জামালপুরে ৬হাজার ৪০৭ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে

প্রতিদিনেরচিত্র ডেস্ক

৩০ জুন ২০২০, ০৫:৪১ পিএম


জামালপুরে ৬হাজার ৪০৭ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে

ছবি- প্রতিদিনের চিত্র

 

জামালপুরে ২৪ ঘন্টায় যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বিপদসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুর জেলার ৫টি উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার ৪০৭ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।

জানা গেছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও ভারী বর্ষণে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চাষ করা আউস ধান, পাট, রোপা আমন ধানের বীজ তলা, মরিচ, ভূট্টাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও জেলায় পানিবন্দি হয়েছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ।

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে জেলার পাঁচটি উপজেলার ৬ হাজার ৪’শ ৭ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। নিমজ্জিত ফসলের মধ্যে পাট ৫৫৯৩ হেক্টর, আউস ধান ১৭৭ দশমিক ৫ হেক্টর, সবজি ৪৭৮ দশমিক ৫ হেক্টর, রোপা আমন ধানের বীজ তলা ১২৩ হেক্টর,মরিচ ১১ হেক্টর, তিল ১৪ হেক্টর, বাদাম ২ হেক্টর, ভুট্টা ৫ হেক্টর এবং কলা ৩ হেক্টর ।

ইসলামপুর উপজেলার কাশারীডোবা গ্রামের কৃষক আজিজুর রহমান চৌধুরী জানান, “এবছরের আগাম বন্যায় আমার বাইশ বিঘা জমির পাটক্ষেত, একবিঘা জমির ধানক্ষেত, একবিঘা জমির বেগুন ক্ষেত  আরও একবিঘা জমির সবজি ক্ষেতে ইতিমধ্যেই কোমর পর্যন্ত বন্যার পানি উঠেছে”।

একই এলাকার ময়উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেড় বিঘা জমির পটল ক্ষেত সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে গেছে। কি যে করি হসিদ পাচ্ছি না”।

সাপধরীর এলাকার কৃষক শহিজল মিয়া জানান, “কৃষি কাজই আমার একমাত্র পেশা। ঋণ নিয়ে চার বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। বন্যার পানিতে সেই মরিচ ক্ষেত এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আমি এখন ব্যাপক টেনশনের মধ্যে আছি”।

ইসলামপুরের সাপধরী ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান, “যমুনার পেটে জেগে উঠা সাপধরী ইউনিয়নের নতুন চরাঞ্চল সমূহে আষাঢ় মাসেই অতিরিক্ত বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে  সাপধরীর প্রজাপতি, চরশিশুয়া, চরনন্দনের পাড়া, আমতলি,  কাশারীডোবা, আকন্দ পাড়া, কোদাল ধোয়া, মন্ডল পাড়া,  বিশরশি ও চেঙ্গানিয়া চরাঞ্চল সমূহের অসংখ্য নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বহু কৃষকের পাট ও আউশ ধান, মরিচ, পটল ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে”।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম জেলার ৬ হাজার ৪’শ ৭ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করে জানান, “কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে এখনো বলা যাবে না। পানি নেমে গেলে বলা যাবে। তবে দুই একদিনের মধ্যে পানি নেমে গেলে ক্ষতির সম্ভবনা কম হবে”।

Ads