ভিনিসিয়াসের জাদুকরী গোলে মরক্কোর সঙ্গে ড্র ব্রাজিলের

স্পোর্টস ডেস্ক

১৪ জুন ২০২৬, ০৮:০১ এএম


ভিনিসিয়াসের জাদুকরী গোলে মরক্কোর সঙ্গে ড্র ব্রাজিলের


তি, আক্রমণ, হাই প্রেসিং আর দারুণ সব কৌশলের এক রোমাঞ্চকর প্রদর্শনী দেখল ফুটবলবিশ্ব। তবে প্রথমার্ধের সেই টানটান উত্তেজনা দ্বিতীয়ার্ধে রূপ নিল কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশলে। শেষ পর্যন্ত মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ব্রাজিল। ম্যাচটি টাই হলেও মাঠের পারফরম্যান্সে ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধি মরক্কো। এই ড্রয়ের পর স্পষ্ট যে, কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা তাদের কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং চলতি বিশ্বকাপেও তারা শেষ চারের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল গোলের জন্য মরিয়া হয়ে লড়তে থাকে। তবে শুরুর ১৫ মিনিটে মরক্কোর গতি ও নিখুঁত পাসিংয়ের সামনে কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলে সেলেসাওরা। যদিও ম্যাচের ১৪ মিনিটে প্রথম সহজ সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিলই, কিন্তু বাম দিক থেকে আসা ক্রসে মাথা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন থিয়াগো।

এর কিছুক্ষণ পরেই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডের ভুলের সুযোগ নিয়ে লিড নেয় মরক্কো। মাঝমাঠ থেকে দিয়াজের বাড়ানো এক চমৎকার থ্রু বল পান ইসমাইল সাইবারি। ব্রাজিলের দুই ডিফেন্ডারকে গতির লড়াইয়ে পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। বিপদ টের পেয়ে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক অ্যালিসন। কিন্তু ঠান্ডা মাথায় দারুণ বুদ্ধিমত্তায় অ্যালিসনের মাথার ওপর দিয়ে চিপ শটে বল জালে জড়ান সাইবারি। ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে ব্রাজিলের পোস্টে ১২টি শট নিয়ে প্রবল চাপ তৈরি করে মরক্কো, যা ২০১৮ সালের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে যেকোনো দলের সর্বোচ্চ শটের রেকর্ড।

পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। হাইপ্রেসিং ফুটবল খেলে ম্যাচের ৩২ মিনিটেই সমতায় ফেরে তারা। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে নিজের ৫০তম ম্যাচ খেলতে নামা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দেখান তাঁর আসল জাদু। বক্সের ভেতর ব্রুনো গিমারায়েসের পাস ধরে চমৎকারভাবে ভেতরের দিকে কাট-ইন করেন তিনি। এরপর এক বুলেট গতির শটে মরক্কোর অতন্দ্র প্রহরী ইয়াসিন বুনুকে পরাস্ত করেন এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

জাতীয় দলের হয়ে এটি ভিনির ১০ম গোল। পরিসংখ্যান বলছে, ভিনিসিয়ুস গোল করেছেন এমন ম্যাচে ব্রাজিল কখনো হারেনি; এই ম্যাচেও সেই ধারা বজায় থাকল।

বিরতির পর দুই দলের খেলার গতি অনেকটাই কমে যায়। গোল করার চেয়ে গোল না খাওয়ার প্রবণতাই বেশি দেখা গেছে দুই শিবিরের রক্ষণভাগে। ফলে বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ ব্যবধানেই শেষ হয় ম্যাচটি।

জিততে না পারলেও এই ম্যাচটি মরক্কোর ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশের বিপক্ষে এটিই মরক্কোর প্রথম গোল। এর আগে ১৯৭০ সালে পেরু এবং ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেললেও কোনো গোলের দেখা পায়নি তারা। শেষ পর্যন্ত পূর্ণ পয়েন্ট না পেলেও, হার এড়িয়ে মাঠ ছাড়ার স্বস্তি নিয়েই টুর্নামেন্টে টিকে রইল সেলেসাওরা।

Ads