সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা হামলা, আহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৭ এএম


সাভারে এনসিপির সমাবেশে বোমা হামলা, আহত ৪

 

সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে আয়োজিত জনসভায় ভয়াবহ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তারাপুর ঈদগাহ মাঠ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। দলটির আহ্বায়ক তথা জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের উপস্থিতিতেই এই বিস্ফোরণ ছড়ায়। এই ঘটনায় অন্তত চারজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এনসিপির দাবি, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের পরোক্ষ সহায়তায় এই ন্যক্কারজনক ককটেল হামলা চালানো হয়েছে।

বিস্ফোরণে রক্তাক্ত ও জখম হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— মো. শাহীন খন্দকার (৩০), মো. জসিম (২৬), মো. শাহাদাত হোসেন (৪০) ও ইমরান হোসেন। হামলার পরপরই উপস্থিত অন্যান্য নেতাকর্মীরা তাঁদের উদ্ধার করে সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই হামলার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে সাভার। ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের’ প্রত্যয় নিয়ে এনসিপি এই কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ঘোষণা করে। এরই অংশ হিসেবে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাভার থানা বাসস্ট্যান্ড থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়। প্রায় এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তারাপুর ঈদগাহ মাঠে গিয়ে পদযাত্রাটি সমাবেশে রূপ নেয়। ঢাকা জেলা উত্তর এনসিপির আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নাহিদ ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য রাখেন জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ আহসান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত পৌনে ১০টার দিকে নাবিলা তাসনিদের বক্তব্য চলাকালীন হঠাৎ মঞ্চের ঠিক সামনে উপস্থিত জনসমর্থকদের লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিকট শব্দে চারপাশ ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় এবং উপস্থিত মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসান জানান, আহত চারজনের মধ্যে একজনের পায়ের আঘাত বেশ গুরুতর। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনজনকে জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) পাঠানো হয়েছে। রোগীরা প্রত্যেকেই বোমা বিস্ফোরণে আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

হামলার পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপি প্রধান নাহিদ ইসলাম বলেন, "প্রশাসন সাধারণ মানুষের ও রাজনৈতিক কর্মসূচির নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসনকে অবশ্যই এর জবাবদিহি করতে হবে। ককটেল, গুলি বা বোমাবাজি করে এনসিপিকে দমানো যাবে না; আমাদের জুলাই পদযাত্রা টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—প্রতিটি উপজেলায় পৌঁছাবে।" তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "এখানে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আমাদের খুনের উদ্দেশ্যে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। যারা এই সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদের পরিণতিও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতোই হবে।"

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান নেয়। নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা থানার ভেতরে গিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, "এটি স্পষ্টতই পুলিশের ব্যর্থতা এবং এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। পুলিশ যদি প্রকৃত অর্থেই নিরপেক্ষ হয়, তবে অনতিবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে তা প্রমাণ করুক।"

এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। ঘটনার পরপরই পুলিশ কর্মকর্তারা নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থানায় আসার ব্যবস্থা করেছেন এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যে ৩ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার রহস্যসহ সব দিক খতিয়ে দেখে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

এর আগে, একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ এলাকা থেকে এই ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির সূচনা করেন নাহিদ ইসলাম। সেখানে তিনি ক্ষমতাসীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, "ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও বর্তমান বিএনপি সরকার এখন সেই জুলাই সনদ ও গণভোটকে অস্বীকার করছে। এটি জনগণের সাথে স্পষ্ট গাদ্দারি ও বিশ্বাসভঙ্গ।"

Ads