ফের গণরুম-গেস্টরুম চালুর শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা: সাদ্দাম
২৮ আগস্ট ২০২৫, ১০:২৪ পিএম
ঢাবির হল কমিটি নিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন শিক্ষার্থীরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছে যদি আবারও হলগুলোতে রাজনীতি চালু হয় তাহলে গণরুম গেস্টরুম চালু করতে সময় লাগবে না।
তিনি আরও বলেন, ছাত্ররা না চাইলে আমরা হলে কমিটি দেব না। ছাত্রদের পার্সেপশানের বাহিরে তো আমরা রাজনীতি করতে পারি না। ছাত্রশিবির যেহেতু শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করে ছাত্ররা যেভাবে ফিল করবে সেভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির আয়োজিত হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিবির সেক্রেটারি।
সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ছাত্রলীগের নির্যাতনের বিষয়ে বলেন, বিগত সময়ে হলরুম গেস্ট রুম কালচারের মধ্য দিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এমনকি আবরার ফাহাদকে হত্যাই করে ফেলা হয়েছে । হলে রাজনীতির কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টর্চার সেল নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৫ বছরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসকে তাদের বাপদাদার সম্পত্তি মনে করছে। এমন অরাজকতা সৃষ্টি করেছে যা পূর্ববর্তী সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে। এ রকম ট্রামাডাইজ দেখে ছাত্ররা স্বাভাবিক ভাবেই চায় আগের মতো পরিস্থিতি আর ফিরে না আসুক।
সাদ্দাম বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন ,শিক্ষার্থীদের আশঙ্কা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কারণ ৫ আগস্টের পরে ছাত্রদল নিজেদের মধ্যে আন্তঃকোন্দলে ৫ জন মানুষ মারা গেছে। চাঁদাবাজি, ধর্ষণ সহ হাজার ঘটনাগুলো ঘটেছে ৫ আগস্টের পর।অনেকে তুলনা করছে ছাত্রলীগের সাথে এদের মধ্যে কোনো তফাত নেই। কমিটি দিয়েছে সেখানেও অনেক ছাত্রলীগকে পুনর্বাসন করেছে। ঢাকসু ইলেকশনের কমিটিতেও ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে। ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা যেমন গণহারে পাওয়া যাচ্ছে, আবার আচরণের মধ্যেও সেই জায়গাটা ফেরত আসছে। ছাত্ররা যেখানে কমিটি চায় না, সেখানে কমিটি দিয়ে বসে আছে। ছাত্ররা আন্দোলন করছে, সেখানেও শিবির ট্যাং দেয়া হচ্ছে। তাদেরকে নানাভাবে ফ্রেমিং করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে ৫ আগস্টের পরে সামগ্রিক পরিস্থিতির বিবেচনার কারণে ছাত্র রাজনীতি অফ করে দেয়া হয়েছে সাময়িক সময়ের জন্য যে আবাসিক জায়গায় কোনো রাজনীতি ও হল কমিটি চলবে না।সব ছাত্র সংগঠনগুলো হলে কমিটি দেওয়ার বিষয়ে একমত হলেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলে কমিটি না দেওয়ার পক্ষে অনড়।
ছাত্রসংগঠনগুলোকে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন,আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে ছাত্রসংগঠনগুলো যদি তাদের ইতিবাচক কার্যক্রম যদি প্রদর্শন করতে পারে। নিজস্ব একটা নতুন ধারায় ফিরে আসতে পারে।এবং জাতীয় রাজনীতিতে ছাত্রসংগঠনের গুরুত্ব যদি শিক্ষার্থীদের বুঝাতে পরে। তাহলে হয়তো তারা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে। আমরা সেই ধারা অব্যাহত রাখতে কল্যাণমুখী কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বুঝানোর চেষ্টা করছি যে রাজনীতিতে ছাত্রদের অংশগ্রহণ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি নতুন ধারার রাজনীতি সূচিত হবে। জোর করে ছাত্রদের ওপর চাপিয়ে দিলে আরেকটা বিস্ফোরণ তৈরি হবে।

































