খাগড়াছড়িতে প্রবীণ দিবসে আলোচনায় বক্তারা
প্রবীণবান্ধব সেবা ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিতের দাবি
০১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
খাগড়াছড়িতে বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের জেলা শাখার আয়োজনে ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রবীণদের জন্য সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবায় বিশেষ সুবিধা, চিকিৎসাসেবায় অগ্রাধিকার এবং পৃথক কেবিন বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবনের জন্য ব্যবস্থাগুলোর পুনর্চিন্তা’ প্রতিপাদ্যে জেলা শহরের হাসপাতাল সড়কে সংগঠনের জেলা কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে রঙিন বেলুন উড়িয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে একটি সংক্ষিপ্ত র্যালি বের করা হয়।
বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি সাধন কুমার চাকমার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধেশ্বর চাকমা সভা সঞ্চালনা করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য রিপল চাকমা, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (অবঃ) প্রফেসর ড. সুধীন কুমার চাকমা, অধ্যক্ষ (অব.) প্রফেসর বোধিসত্ত্ব দেওয়ান, সহযোগী অধ্যাপক (অব.) মধূ মঙ্গল চাকমা, শিক্ষাবিদ ধর্মরাজ বড়ুয়া, রত্ন কান্তি রোয়াজা ও সন্তোষিত চাকমা বকুলসহ সংশ্লিষ্টরা।
বক্তারা বলেন, মানুষের আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ও তাঁদের প্রয়োজনও বাড়ছে। তাই প্রবীণদের শুধু সামাজিক সহায়তার আওতায় না রেখে স্বাস্থ্যসেবা, গণপরিবহন, সরকারি সেবা, অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থাকে প্রবীণবান্ধব করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের সম্পদ হিসেবে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
তাঁরা আরও বলেন, বয়সজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে প্রবীণদের নিয়মিত ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন। হাসপাতালে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সেবা গ্রহণের জটিলতা কমাতে প্রবীণদের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক সেবা চালু করা যেতে পারে। পাশাপাশি খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে প্রবীণদের চিকিৎসার সুবিধার্থে অন্তত দুটি কেবিন বরাদ্দের দাবি জানান বক্তারা।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রবীণদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মওকুফ বা বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করার অনুরোধও জানান তাঁরা। একই সঙ্গে প্রবীণদের জন্য নিরাপদ চলাচল, সরকারি সেবাকেন্দ্রে বসার ব্যবস্থা, তথ্যপ্রাপ্তির সহজ সুযোগ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যথাযথ অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, প্রবীণ দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপনের বিষয় নয়; বরং প্রবীণদের অধিকার, মর্যাদা ও প্রয়োজনকে নীতিনির্ধারণ ও সেবা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়ার একটি সুযোগ। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগেই প্রবীণদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব।
সভায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবীণ ব্যক্তি, সংগঠনের সদস্য ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।





























