জামায়াত আমিরের দাবি
বিদ্যুৎ বিলে প্রতিবাদী শিক্ষার্থী সিফাতের মুক্তির দাবি জামায়াত আমিরের
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যুৎ বিলে জনভোগান্তির প্রতিবাদ করায় তরুণ শিক্ষার্থী সিফাত আব্দুল্লাহকে অসৌজন্যমূলক গ্রেপ্তার এবং থানায় নাজেহাল করার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ওপর বিদ্যুৎ বিলে মাত্রাতিরিক্ত বোঝা চাপানোর তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে জনদুর্ভোগ দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে আয়োজিত এক সমাবেশে জামায়াত আমির এ বক্তব্য দেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের শান্তিপূর্ণ লং মার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ছাত্রনেতা সিফাতের মুক্তির বিষয়ে সরকারকে কঠোর বার্তা প্রদান করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অন্যায্য বিদ্যুৎ বিলে অতিষ্ঠ ও চরম বিরক্ত হয়ে সিফাত নামে এক তরুণ তার অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। এতেই সরকার ও তার দলীয় ক্যাডাররা তা সহ্য করতে না পেরে এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে যেন দেশ উলটপালট হয়ে গেছে। আটক সিফাতকে থানায় নিয়ে অন্যায়ভাবে লাঞ্ছিত ও নাজেহাল করা হয়েছে। সরকারের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সিফাতকে অবিলম্বে ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দিন। নতুবা মনে রাখবেন, অতীতে এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন কিংবা এক ডাক্তার মিলনের রক্ত যেমন তখনকার স্বৈরাচারী শাসককে গদি থেকে টেনে নামিয়েছিল, একইভাবে ইতিহাস পুনরাবৃত্তি হতে বেশি সময় লাগবে না। কোন পচা শামুকে যে কার পা কাটবে, তা আগাম বলা অসম্ভব।
ডা. শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, সিফাত যে মুখের ভাষায় কড়া বার্তা দিয়েছে, তা হয়তো রাজনৈতিক শিষ্টাচারের বিষয় হতে পারে; কিন্তু সিফাত যে ইস্যুতে প্রতিবাদ জানিয়েছে—সেই বিদ্যুৎ ও দৈনন্দিন জীবনের আকাশচুম্বী খরচ নিয়ে দেশের ১৮ কোটি মানুষ আজ ক্ষুব্ধ। জনমানুষের দাবি উপেক্ষা করা হলে তারা প্রত্যেকেই সিফাতের মতো গর্জে উঠবে।
লং মার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত দাবি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত আমির জানান, ইতিপূর্বে ঘোষিত ৬ দফা দাবির পাশাপাশি বর্তমানে তাদের নতুন ৭ম দফা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চান, দেশের মাটিতে কোনো প্রকার চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ বা জুলুমবাজদের অস্তিত্ব বরদাস্ত করা হবে না। দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় রাজপথের এই লড়াই আরও জোরদার করা হবে বলে সমাবেশে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।



























