বিশ্বকাপ ফুটবল
নরওয়ের স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে রোমাঞ্চকর জয়ে সেমিতে ইংল্যান্ড
১২ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৫ এএম
২৮ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরাটাই ছিল নরওয়ের জন্য বড় এক উদযাপনের উপলক্ষ। সেই আনন্দ আরও বহুগুণ বেড়ে যায় যখন আরলিং হালান্ডের দল প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখে। শেষ আটের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে পরাশক্তি ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে মাঠের লড়াইয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়নি তারা।
তবে মাঠের ১২০ মিনিটের চরম উত্তেজনা আর স্নায়ুযুদ্ধের শেষে নরওয়েকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে হারের বিষাদ নিয়ে। নরওয়ের রূপকথার মতো স্বপ্নযাত্রাকে ২-১ গোলে থামিয়ে দিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে থ্রি লায়ন্সরা।
খেলার নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে দুই দলই ১-১ সমতায় ভাসছিল। তবে আসল নাটকীয়তা অপেক্ষা করছিল অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে সম্পূর্ণ অন্য এক বিধ্বংসী রূপে হাজির হয় ইংল্যান্ড, একের পর এক আক্রমণের জোয়ার সৃষ্টি করে ম্যাচের ভাগ্য নিজেদের পক্ষে লিখে নেয়।
ম্যাচের শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে স্পষ্ট আধিপত্য দেখায় ইংলিশরা। জুড বেলিংহ্যাম, মাইলস ও'রাইলি এবং হ্যারি কেইনরা মিলে বেশ কয়েকটি চমৎকার সুযোগ তৈরি করলেও নরওয়ের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় প্রথমার্ধের শুরুতে গোল অধরাই থেকে যায়।
শুরুর ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে নরওয়ে। একের পর এক প্রতি-আক্রমণে তারা কাঁপিয়ে দেয় ইংলিশ রক্ষণভাগ। দলের প্রাণভোমরা আরলিং হালান্ডের দুটি দুর্দান্ত শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দিয়ে সে যাত্রায় ইংল্যান্ডকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।
অবশেষে ম্যাচের ৩৪তম মিনিটে ডেডলক ভাঙে নরওয়ে। মাঠের বাঁ দিক থেকে বল নিয়ে একক প্রচেষ্টায় অসাধারণ এক শট নেন আন্দ্রেয়াস স্কিয়েলদেরুপ। ইংলিশ গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল সরাসরি জালের ওপরের কোণায় জড়ায়, আর নরওয়ে মেতে ওঠে ১-০ গোলের লিড নেওয়ার উল্লাসে।
এগিয়ে যাওয়ার পর আরও রক্ষণাত্মক না হয়ে আক্রমণের ধার বাড়ায় নরওয়ে। আলেকজান্ডার সোরলথ ও মার্টিন ওডেগার্ডের পা থেকে আরও কয়েকটি দারুণ সুযোগ তৈরি হলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে ব্যবধান দ্বিগুণ করা সম্ভব হয়নি।
নরওয়ের এই সুযোগ হাতছাড়ার খেসারত দিতে হয় প্রথমার্ধের শেষভাগেই। অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত এক স্কয়ার পাস থেকে ডি-বক্সের ভেতর বল পান জুড বেলিংহ্যাম। বাঁ-পায়ের জোরালো ও শক্তিশালী শটে বল জালে জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ১-১ সমতায় ফেরান তিনি। এর কিছুক্ষণ পর হ্যারি কেইন বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিটে আবারও লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ আসে নরওয়ের সামনে। আন্দ্রেয়াস স্কিয়েলদেরুপের কর্নার থেকে উড়ে আসা বল ছয় গজের বক্সে পড়লে সেখানে দাঁড়ানো প্যাট্রিক বার্গ শট নেন। প্রথম দফায় পিকফোর্ড বলটি চমৎকারভাবে ফেরালেও ফিরতি বলে নিখুঁত টোকায় জাল খুঁজে নেন লিও হেগেম।
তবে নরওয়ের এই গোলের পরই রেফারির ওপর চড়াও হন ইংলিশ ফুটবলাররা। অভিযোগ ছিল, গোল হওয়ার মুহূর্তে বক্সের ভেতর প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন আরলিং হালান্ড। শেষ পর্যন্ত রেফারি ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির সাহায্য নেন এবং ফাউল প্রমাণিত হওয়ায় গোলটি বাতিল করা হয়।
এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিটের বাকি সময়ে দুই দলের কেউই আর কোনো গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হতেই বাজিমাত করে ইংল্যান্ড। অতিরিক্ত সময়ের ঠিক তৃতীয় মিনিটে (৯৩ মিনিট) জুড বেলিংহ্যাম নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে মরগান রজার্সের নেওয়া এক বাঁকানো শট নরওয়ে গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ড ঠিকমতো গ্লাভসবন্দি করতে ব্যর্থ হন। তার হাত থেকে ফস্কে যাওয়া বলের সামনেই ছিলেন বেলিংহ্যাম, আলতো ছোঁয়ায় বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
ম্যাচের ৯৯ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। বক্সের ভেতর ফাউলের দাবিতে পেনাল্টির আবেদন করে তারা। তবে এবারও ভিএআর রেফারিদের সাহায্য নিয়ে ফাউলের স্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নাকচ করে দেন মাঠের রেফারি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে সেমিফাইনালে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।




































