খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে জনবল ও সেবা সংকট নিয়ে গণশুনানিতে প্রশ্ন


খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে জনবল ও সেবা সংকট নিয়ে গণশুনানিতে প্রশ্ন

খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), খাগড়াছড়ির উদ্যোগে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

গণশুনানিতে হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট, জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি, আল্ট্রাসনোগ্রাম ও সার্জারি সেবা, ক্রসম্যাচিংয়ের বিল, রোগী দেখায় অনিয়ম এবং হাসপাতালকে দালালমুক্ত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন ও অভিযোগ তুলে ধরেন সেবাগ্রহীতা ও অংশীজনেরা।

গণশুনানিতে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়, হাসপাতালে ৮২টি চিকিৎসকের পদ থাকার বিপরীতে বর্তমানে ১৭ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে জেনারেল সার্জন না থাকা এবং আল্ট্রাসনোগ্রাফি সেবায় সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থা ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষা না করার অভিযোগ তুলে এর কারণ জানতে চাওয়া হয়।

এ সময় এক সেবাগ্রহীতা ক্রসম্যাচিংয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিল নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। অপর এক রোগীর স্বজন গাইনি বিভাগে চিকিৎসক দেখাতে না চাওয়ার অভিযোগ তুলে বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সাংবাদিক কানন আচার্য হাসপাতালের সেবাব্যবস্থাকে দালালমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্রের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রিপ্পল বাপ্পী চাকমা বলেন, এ বিষয়ে এখনো সরকারি নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

চিকিৎসক সংকট ও জরুরি বিভাগের সেবা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. রতন খীসা বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসকের ৮২টি পদ থাকলেও বর্তমানে ১৭ জন কর্মরত আছেন। প্রতিটি ইউনিটে জরুরি চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও শয্যা ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সব ইউনিটে পৃথকভাবে এ ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

গণশুনানিতে হাসপাতালের বিভিন্ন সেবার মান, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা, চিকিৎসক ও জনবল, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, পরিচ্ছন্নতা, রোগী হয়রানি এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। এসব প্রশ্নের উত্তর দেন সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. রতন খীসা এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. রিপ্পল বাপ্পী চাকমা।

সনাক, খাগড়াছড়ির সভাপতি বেলা রানী দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য কুহেলী দেওয়ান ও তাসলিমা সিরাজ সীমা, খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহরিয়ার ইউনূস, টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ নুরুল আলালসহ সংশ্লিষ্টরা।

সনাকের সদস্য মর্তুজা পলাশের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সনাকের সদস্য ও খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মো. জহুরুল আলম।

গণশুনানিতে সেবাগ্রহীতাদের উত্থাপিত সমস্যা চিহ্নিত করে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং রোগীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

Ads