জামালপুর উপজেলাগুলোতে সনদ বিহীন ইটভাটায় চলছে শিশুশ্রম
১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:৩৫ পিএম
জামালপুরের সদর ৭টি উপজেলায় সনদ বিহীন বহু ইটভাটার ব্যবসা চলছে শিশুশ্রমিক দিয়ে। গত শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) উপজেলাগুলো ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ ইটভাটা সনদ বিহীন। সরজমিনে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে ইটভাটার ম্যানেজার ও শিশু শ্রমিকরা।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ১৪ বছরের নিচে কোন শিশু কাজ করলে, তাহলে সেটা শিশুশ্রমের আওয়াতায় পড়বে। কিন্তু সরজমিনে বিভিন্ন ইটভাটা ঘুরে দেখা গেছে ৮ থেকে ১২ বছর বয়সের শিশুরাই কাজ করছে।
ইটভাটায় শিশুদের দিয়ে কয়লা গুড়া করা, ট্রলিভ্যান দিয়ে পুড়া ইট আনা-নেওয়া, ইট সাজানো, ইট তৈরীর চুলোয় আগুন দেওয়া ইত্যাদি কাজ করানো হচ্ছে। এতে দেখা যায়, ইটভাটায় যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
অনুসন্ধানে আরো শ্রমিকদের থেকে জানা যায়, যে সকল শিশুরা ইটভাটায় কাজ করে তাদের অধিকাংশই বিভিন্ন জেলা থেকে আসা। এই সকল শিশু শ্রমিকরা বরিশাল, ফরিদপুর, নোয়াখালী, মুন্সিগঞ্জ, চাঁদপুর ও শরীয়তপুর থেকে এসেছে।
কেন এই শিশুদের দিয়ে এই কাজ করা হচ্ছে এমন প্রশ্নে ইটভাটর ম্যানেজাররা বলেন- শিশু শ্রমিকদের অভিভাবকেরা ইটভাটার মালিকদের কাছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দাদন নিয়ে থাকে যা তারা অন্য কোন উপায়ে পরিশোধ করতে পারেনা। যার ফলে একরকম বাধ্য হয়ে তাদের শিশুদের দিয়ে ইটভাটায় কাজ করিয়ে এ্ দাদন পরিশোধ করতে হচ্ছে। ইটভাটাতেই ঘুমানো, খাওয়া-দাওয়া সবই হয় শিশুদের। ভোরে ঘুম থেকে উঠেই শিশুদের যেতে হয় ইটখোলায়। টানা কাজ করে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। শিশুদের দিয়ে কাঁচা ইট মাথায় বহন করিয়ে চুল্লিতে নেওয়া হয়। বিস্ময় হওয়ার মতই তথ্য যে, ১ হাজার ইট টানলে দেওয়া হয় মাত্র ১০০ টাকা। অধিকাংশ শিশুই প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৬০০ ইট টানতে পারে।
বর্তমান সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ভয়াবহ সমস্যা হলো শিশুশ্রম। যার প্রতিরোধ সরকারের অন্যতম এজেন্ডা। উল্ল্যেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয় শিশু শ্রম আইন অনুযায়ী ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাজ করানো হলে তা শিশু শ্রমের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে এবং দন্ডনীয় অপরাধ বলে পরিগনিত হয়। অথচ শিশুশ্রম আইনে বিষয়টি জানা থেকেও জামালপুরের সাতটি উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটার মালিকেরা এই শিশুশ্রম কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সচেতন মহল চাই প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এর দ্রুত সমাধান।























