পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন সৈয়দ আশরাফ

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

২৮ অক্টোবর ২০১৬, ০৩:৩৩ এএম


পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন সৈয়দ আশরাফ

উত্তেজনা আর চমক পূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যে ২৩ অক্টোবর একটি নামের ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করছিলেন দলীয় সকল নেতা কর্মীরা। ঘোষণা হয় তো হয়না আর এর পরই হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন সবাই। কারণ তারা দুঃসময়ের এক কাণ্ডারিকে স্ব-পদ থেকে হাসি মুখে বিদায় নিতে দেখে নিজেদের সংবরন করতে পারিনি।

বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহচর ও সাবেক রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের যোগ্য সন্তান সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলের সিদ্ধান্তে সানন্দে তার পদটি তুলে দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের হাতে। প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে সবার উদ্দেশ্যে বললেন, আশরাফ আমার ছোট ভাইয়ের মত। প্রধানমন্ত্রীর স্নেহমাখা এমন বক্তের পরও চোখের জল আটকে রাখতে পারেনি দল প্রিয় নেতা-কর্মীরা। তারা এই নেতাকেে ঐ উপযুক্ত স্থানেই পূর্ণবহাল দেখতে চায়।

আওয়ামী লীগের ২০ তম সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফ বিদায়ী ভাষণে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দলই নয়, হাজার হাজার নেতা-কর্মী, জাতির পিতা ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের অনুভূতি। বঙ্গবন্ধু কন্যা পিতৃহারা। আমিও হারিয়েছে আমার পিতাকে। কোনো ষড়যন্ত্র এই দলকে ধ্বংস করতে পারবে না। আবেগঘন কণ্ঠে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক যখন বঙ্গবন্ধু হত্যা, জাতীয় চার নেতা হত্যাসহ আওয়ামী লীগের সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরেন, সম্মেলন স্থলে তখন নিস্তব্ধতা নেমে আসে। শেখ হাসিনাসহ মঞ্চে উপস্থিত সবার চোখ ছলছল করে ওঠে। মঞ্চে বসে নিজের অজান্তেই কেঁদেছেন প্রধানমন্ত্রী।

মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির জন্য নেতা-কর্মীদের কাছে নন্দিত। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তাকে ঘিরে ছিল অনেক আগ্রহ ও গুঞ্জন। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সৈয়দ আশরাফের স্থানে চমক হিসেবে আসে ওবায়দুল কাদের। আর সেই সম্মেলনেই আশরাফকে সু বার্তার ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী। এর একটু পর বিদায়ী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশরাফ আমার ভাই, আমি তাকে ছোট ভাইয়ের মত দেখি।

আওয়ামী লীগের কাউন্সিল শেষ হওয়ার পরে নীরবেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন সৈয়দ আশরাফ। উপস্থিত সাংবাদিকরা কমিটি গঠন নিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলেও তিনি সংবাদ মাধ্যমকে এড়িয়ে যান। তার এ নীরবতাও অনেক জল্পনার সৃষ্টি করে। জল্পনার বিষয় ছিল, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য থেকে আগামী বছরেই সৈয়দ আশরাফ দেশের রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন। দলের কয়েক জন শীর্ষ নেতা তখনই গণমাধ্যমকে এ ইঙ্গিত দেন।

খুব দ্রুত সৈয়দ আশরাফ চমক দেখতে পাবেন দেশের জনগন। তিনি হেফাজতে ইসলাম ও বিএনপি’র আন্দোলন রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার যথেষ্ট ভুমিকা রেখেছেন। জাতীয় নির্বাচনেও নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে তার দক্ষতায় আস্থা রাখেন বঙ্গবন্ধু কন্যা ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। দল যখন বেকায়দায় থাকে অর্থাৎ কঠিন সময়ে তার কথায় আসে সমাধান। যত বাধাই আসুক, বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে। জঙ্গিবাদ দূরের কথা, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ‘জ’ও থাকবে না।’জাসদ থেকে মন্ত্রী করার প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে আওয়ামী লীগকে। চরম সত্য কিছু বাণী সময়ের আলোকে উচ্চারণ সব সময় থাকেন সবার হৃদয়জুড়ে।

দলীয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন ২০১২ সালের ২১ই মার্চ। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী বছরের ২০ মার্চ। আর হাতে আছে ৫ মাস । চার মাস আগেই চূড়ান্ত করতে হবে কে হবেন রাষ্ট্রপতি। আর এ বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এ নিয়ে ভাবছেন না। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার ওপরই ছেড়ে দেবেন।

দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাকে পাচ্ছেন কিছুদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে জনগনকে।

Ads