ঋণখেলাপিরা কীভাবে সংসদে আসে, প্রশ্ন তুললেন হাসনাত আবদুল্লাহ
২৬ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
জাতীয় সংসদে ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের আইনি ফাঁকফোকর ও সুযোগ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। সংসদ অধিবেশনে অংশ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের ব্যাংক খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎকারী ঋণখেলাপিরা ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় বা কার প্রশ্রয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার এবং জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পায়।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইন অনুযায়ী ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আদালতের নানা নির্দেশনা বা স্থগিতাদেশের আড়ালে নিজেদের ‘খেলাপি’ তালিকা থেকে সাময়িকভাবে আড়াল করে অনেকেই পার পেয়ে যাচ্ছেন। এটি দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য বড় একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন। তিনি দাবি করেন, কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার পর যদি তার ঋণখেলাপির বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তবে সরাসরি তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করার কঠোর নিয়ম থাকা উচিত।
হাসনাত আবদুল্লাহর এই তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বর্তমান সংসদ সদস্যদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত। বর্তমানে সংসদ সদস্য এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। তবে আইনি জটিলতা এবং আদালতের নানা নির্দেশনার কারণে এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকার খেলাপি ঋণকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘খেলাপি’ হিসেবে দেখানো সম্ভব হচ্ছে না।
এর আগে, দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের একটি তালিকাও সংসদে প্রকাশ করা হয়। দেশের ব্যাংক খাতকে সুশৃঙ্খল এবং সাধারণ মানুষের আমানত সুরক্ষিত করতে খেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করার জন্য অবিলম্বে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে আরও কঠোর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এনসিপির এই সংসদ সদস্য।




























