মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি: নাহিদ
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন। ‘বিএনপি সরকার কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন পাস, বিরোধী মত দমন ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে’ এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার এমন কিছু আইন ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে, যেগুলো মানবাধিকার হরণের সুযোগ তৈরি করছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠন করে এনসিপি ও বিরোধী দলকে টার্গেট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ের দুর্নীতি ও অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা যে গণঅভ্যুত্থান করেছিলাম, যে লড়াই করেছিলাম দেশের মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য, সেই গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার এখনো এই দেশে নিশ্চিত হয়নি।’
মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, পাঁচ মাস ধরে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় গেলে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং পরে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেওয়া হলেও সেখানে কোস্টগার্ডের নাম উল্লেখ করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এনসিপির নেতা গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করারও সমালোচনা করেন নাহিদ। তিনি বলেন, সরকারপ্রধানকে নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি দল সমর্থন করেনি এবং এ ঘটনায় দলীয়ভাবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধেও একই আইনে মামলা করার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গালি দেওয়া, কথা বলা বা মিম তৈরি করাকে সন্ত্রাস হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এ ধরনের আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হবিগঞ্জে ছাত্রশক্তির কর্মী আলিফের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ বলেন, বিরোধী দল ও ভিন্নমতের মানুষের ওপর দমন-পীড়ন শুরু হয়েছে। এ সময় তিনি আলিফের চোখে গুরুতর আঘাতের অভিযোগও তুলে ধরেন।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী নিয়েও আপত্তি জানান এনসিপির আহ্বায়ক। তার দাবি, গুমের অভিযোগের তদন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে হলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। পাশাপাশি অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীকে শাস্তির বিধান রাখা হলে মানুষ অভিযোগ করতে ভয় পেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপির বহু নেতাকর্মী অতীতে গুম হয়েছেন। বিরোধীদলে থাকার সময় বিএনপি এসব ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করলেও বর্তমানে সরকারে এসে জাতীয় পর্যায়েও তদন্ত হতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মানবাধিকার কমিশনকে ‘সরকারি মানবাধিকার কমিশনে’ পরিণত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ। গুমের ঘটনাগুলোর তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
জাতিসংঘে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপির নেতারা গত ১৬ বছর জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের কাছে গেছেন। এখন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারা কী জবাব দেবেন, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আপনি সেখানে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। আপনি সেখানে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন না। ভালো হতো, যদি জাতীয় ঐক্য আপনি দেখাতে পারতেন।’
সরকার তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
মানববন্ধন থেকে গুমের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীর মাধ্যমে মতপ্রকাশের অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে এই আইনগুলো আপনারা সংশোধন করেন, সঠিকভাবে যাতে গুমের তদন্ত হয়, মানবাধিকার কমিশন যাতে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে পারে এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের নামে যে সংশোধন আনা হচ্ছে, সে আইনের সংশোধনের নামে যাতে কোনোভাবেই মতপ্রকাশের অধিকার হরণ না করা হয়।’


























