তিস্তার ভাঙনের মুখে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি
১১ মে ২০২১, ০৩:৫৫ পিএম
ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।
গত দুদিনের বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তায় ফের নতুন করে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের মুখে হাজারও বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। অসময়ে পাঁকা ফসলসহ আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলিন হওয়ায় হতবাক চরবাসি। থামছে না তিস্তার ভাঙন। তিস্তার অব্যাহত ভাঙনে চলতি মৌসুমের নানা প্রজাতের বাহারি পাঁকা ও আধাপাঁকা ফসলসহ আবাদি জমি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে। টানা ভাঙনে নাকাল হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের পরিবারগুলো। গোটা বছরের ব্যবধানে হাজারও একর আবাদি জমিসহ দেড় হাজার বসত বাড়ি নদীগভে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে হাজারও একর ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। বিশেষ করে তারাপুর ইউনিয়নের খোদ্দা, লাঠশালা ও হরিপুর ইউনিয়নের কাশিম বাজার খেয়াঘাটসহ কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যার কারনে পাঁকা ধান, বাদাম, ভুট্টা বিলিন হচ্ছে তিস্তায়। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত রাক্ষুসি তিস্তানদী এখন মরায় পরিণত হয়েছে। তিস্তার বুক জুড়ে এখন ধু-ধু বালুচর। পলি জমে তিস্তার মুলনদী একাধিক শাখায় পরিনত হয়েছে। পানি কমে যাওয়ায় ওইসব শাখানদীতে একনও স্রোত অব্যাহত রয়েছে। স্রোতের কারনণে উজানে ভাঙনে তিস্তার বালু চরের সবুজের সমারহ ও বসতবাড়ি বিলিন হচ্ছে নদীগর্ভে। বর্তমানে তিস্তার চরাঞ্চলে ধান, বাদাম, বেগুন,, মরিচ, ভুট্টা, নানাবিধ উঠতি ফসলের সমাহার দেখা দিয়েছে। কিন্তু সর্বনাশা তিস্তা সে ফসল ঘরে তুলতে দিচ্ছে না। কথা হয় তারাপুর ইউনিয়নের খোদ্দা গ্রামের শিক্ষক রেজাউল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, তিস্তার ভাঙনে আমরা চরাঞ্চবাসি দিশেহারা হয়ে পড়েছি। এ সময় নদী ভাঙার কথা নয়। অথচ বছর ধরে নদী ভাঙন চলছে। যার কারনে হরিপুর তারাপুর ও ইউনিয়নের হাজারও বিঘা আবাদি জমি নিমেষের মধ্যে নদীতে চলে যাচ্ছে। চরের মানুষ তরিতরকারির আবাদ করে সংসার চালায়। কিন্তু এ বছর নদী ভাঙন অব্যাহত থাকায় কৃষকরা মাথায় হাত দিয়ে বসেছে। তিনি আরও বলেন, তার তিন বিঘা জমির বাদাম নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এছাড়া এক বিঘা জমির ভুট্টা ক্ষেতের প্রায় বেশিভাগ নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম জানান- নদী ড্রেজিং এবং খনন করা ছাড়া নদীভাঙন রোধ করা কোন ক্রমে সম্ভব নয়। কারন দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। নদী ভাঙন ঠেকাতে হলে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সৈয়দ রেজা-ই মাহমুদ জানান, তারাপুর, হরিপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে নদী ভাঙনের কারণে বাদাম ও ভুট্টাসহ নানাবিধ ফসল নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে। এতে চরের কৃষকরা দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোহাম্মদ আল মারুফ জানান, উপজেলার তারাপুর, হরিপুর, কাপাসিয়া ও শ্রীপুর ইউনিয়নের কিছু চরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-পরিচালক মোখলেছুর রহমান জানান, নদীভাঙন রোধ একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা। তবে নদী সংরক্ষণের ব্যাপারে গাইবান্ধা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৪২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে।
































