তিস্তার চরাঞ্চলে খুট দিয়ে গর্ত পদ্ধতিতে আমন চারা রোপন
২৮ আগস্ট ২০২১, ০৩:০২ এএম
ছবি- প্রতিদিনের চিত্র।
বছরে কয়েক বার বসতবাড়ি ভাঙনের পরও চরবাসিরা কখনো চর ছাড়তে চায় না। তাদের স্বপ্ন ও আশা জেগে উঠা চর নিয়ে। চরের দুই বিঘা জমিতে যদি তার ফসল ফলাতে পারে তাহলে এক বছর সংসার চালাতে আর কোন কষ্ট হবে না। সেই আশা বুকে নিয়ে তিস্তার বিভিন্ন জেগে উঠা চরে অভিনব কৌশলে খুট দিয়ে গর্ত করে আমন চারা রোপন করছে কৃষকরা।
চলতি মৌসুমে তিস্তায় এখনও বন্যা দেখা দেয়নি। অনেকে ভাবছেন হয়তো আর বন্যা হবে না। আবার অনেকের ধারণা বন্যা হলেও তা আর স্থায়ী হবে না। গত বৃহস্পতিবার গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর, বেলকা, তারাপুর, চন্ডিপুর শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের কাশিম বাজার, পাড়া সাদুয়া, চরমাদারী পাড়া, লখিয়ার পাড়, মাদারীপাড়া, বেলকা নবাবগঞ্জ, রিয়াজ মিয়ার চর, কারেন্ট বাজার, চরচরিতাবাড়িসহ বিভিন্ন চরে ঘুরে ফিরে দেখা গেছে, চরের এক প্রান্ত ভাঙছে এবং অপর প্রান্তে কৃষকরা আমন চারা রোপন করছে।
কথা হয় বেলকা নবাবগঞ্জ চরের কৃষক আকবর আলীর সাথে। তিনি বলেন, তিস্তার চর এখন আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। মৌসুম অনুয়ায়ী বিভিন্ন ফসল ফলানো যায়। এখন আমন চারা রোপন করছি। যদি বন্যায় নষ্ট না হয় তাহলে দুই বিঘা জমির ধান হলে এক বছর সংসার চলবে। তিনি বলেন, চরের বালু মাটি অত্যন্ত শক্ত তাই খুট দিয়ে গর্ত করে চারা রোপন করতে হয়। এতে কোন ক্ষতি হবে না। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে এবং পানি উঠছে। আশা করা যাচ্ছে আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে চারা লেগে যাবে।
বেলকা ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ জানান, চরের কৃষকদের প্রাণ হচ্ছে জেগে উঠা চর। নানাবিধ ফসল ফলিয়া তারা সংসার চালায়। এছাড়া চরাঞ্চলে বসবাসরত পরিবারগুলো গরু, ছাগল, হাস মুরগি, ভেড়া পালন করে অনেক লাভবান। তাদের সংসার চালাতে কোন কষ্ট হয় না।উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির জানান, তিস্তার চর এখন আবাদি জমিতে পরিনত হয়েছে। তাছাড়া পলি জমে চরের জমি অত্যন্ত উর্ববর। সে কারণে যে কোন ফসলের ফলন ভাল হয়। চরাঞ্চল এখন অনেক সমৃদ্ধ।

































