চসিক নির্বাচন ও মনজুর আলম: চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ

নয়ন তারা

১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম


চসিক নির্বাচন ও মনজুর আলম: চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নয়া সমীকরণ

 

ট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমকে ঘিরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেব্যাপী রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের আসন্ন সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক নতুন এক রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলী এলাকায় মনজুর আলমের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও জুলাই আন্দোলনের কর্মীরা ওই বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহকে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে মনজুর আলমকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, যার ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

মনজুর আলমকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলছে। ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন চসিক নির্বাচনে বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের বিপরীতে মনজুর আলম এনসিপির হয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। যদিও মনজুর আলম ব্যক্তিগতভাবে এই গুঞ্জন অস্বীকার করে বিষয়টিকে কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে মনজুর আলম এক ‘রহস্যময় ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং প্রয়াত নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর শিষ্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ২০১০ সালের নির্বাচনে বিএনপির সমর্থনে তিনি তার ‘রাজনৈতিক গুরু’ মহিউদ্দিন চৌধুরীকেই পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি রাজনীতিতে কিছুটা নিষ্ক্রিয় থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার ফেরা চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন ‘ট্রাম্প কার্ড’ হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমান মেয়র শাহাদাত হোসেন ইতিমধেই তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। এই পরিস্থিতিতে মনজুর আলমের সম্ভাব্য প্রার্থিতা চট্টগ্রামের ভোটের মাঠের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। একদিকে তার নিজস্ব ভোটব্যাংক ও ক্লিন ইমেজ, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—উভয় শিবিরের সাথেই অতীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে বিশেষ অবস্থানে রেখেছে।

মনজুর আলমের বাসভবনে হাসনাত আবদুল্লাহর আগমন এবং ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন তর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি শেষ পর্যন্ত এনসিপি বা অন্য কোনো মোর্চায় যোগ দিয়ে নির্বাচনে অবতীর্ণ হবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তার এই সক্রিয়তা মনে করিয়ে দেয়, ২০২৬ সালের চসিক নির্বাচন কেবল দুই দলের লড়াই নয়, বরং চট্টগ্রামের স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরি হতে যাচ্ছে।

 

Ads