এছাড়া চেয়ারপারসনও চিকিৎসাধীন আছেন। এমন পরিস্থিতিতে এবার জন্মদিন বিশেষভাবে পালন না করে তার আরোগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্র থেকে এমন নির্দেশনা না থাকলেও সারা দেশেই তার সুস্থতা কামনা করে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির মতো বড় দলে লাখ লাখ নেতাকর্মী-সমর্থক-ভক্ত রয়েছেন। চেয়ারপারসন কখনও নিজ উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে জন্মদিন পালন করেন না। এমনকি দিনটি পালন করতে কাউকে উৎসাহও দেন না। এটা নেতাকর্মীদের অনুভূতির ব্যাপার।
লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির এক নেতা জানান, চেয়ারপারসনের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কেক কাটার কোনো সম্ভাবনা নেই। ৮ আগস্ট তার চোখে অস্ত্রোপচার হয়। বড় ছেলে তারেক রহমান, দুই পুত্রবধূ ও নাতনিরা ঘরোয়াভাবে জন্মদিন পালন করতে পারেন। যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদ যুগান্তরকে বলেন, আমরা নিজ উদ্যোগে চেয়ারপারসনের জন্মদিন পালন করব। কেকও কাটা হবে।
প্রসঙ্গত, ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী। শোকের এ দিনে জন্মদিন পালন করায় নানান মহল থেকে সমালোচনা করা হয়। এদিন জন্মদিন পালন না করতে বিভিন্ন মহল থেকে অনুরোধ জানানো হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর কেক না কেটেই জন্মদিন পালন করা হয়। এতে সব মহলের প্রশংসা পান খালেদা জিয়া।


























