বিভক্ত হেফাজতে ইসলাম: শীর্ষ নেতাদের ভিন্ন সুর ও কওমিদের ভবিষ্যৎ
১৭ মে ২০২৬, ১০:০৩ এএম
অভ্যন্তরীণ কোন্দল, আদর্শিক দ্বন্দ্ব এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতায় কার্যত চরম নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক শীর্ষ সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কওমি ঘরানায় কাঙ্ক্ষিত একতা ফিরেনি। শীর্ষ নেতাদের পরস্পরবিরোধী অবস্থান ও প্রকাশ্য কাদা-ছোড়াছুড়ির কারণে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে।
সংগঠনটির বর্তমান আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বরাবরই হেফাজতের মূল ধারাকে অরাজনৈতিক ও খাঁটি ধর্মীয় অবস্থানে ধরে রাখার পক্ষে। তিনি এর আগে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছিলেন, "হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক সিঁড়ি নয়। আমাদের মূল কাজ ইসলামের হেফাজত এবং কওমি ভাবাদর্শ রক্ষা করা। কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে হেফাজতকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।" তাঁর এই অবস্থান মূলত সংগঠনের ভেতরে থাকা সুবিধাবাদী ও অতি-রাজনৈতিক অংশটির প্রতি এক স্পষ্ট বার্তা।
তবে ঢাকা মহানগরের শীর্ষ নেতাদের দুই মেরুতে অবস্থানের কারণে তৈরি হওয়া এই তীব্র বিভাজন কাটাতে এখন নড়েচড়ে বসছেন কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকেরা। উদ্ভূত সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী কওমিদের ঐক্যবদ্ধ করার এক নতুন আশার বাণী শুনিয়েছেন। অভ্যন্তরীণ সাব-কমিটির ইতিবাচক বৈঠকের বরাতে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "আমরা যে যে দলই করি না কেন, হেফাজতের মূল চালিকাশক্তি হলো আমাদের আদর্শ। ঢাকা মহানগরের শীর্ষ দুই নেতার দুই মেরুতে অবস্থান থাকলেও, ঐতিহাসিক ১৩ দফার ইস্যুতে আমরা সবাই এক হয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।" তিনি আরও জানান, অতীতের ভুল বোঝাবুঝি ভুলে সবাই যাতে আগের মতো মিলেমিশে কাজ করতে পারে, সেই লক্ষ্যে একটি বিশেষ সাব-কমিটি উদ্যোগ নিচ্ছে এবং শীঘ্রই নতুন ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর কঠোর অবস্থান এবং মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমানের অনুসারীদের মাঠপর্যায়ের জোরালো ভূমিকার দাবির মধ্যবর্তী এই দূরত্বকে একমাত্র ঐতিহাসিক ১৩ দফার মূল ভিত্তিই ঘোচাতে পারে। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও আলেমদের সুরক্ষায় কোনো একক ও কার্যকর পথরেখা না থাকায় তৃণমূলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে যে হতাশায় ভুগছিলেন, আল্লামা মুহিউদ্দীন রাব্বানীর এই সময়োপযোগী বার্তা তাদের সেই সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে আলোর দিশা দেখাচ্ছে।
সর্বশেষ বলা যায়, ফাজতে ইসলামের ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ ঝুলে আছে বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের সদিচ্ছার ওপর। ব্যক্তিগত ও সাময়িক রাজনৈতিক কোন্দলের ঊর্ধ্বে উঠে নেতারা যদি আল্লামা মুহিউদ্দীনের আহ্বান অনুযায়ী ১৩ দফার মূল দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেন, তবেই ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটি তার হারানো সাংগঠনিক শক্তি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে।
























