ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় কত শতাংশ শিক্ষার্থী?
০৫ জুলাই ২০২০, ০৭:৩০ পিএম
ছবি- প্রতিদিনের চিত্র
করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরেছে ৫০% শিক্ষার্থী।আর প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা গ্রামে সে রকম ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই বলেই, তাই তাদের শহরে যাওয়া।আর গ্রামের পরিবার গুলো (মধ্যবিত্ত-নিম্ম মধ্যবিত্ত-নিম্মবিত্ত) পরিবার।এই মহামারীর জন্য এ সকল পরিবারের জিবন ধারণ এখন অক্ষম হয়ে পরেছে।
এই সময় অনলাইন ক্লাস কতটুকু যুক্তিক?
শহরাঞ্চলে অনেক স্কুলই শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করেছে অনলাইন ক্লাসরুম। আর প্রান্তিক গ্রাম গুলোতে নেই একটু ভালো নেটওয়ার্ক ।গ্রাম গুলোতে নেটওয়ার্কের স্পিড (০.০কেবি/এস) থাকে কেমনে করবে অনলাইন ক্লাস।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কখনো ফেসবুক লাইভ কিংবা জুম ব্যবহার করে শিক্ষকরা তাদের ক্লাস নিচ্ছেন।কিন্তু গ্রামের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেনা সে রকম কোন ব্যবস্থা কারণ তাদের একটাই সমস্যা নেটওয়ার্ক আবার অনেকের পরিবারেট এত অর্থ নেই ইন্টারনেট কেনার ,কারো মোবাইল ফোনও নেই । কারণ গ্রামের পরিবার গুলো জিবনে যুদ্ধ করে টাকা উপার্জন করে,এখন মহামারীর জন্য সকল কিছু বন্ধ।আর পরিবারের পক্ষে পরিবারের খরচ চালাতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে। আর শহরের শিক্ষার্থীদের কুফল ইন্টারনেটে, মোবাইল ফোন,টিভিতে আসক্ত হয়ে পরছে।
করোনাভাইরাসের কারণে সরকার গত মার্চে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর এপ্রিল পর্যন্ত ঈদসহ নানা ছুটির কারণে মে মাস থেকেই অনলাইনে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর কাজ শুরু করে অনেক স্কুল সহ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়।
এখন প্রায় বেশ কয়েকটি অঞ্চলে এ ধরণের অনলাইন শিক্ষাদান কর্মসূচি চালু করেছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
তবে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের চেয়ে বেসরকারি স্কুলগুলো বিশেষ করে ইংরেজি মিডিয়াম বা উভয় মাধ্যমের পরিচিত স্কুলগুলো ফেসবুক বা জুম ব্যবহার করে অনলাইন পাঠদান শুরু করে গত মাসের শুরু থেকেই।
তবে শহরাঞ্চলে ঠিক কত স্কুল অনলাইনে পাঠদান শুরু করেছে আর কতগুলোতে চালু করা যায়নি তার কোনো হিসেব নেই।
আবার সরকারি স্কুলগুলোতে অনলাইনের চেয়ে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে সংসদ টিভির মাধ্যমে স্কুলের সিলেবাস অনুযায়ী পাঠদান প্রক্রিয়াকে।প্রান্তিক পরিবারের বেশির ভাগ এর টিভি নেই বাসায়।
স্কুল কবে খুলবে তার কোনো নিশ্চয়তা না থাকায় ঢাকার অনেকগুলো স্কুলে অনলাইনে শিক্ষাদান করা হচ্ছে সরাসরি। কিন্তু ঢাকার বাইরে যেখানে ইন্টারনেট আছে সেখানে রেকর্ডেড ক্লাসগুলো পাচ্ছে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা।
এর বাইরে মূলত সংসদ টিভিতে তৃতীয় শ্রেণী থেকে একাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠদান করা হয়।অনেক স্কুল আবার নিজেদের ফেসবুক বা ইউটিউব চ্যানেলে প্রতিদিনকার ক্লাসগুলো পরে আপলোড করে দিচ্ছে।
সরকারি হিসেবে দেশে প্রাথমিক স্কুল আছ ৬৪ হাজার আর অন্যদিকে সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে মাধ্যমিক স্কুল আছে আরও সতের হাজারের মতো। আর কলেজ বা মহাবিদ্যালয় আছে প্রায় আড়াই হাজার।আর সব মিলিয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি।যদিও এর মধ্যে অল্প একটি অংশই এই করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইনে শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে আর টিভি দেখার সুযোগ আছে সব মিলিয়ে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীর।অর্থাৎ এখনো বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমের আওতার বাইরেই রয়ে গেছে।করাণ,ইচ্ছে আছে সার্মথ্য নেই।
"এটি ঠিক যে অনেকেই ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। তবে এখানে সামর্থ্যের বিষয় জড়িত। তাই আমরা অনেকগুলো বিকল্প নিয়ে কাজ করছি"।আর ক্লাস নেওয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে।
সরকারের সকল শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস ১০০% নিশ্চিত করা,কবে নাগাদ এই ভাইরাস থেকে পরিত্রাণ পাবে বিশ্ব এই বিষয়ে কারো ধারণা নেই।এই ভাইরাস এর ভেকসিন বের না হওয়া পর্যন্ত কোন সমাধান নেই। অনলাইন ক্লাস সকল শিক্ষার্থীদের জন ১০০% নিশ্চিত করতে না করতে পারলে প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে তা কখনো পূরণ হবে না।তাই যে ভাবে এর সঠিক সমাধান হয় সেই উদ্যেগ গ্রহণ করা উচিত।
তবে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে আরও সুদৃঢ় ও আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার জন্য মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেকোন জরুরি সময়ে যেকোন সমস্যা সবার সহযোগিতা নিয়ে কিভাবে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব এবং মানসিক শক্তি আরও সুদৃঢ় করার উপায়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও মানসিকভাবে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার ক্ষমতা রাখতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অনলাইন যোগাযোগের মাধ্যমেও একে অপরের পাশে এসে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার উপায়গুলোও আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে নতুন করে। শিক্ষকরা একে অন্যের পাশে এসে দাঁড়ানোর সুযোগগুলো আরও বাড়াতে হবে।
উল্লেখ্য, তবে শিক্ষা ক্ষেত্রে যাতে এই ক্ষতি পুষিয়ে দেয় এবং সরকারি চাকরির বয়সসীমা এক বছর বৃদ্ধি করার দাবি রয়েছে দেশের শিক্ষার্থীদের সরকারের কাছে আবেদন রয়েছে।
লেখক: শিক্ষার্থী: ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ;
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।























