কৃষিজমি নষ্ট করে গড়ে উঠছে অবৈধ ইটভাটা
১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:৪৮ পিএম
বেনুয়ারচর ও বারারচরের একটি বিশাল উর্বর কৃষিজমি, যেটি তিন ফসলি হিসেবে পরিচিত। যে জমি আউশ, আমন, বুরো ইরি ছাড়াও রসুন, পিয়াজ, মরিচ, আলু ও রবিশষ্যের জন্য উৎকৃষ্ট ভূমি। সেই আদর্শ, উর্বর কৃষিজমি নষ্ট করে, কৃষকের আপত্তির মুখে গড়ে উঠছে অবৈধ ইটভাটা। দেখা দিয়েছে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা। হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য।
জামালপুর জেলার ইসলামপুর ও শেরপুর জেলার শ্রীবর্দি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা বেনুয়ারচর এবং বারারচরে, বকশিগঞ্জ টু জামালপুর হাইওয়ের পাশে গড়ে উঠছে এম.এস নামের একটি অবৈধ ইটভাটা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বারারচর ও বেনুয়াচরে ওই কৃষিজমিটি ছিল তিন ফসলি জমি। ইরি, আউশ, আমন, বুরো ছাড়াও এ জমিতে উৎপাদিত হতো পিয়াজ, রসুন, মরিচ, আলু ও রবিশষ্য। দুই গ্রামের কমপক্ষে দশজন কৃষক এ জমিতে চাষবাস করে জীবন যাপন করতেন। কৃষকের সে ফসলিজমি নষ্ট করে গড়ে তোলা হচ্ছে ইটভাটা। ভাটা মালিকরা, ওই এলাকার দরিদ্র কৃষকদের কৃষিকাজে নিরুৎসাহিত করে ও নানা প্রলোভনে প্রলোব্ধ কওে, নিজেদের স্বার্থে সেখানে গড়ে তুলছেন ভাটা।
যাদের কৃষিজমি নষ্ট করে ভাটা গড়ে তোলা হচ্ছে তাদের একজন জানান, তিনি জমি দিতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু ভাটা মালিকদের কৌশল ও চাপের মুখে তাকেও জমি দিতে বাধ্য হতে হয়েছে।
ভাটার ম্যানেজার মুজিবর রহমান জানান, প্রতি বিঘা জমি বছরে ২৮ হাজার টাকা করে ১০ বছরের জন্য ভাড়া নিয়ে সাড়ে ৭ একর জায়গায় নির্মিত হচ্ছে এম.এস ব্রিক্স-৩।
শেরপুরের একজন ইটভাটা ব্যবসায়ি জানান, মোতালেবের শেরপুরে আরও দুইটি ভাটা রয়েছে। তার কোনোটারই পরিবেশের অনুমতিপত্র নেই। বর্তমান সময়ে পরিবেশবাদী ও প্রশাসনের চাপের মুখে যেখানে আমাদের একটি ভাটা চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে সেখানে কৃষিজমিতে আরেকটি নতুন ভাটা চালু করে মোতালেব দুঃসাহ দেখিয়েছেন,বটে।
বারারচর গ্রামের কৃষক আঃ মান্নানের কাছে কৃষিজমিতে ভাটা হলে সেখানে কি প্রতিক্রিয়া হয়? জানতে চাইলে তিনি জানান, ভাটার মালিকরা ভাটা করার জন্য দুই গ্রামের কমপক্ষে ৮/১০জন কৃষকের জমি নিয়েছে। তাদের ভাটার পাশে আমারও এক টুকরা জমি আছে। তারা আমার কাছেও সেই জমিটি চেয়েছিল। আমি দেইনি। কারণ ভাটা মালিকরা বছরে আমাকে যে টাকা দিবে আমি চাষ করলে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা পাব। এছাড়া যে জমিতে ইটভাটা হয় সে জমিতে পরবর্তি আট দশ বছর আর কোনো ফসল হয় না। তার উর্বরতা নষ্ট হয়ে পতিতভূমিতে পরিণত হয়।
ভাটার পাশে এলাকাবাসী জানান, ভাটাটি শুরুতেই মোবারক নামে এক শ্রমিকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। ভাটার মাটি আনতে গিয়ে গাড়ীসহ ব্রিজ ভেঙ্গে নীচে পড়ে প্রাণ গেছে তার। এছাড়া লোকালয় ও হাইওয়ের পাশে ইটভাটা নির্মাণ হওয়ায় এ থেকে সৃষ্ট বা নির্গত ধূলি বালি, ধোঁয়া ও কয়লার ময়লায় মানুষ এবং প্রকৃতির স্বাস্থে মারাত্বক ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে।
এব্যাপারে মেসার্স এম.এস ব্রিক্সের অংশিদার মালিক মোতালেক হোসেন বলেন, আমরা জমির মালিকদের বলে কয়েই ভাটা নির্মাণ করেছি। পরিবেশের ছাড়পত্রসহ অন্যান্য অনুমতিপত্রগুলো এখনও পাইনি। তবে, সে ব্যাপারে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের সাথে ধ্যান দরবার চলছে, বলেও জানিয়েছেন তিনি।


























