ক্রসফায়ারে নিহতরা প্রকৃত জঙ্গি কিনা, প্রশ্ন খালেদার

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০৫:০৭ পিএম


ক্রসফায়ারে নিহতরা প্রকৃত জঙ্গি কিনা, প্রশ্ন খালেদার

।। প্রতিদিনের চিত্র ডেস্ক ।। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘ক্রসফায়ারে নিহতরা প্রকৃত জঙ্গি কিনা তা প্রশ্নবিদ্ধ। এরা সত্যিকারের জঙ্গি কিনা, জানি না। কারণ, এই অবৈধ সরকার কিছু দিন পর পর জঙ্গি জঙ্গি বলে দুয়ো তুললেও এখন পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় কোনো জঙ্গিকে ধরতে পারেনি।’

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ৩৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে যাদের ধরা হচ্ছে তারা আসলেই জঙ্গি কীনা? জঙ্গিদের জীবিত ধরা হচ্ছে না কেন? জঙ্গিদের জীবিত ধরে তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য বের করার আগেই মেরে ফেলার নেপথ্যে রহস্য আছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে প্রথম জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছিলো। যশোরের উদীচি, সিপিবির মিটিংয়ে, রমনার বটমুলে, গোপালগঞ্জসহ অন্যত্র হামলা হয়েছিলো। কিন্তু ওই সব ঘটনায় কোনো জঙ্গি ধরা পড়েনি।’

বিএনপি সরকারে আসার পর সেসব জঙ্গিদের ধরা হয়েছে দাবি করে তিনি আরো বলেন, ‘জেএমবিকে, হরকাতুল জিহাদকে নিষিদ্ধ করেছি। বাংলা ভাই, শায়খ আবদুর রহমান.. এদের জীবিত ধরেছি। জীবিত ধরার কারন, তাদের কাছ থেকে সব তথ্য বের করা।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু এই সরকার কিছু দিন পরপর জঙ্গি ধোয়া তোলে। অমুক জায়গায় জঙ্গি আছে, এতোজন জঙ্গি পাওয়া গেছে…সত্যিকারের জঙ্গি কীনা, জানি না। কিছুলোক তাদের ধরা থাকে। এরা দীর্ঘদিন না খেতে খেতে, রেখে রেখে দাড়ি-চুল এতো বড় হয় যে বিদঘুটে একটি চেহারা হয়ে যায়। তারপর তাদেরকে জঙ্গি বলে সামনে নিয়ে আসে। আর পুলিশের গতানুগতিক কিছু আছে, অস্ত্রটস্ত্র সাজিয়ে নিয়ে এসে বলে এরা জেএমপি, হরকাতুল জিহাদ। তারা এই করেছে, সেই করেছে।’

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন পরে দেখা যায়, যাদের ধরা হয়েছে তাদের কাছ থেকে কি তথ্য পেয়েছে তা প্রকাশ হয়না। গুলি করে তাদের মেরে ফেলা হয়। কেন? এখানে তো আইন আছে, আদালত আছে। তারা জিজ্ঞেসাবাদ করবে। আদালত যা সাজা হয় তাই হবে। গুলি করে মারার রহস্য কি? রহস্য কিছু একটি আছে।’

দেশে বিচার বলতে কিছু নেই মন্তব্য করে বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘যেখানে ন্যায়বিচার থাকেনা, গণতন্ত্র বলতে কিছু থাকেনা; সেখানে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে।’

দেশের সম্প্রতি বন্যা পরিস্থিতির জন্য ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এর প্রতিবাদ করতে হবে। বন্ধু বলে এদের কিছু বলা যাবেনা, তা হয়না। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে হবে। আলোচনা হতে হবে। একজন বন্ধু আরেক বন্ধু সমমর্যার ভিত্তিতে সহায়তা করবে। তারা যদি মনে করে, তাদের মাথা উচু থাকবে আর আমাদের নিচু থাকবে; সেটি বন্ধুত্ব হয়না। নিজেদের প্রাপ্যতা আদায় করে নেওয়া উচিত।’

এ সময় ফারাক্কা বাঁধেরও কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপি নেত্রী।

বক্তব্যের পূর্বে খালেদা জিয়া বিএনপির অফিসিয়াল অয়েবসাইট, ফেসবুক পেইজ, টুইটার, ব্লগ এবং নিজের নামে টুইটার উদ্ধোবধন করেন।

Ads